- Angkaan - https://angkaan.com -

এস আই শিমুল’এর সাক্ষাৎকার

এস আই শিমুল। পুরোনাম শাহিদুল ইসলাম শিমুল। তরুণ কবি। জন্ম সুনামগঞ্জ জেলায়। তরুণ এ কবির মাত্র ১৫ বছর বয়সে প্রকাশ হয় তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ। সে তার সাহিত্য জগতে পথচলার গল্প নিয়ে অঙ্কন’র মুখোমুখি হয়েছে।



 

অঙ্কনঃ কেমন আছো,শিমুল? গতকাল তোমার জন্মদিন ছিল। কেমন কেটেছে?

শিমুলঃ হ্যাঁ,খুব ভালো আছি আপনাদের দোয়ায়।গতকাল আমার ১৭ তম জন্মদিন ছিল। দিনটা আমার ১৭ বছরের জীবনে এক অন্যতম শ্রেষ্ঠ দিন বললে ভুল হবে না। কারণ এই প্রথম আমার আনুষ্ঠানিক জন্মদিন উদযাপন করা হয়। যা প্রিয় বন্ধু এবং শুভাকাঙ্খীদের কারণে সম্ভব হয়েছে। সারাদিন প্রিয় বন্ধুদের সাথে মজা করে, কেক কেটে এবং দূরে অবস্থানরত প্রিয় মানুষগুলোর জন্মদিনের উইশ করা এসএমএস পড়ে কাটিয়েছি। সারাদিন খুব আনন্দেই কেটেছে।


অঙ্কনঃ তোমার সাহিত্য জগতে পথচলার শুরুটা জানতে চাই।

শিমুলঃ আমার সাহিত্য জগতে পথচলার শুরুটা মূলত সেই ছোটবেলা থেকে। আমি যখন ৩য় শ্রেণিতে পড়ি,তখন স্থানীয় মাসিক আমাদের আঙিনা পত্রিকায় আমার প্রথম ছড়া প্রকাশিত হয়। এরপর থেকে লিখতাম। তবে শব্দ স্বল্পতা ও স্বাভাবিক জ্ঞান না থাকার কারণে সেসব আর লেখা হয়ে ওঠেনি ও প্রকাশ করতে পারিনি। তবে পাঠ্যবইয়ে থাকা ছড়া- কবিতাগুলো খুব আগ্রহ নিয়ে পড়তাম এবং ভালো লাগতো।মাঝে মধ্যেই পাঠ্য বইয়ের কবিতাগুলো অনুকরণ করে কবিতা লেখার চেষ্টা করতাম। তবে যখন আমি ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে নারায়নতলা মিশন উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হই,তখন বিদ্যালয়ে জ্ঞানাঙ্কুর নামক একটি বার্ষিক ম্যাগাজিন প্রকাশিত হতো এবং সেখানে আমার লেখাগুলো প্রকাশ পেতে থাকে। এরপর থেকে বেশ কিছু ম্যাগাজিন,পত্রিকা ও সাহিত্য সাময়িকীতে আমার লেখা প্রকাশিত হতে থাকে। লিখে গেছি এবং এমনও হয়েছে আমার নিজের লেখাগুলো বহুজনের নামে একই ম্যাগাজিনে প্রায় ২০ টি লেখা প্রকাশিত হয়েছে। তারপর যখন ২০১৮ সালে জাতীয় বিজয় ফুল ও অন্যান্য এ সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার শ্রেষ্ঠ লেখক হিসেবে পুরষ্কার অর্জন করি,তখনই লেখালেখির প্রতি আগ্রহটা বেড়ে যায় এবং এখন অবধি চলছে।


অঙ্কনঃ লেখালেখিতে অনুপ্রেরণা জোগান কে বা কারা? কার অবদান বেশি বলে মনে করো?

শিমুলঃ লেখালেখির শুরুতে আমার এক বোনের কাছ থেকে আমি সর্বোচ্চ অনুপ্রেরণা পেয়েছি এবং আমার খালাম্মা আমাকে সব সময় লেখার জন্য উৎসাহ দিয়েছেন। তবে আমার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা আমাকে উৎসাহ না দিলেও কখনো নিরুৎসাহিত করেনি,তাদের অভিমত, যা- ই করি না কেন পড়াশোনাটা যেন ঠিক থাকে । আমার প্রথম বই প্রকাশের ক্ষেত্রে আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু দিদার এবং স্কুলের এক সিনিয়র বড় ভাই কবি আতহার বাবরুলের অবদান অনস্বীকার্য। তাছাড়া বর্তমানে আমার বন্ধু, শিক্ষক, আত্মীয় স্বজন সহ প্রায় সকলের কাছ থেকেই অনুপ্রেরণা পেয়ে থাকি।


অঙ্কনঃ তোমার প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রারম্ভিকা পাঠক সমাজে কেমন সাড়া জাগিয়েছে?

শিমুলঃ আপনি হয়তো জানেন,আমার প্রথম কাব্য গ্রন্থ ‘প্রারম্ভিকা’, অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯ এ যখন আমার বয়স ১৫ বছর তখন প্রকাশিত হয়। এত অল্প বয়সে কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ হবার ঘটনা বাংলা সাহিত্যে বিরল।সে হিসেবে তরুণদের কাছে আমার কাব্যগ্রন্থটি যথেষ্ট গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। তাছাড়া অনবদ্য ও সাবলীল ভাষায় কবিতা লেখার কারণে বইটি সকল বয়সি পাঠকের কাছে গ্রহণ যোগ্যতা পেয়েছে।


অঙ্কনঃ ঈদের পরপরই প্রকাশ হবে তোমার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘ধূলি ধূসর পায়ে’। বইটির বিষয়বস্তু কী?

শিমুলঃ হ্যাঁ। ঈদের পরপরই আমার দ্বিতীয় একক কাব্যগ্রন্থ ‘ধূলি ধূসর পায়ে’ প্রকাশ হবে । এর আগে যদিও আমার বেশ কিছু যৌথ কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ হয়েছে। এই বইটিতে যদিও বিভিন্ন বিষয়ের উপর আলোকপাত করা হয়েছে, তবু এর বেশির ভাগ কবিতার মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে পল্লি গ্রামের অপার সৌন্দর্য এবং মাটি ও মানুষের জীবন কথা।আশা করি বইটি পাঠক হৃদয়ে সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্যতা পাবে।


অঙ্কনঃ কী ভাবছ,শুধু কবিতাই লিখবে নাকি সাহিত্যের অন্যান্য শাখাগুলোতে হাত বাড়াবে?

শিমুলঃ এখন আপাতত কবিতা লিখাতেই সাচ্ছন্দ্য বোধ করছি।তাছাড়া পড়াশোনার কারণে যথেষ্ট ব্যস্ত থাকায় সময় করে উঠতে পারছি না। তবে ভবিষ্যতে বাংলা সাহিত্যের অন্যান্য শাখাগুলোর দিকেও হাত বাড়ানোর ইচ্ছে রয়েছে।


অঙ্কনঃ প্রিয় কবি কে?
কাদের লেখা তোমায় অনুপ্রাণিত কর?

শিমুলঃ বাংলা সাহিত্যের অনেক বিখ্যাত কবির মধ্যে আমার প্রিয় কবি হচ্ছেন সুকান্ত ভট্টাচার্য। যার কবিতা আমার হৃদয় কে নাড়া দেয়,উপলব্ধির অন্তর্দৃষ্টি খুলে দেয়। তবে বাংলা সাহিত্যের অন্যান্য কবি যেমন :রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম,জীবনানন্দ দাশ,মোহাম্মদ রফিক, শহীদ কাদরী,রুদ্র মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ, এবং জীবন্ত কিংবদন্তি হেলাল হাফিজ এবং কবি নির্মলেন্দু গুণের কবিতা গুলো আমায় ব্যাপক ভাবে অনুপ্রাণিত করে।


অঙ্কনঃ অঙ্কন পরিবারের পক্ষ থেকে তোমার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা।

শিমুলঃ ধন্যবাদ অঙ্কন পরিবার কে।প্রত্যাশা করি অঙ্কনের মাধ্যমে বাংলাদেশে অনেক প্রতিভাবান লেখক, কবি এবং সংস্কৃতিমনা প্রতিভাবান ব্যক্তিত্ব বেরিয়ে আসবে,প্রসারিত হবে বাংলা সাহিত্যে।