Logo
নোটিশ ::
আপনার যেকোনো সৃজনশীল লেখা পাঠিয়ে দিন আমাদের ঠিকানায়।আমাদের ইমেইল: hello.atharb@gmail.com

এম.জে মামুন’এর একগুচ্ছ কবিতা

অঙ্কন ডেস্ক / ১১১ বার
আপডেট সময় : রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২০

ইচ্ছে জাগে

আমার শুধু ইচ্ছে জাগে
মেঘের দেশে থাকতে,
মেঘ গুড়গুড় শব্দ শুনে
জল ছবি আঁকতে।

ইচ্ছে জাগে ফুল কাননে
গোলাপ হয়ে ফুটতে,
অলির সাথে মধুর বেশে
মনের কথা বলতে।

ইচ্ছে জাগে ঝিলের জলে
পদ্ম হয়ে ভাসতে,
টিনের চালায় পেখম মেলে
কপোত হয়ে নাচতে।

ইচ্ছে জাগে ঘুড়ির বেশে
আকাশ ছুঁয়ে উড়তে,
হাওয়ার সাথে সন্ধি করে
মেঘের রাজ্যে ছুটতে।

ইচ্ছে জাগে স্বপ্ন হয়ে
সবার ক্রোড়ে থাকতে,
গ্রীষ্ম বর্ষার রূপ বদলে
সসোর মায়া মাখতে।

ইচ্ছে জাগে পাখি হয়ে
পাখা মেলে চলি,
ঝোপে ঝাড়ে লুকিয়ে থেকে
কুঁড়ির কথা বলি।

ইচ্ছে জাগে সমুদ্র রূপে
উর্মি সৃষ্টি করি,
তীরে এসে মনের সুখে
আছড়ে আছড়ে পড়ি।

ইচ্ছে জাগে মৎস্য হয়ে
অগাধ জলে থাকি,
মুক্তোর সাথে কইলে কথা
রাত পোহাবে নাকি?

ইচ্ছে জাগে শক্তি হতে
ধ্বংস করবো মেলা,
চিল শকুন বাজপাখি সব
সাঙ্গ তোদের খেলা।



ওরে ও বেক্কল

ওরে বাবা সাহেদ গোপা
এ তুই কি করলি?
অহর্নিশ হাতটান করে পরে
ভুঁড়ি বার করলি

দূর্নীতি আর লুটতরাজে
ছিলিরে মশগুল,
অসদুপায়ে কোটি টাকার
তাত্তাড়ি দে মাশুল

লাখেতে ধনী হওয়া যায়
সুখের রাজা নয়,
শ্রমের ঘামে এক টাকাতে
দুঃখের নুড়ি ক্ষয়।

লোভের বশে সব চাই চাই
জীবন নিয়ে খেলা!
বায়ুর বাঁশি বাজে কতকাল?
কসুর করলি মেলা।

ব্যাংক ব্যালেন্স তোর ফাঁকা নয়
ডলারে তে ভর্তি,
নারী মদ জুয়া আফিম নিয়ে
সদা ফুর্তি কর্তি।

দিন শেষে কি হলো রে
বুঝলি তো সক্কল,
মানহানি,গঙ্গায় ডুবলি
ওরে ও বেক্কল।



তোমাকে দেখার পর

তোমাকে দেখার পর কি রকম পাল্টে গেছি আমি,
উদাস উদাস ভাঙাচোরা হয়ে পড়ে আছি ঘরের এক কোণে।

যে প্রেম মাঝ পথে হাঁটু গেড়ে বসে গিয়েছিলো,
সে প্রেম আজ উঠে দাঁড়িয়েছে
দ্বিগুণ উৎসাহে।

তোমার সান্নিধ্য হয়ে ওঠে কবিতার আসর,
তোমার কাজল মাখা প্রতিটি চাহনিতে মাদকতা,ফোটে ভাসাপদ্ম।

তোমাকে দেখার পর মরুতে সৃষ্টি হয়েছে
শতধারা ঝর্ণা,
পাশ ঘেঁষে সৃষ্টি হতে থাকে হরিৎ পুষ্পোদ্যান।

তুমি যখন আড়াল হও,
পৃথিবী ঢেকে যায় মর্ত্যের অমানিশাতে,
মধুময় মধ্যাহ্ন ভেসে যায় গাঢ় ঝিম ধরা আধারে,
চারদিক ঘ্রাণে মাতাল পুষ্পোদ্যান মূহুর্তেই
মরূতে আছড়ে পড়ে।

তোমাকে দেখার পর,
শিল্পী এঁকেছে সেই বিখ্যাত মোনালিসা,
নদী হামাগুড়ি দিতে দিতে খুঁজে পেয়েছে
গন্তব্য,

তোমাকে দেখার পর পাল্টে যেতে দেখেছি নদীর গতিপথ,
যে জলন্ত আগ্নেয়গিরি লাভা উদগ্রীব করার কথা ছিল সে তা করে নি,

তোমাকে দেখার পর,
টাপিক সিগনাল ভুলে জ্যাম পাকিয়ে দিয়েছি রাস্তায় রাস্তায়
নৌকার মাস্তুল ফেলে ভেসে রয়েছি নির্জন সমুদ্রের মাঝে।

তোমাকে দেখার পর;
তিক্তা পেয়েছে অমৃতের সূরাহা।
জীর্ণ মাটির দেউল সেজেছে পুষ্পমাল্যে,
শতাব্দীর অমীমাংসিত কোন্দলের গা বেয়ে নেমেছে মীমাংসার ফোয়ারা।
গ্রীষ্মের প্রখর দাবদাহে উড়নচণ্ডী বাউলের একতারায় বেজেছে শীতল ছায়া।

তোমার স্পর্শে শব্দকে দেখেছি রাবণের বিরুদ্ধে তলোয়ারের ঝংকার তুলতে,
কবিতার পদভারে বিশ্বময় বিদ্রোহীর কম্পন সৃষ্টি করতে,
খুচরো শব্দে নির্মিত কবিতা তোমার স্পর্শে রাইফেলের মত বেজেছে,
ব্যর্থ প্রেমিক খুঁজে পেয়েছিল আলোর লহর,

কখনো দেখেছি কবিতার জন্য তোমাকে ভেঙে যেতে,ছেঁড়া ফাঁটা হয়ে যেতে
মুছে যেতে দেখছি রাঙা সিঁদুর,
ভেঙে গেছে হাতের রঙবেরঙের কাঁকন।
দেখেছি অরুন্ধতী হয়ে বিস্তীর্ণ ইউরেশিয়ান অঞ্চলে আগমন করতে অগ্নি বিণা নিয়ে।

তোমার প্রতিটি কথাই সৃষ্টি করে কাব্যের নদী,
তোমার হাসিতে ঝরে বসন্ত,
থোকা থোকা কৃষ্ণচূড়া।
তাই তোমার আঁচলে বেঁধে নিয়েছি
আমার এলোমেলো জীবনের উপাখ্যান।



জবাব চাই

ধর্মের দোহাই দিয়ে এভাবে আর কত মানুষ মারা হবে?
জবাব চাই,
বর্ণবাদের দোহাই দিয়ে আর কত হিংসা প্রতিহিংসা চলবে?
জবাব চাই
সেজদা রত আর কত মুসলিমকে হত্যা করলে তোমাদের জ্বালা মিটবে?
জবাব চাই,
আর কত মায়ের বুক খালি হলে নারকীয় হত্যা থামবে?
জবাব চাই,
আর কত স্ত্রী পঙ্গু স্বামীকে বাঁচতে গিয়ে হত্যা হবে?
জবাব চাই,
আর কত সন্তান তাদের পিতা হারালে বিশ্ব সংস্থার মুখ খুলবে?
জবাব চাই,
স্ব অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আর কত নিরপরাধের রক্ত ঝরবে?
জবাব চাই,
যে অন্যায় করে তার ধর্ম, জাত, বর্ণ নেই,তার একটাই পরিচয় সে অপরাধী-তার কেন বিচার নেই?
জবাব চাই,
এ তথ্য প্রযুক্তির সময়ে এসে একজন অপরাধী কিভাবে লুকিয়ে রয়?
জবাব চাই,
একজন অপরাধী কিভাবে প্রকাশ্যে হত্যাকাণ্ড পরিচালনার সাহস পায়?
জবাব চাই,
ধর্মের গোড়া থেকে বের হয়ে কেন সবাইকে মানুষ ভাবা হয় না?
জবাব চাই,
বিশ্ববাসী কেন আজ মুখ গুঁজিয়ে নিশ্চুপবেশে শোকের গীত গায়?
জবাব চাই,
হে বিশ্ব আজকেও তোমরা শুধু শোক প্রকাশ করবে?সমবেদনা জানাবে?
থুতু থুতু দিই তোমাদের সমবেদনার সভায়।
বলবে এই কাজটি খারাপ হয়েছে?
ভীষন রকমের বাজে একটি কাজ, এমন করা উচিত হয়নি?
এগুলো আর কত বলতে থাকবে,আর কত মানুষ লাশ হলে এই কথা গুলো বলা বন্ধ হবে?
জবাব চাই,
তোমাদের ওই পাপিষ্ঠ মুখ কত লাশের সেলাইয়ে বন্ধ হবে?
জবাব চাই,
শান্তি সংঘ,জাতি সংঘ কেন তোমাদের আজকে কিছু করার নেই?ওরা মুসলিম বলে?ওরা তাওহীদে বিশ্বাসী বলে?
জবাব চাই,
আর কত ধরনের সংস্থা চালু হলে নির্মমভাবে হত্যা বন্ধ হবে?
জবাব চাই,
কত মুসলমান খুন হলে,আর কোনো মুসলিমকে হত্যা করা হবে না?
জবাব চাই,
যদি বল,একজন মুসলিমকে হত্যা করলে আর কোনো মুসলমানকে হত্যা করা হবে না।
তবে আসো,আমি তোমাদের রাইফেলের সকল বুলেট বক্ষে নিব-বুক ঝাঁঝরা করে দাও।
যদি আমাকে হত্যার মধ্য দিয়েই মুসলিম হত্যা বন্ধ হয়, তবে আমি শার্টের বোতাম খুলে দিয়েছি।
এতটুকু পালাতে চেষ্টা করবো না’কসম!
তবুও তোমরা আমার মুসলিম ভাইকে মেরো না,
আমার বোনকে মেরো না।
তোমরা আমার বাবাকে মেরো না,
তোমরা আমার বন্ধুকে মেরো না,
তোমরা আমার প্রিয়তমাকে মেরো না।

হয়তো বুলেট বুকে বিঁধলে আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে যেতে পারি, এতে তোমাদের গুলি চালাতে কষ্ট হতে পারে,মজা নাও পেতে পারো
তোমরা আমাকে গাছের সাথে দাঁড় করে বেঁধে তৃপ্তিভরে গুলি করতে পারো।
তোমারা চাইলে আমি বুলেট বুকে নিয়ে হা হা হা দানবের মত হাসতে থাকবো,এতটুকু বেদনায় কাতর হব না।
তবুও আমার আর একটি মুসলিমকে মেরো না।আমার মুসল্লী ভাইদের মেরো না,আমার পর্দানশীন বোন রাবেয়া কে মেরো না।

শান্তি চাই-উৎশৃঙ্খলতা নয়
ফুলের সৌরভ চাই-বারুদের গন্ধ নয়।



 


এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com