Logo
নোটিশ ::
আপনার যেকোনো সৃজনশীল লেখা পাঠিয়ে দিন আমাদের ঠিকানায়।আমাদের ইমেইল: hello.atharb@gmail.com

উপন্যাসঃ ডিপ্রেশন ও একটি মৃত্যু —৮ম পর্ব || ফাতেমা আকন পিউ

অঙ্কন ডেস্ক / ৩০৯ বার
আপডেট সময় : শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২০

আমিও এমন একজনকে চাই যে আমাকে ভালোবাসবে। আমার কষ্ট বুঝবে আমাকে আগলে রাখবে। এমন কাউকে পেলে আমি মনে করবো আমার জন্ম সার্থক। তুমি আমার হবে? ”

” হ্যাঁ আমি তোমার হতে চাই। ”

” আমার জন্মদিনে এর থেকে বড় উপহার আর কিছু হতে পারে না। আমার ভালোবাসা শুধু তোমার জন্যই। ”

কালো মেঘ ছিঁড়ে উঁকি দেয় সূর্য রাফসানের আকাশে। আলোকিত করে তুলে তার পৃথিবী। দূরে থেকেও তাকে ভালোবাসায় ভরিয়ে দেয় জুলিয়া। রাফসান তার সবটা দিয়ে হাসি খুশি রাখতে চায় জুলিয়াকে। তার ভালোবাসা। এই প্রথম সে এতটা নির্ভর হয়ে পড়ে জুলিয়ার উপর। জুলিয়া তার স্বপ্ন, জুলিয়া তার পৃথিবী। তার ভেতরে গড়ে উঠা প্রতিটি আশা নাম জুলিয়া। যে প্রতিভা একসময় তার কাছে বিষ মনে হতো, যে তুলিকে এক সময় তার ছুড়ি মরে হতো। আজ সেই তুলি, সেই প্রতিভা বেরিয়ে আসতে চাইছে। তার কল্পনার রাণী আর রঙ তুলিতে আসতে চাইছে। তবে কি সেই কথা সত্য! একজন পুরুষের সাফল্যের পেছনে নারীর হাত থাকে! তবে কি ফিরতে শুরু করেছে রাফসানের সৌভাগ্য? জুলিয়াই কি তার রাজ মুকুট?

একটা বছর পার হয়ে গেল। রাফসান আজও দেখেনি তার সেই রাণীকে। দেখেছে স্বপ্নে। এঁকেছে সেই স্বপ্নে দেখা পরিকে। তার কল্পনায় গড়া রাণী। কিন্তু না দেখে আর কত দিন? দেখা তো করতেই হবে। যে এত সুন্দর কথা বলে সে দেখতে কতটা সুন্দর তা সৃষ্টিকর্তা ছাড়া কে জানে। রাফসানও চায় জুলিয়াকে দেখতে। কিন্তু প্রতিবার জুলিয়া কথা কাটিয়ে নেয়। কিন্তু আজ রাফসান অভিমান করে।

” কি হলো? দুদিন কোনো ফোন নেই যে? ”

” কেন? আমি ফোন করবো কেন? ”

” কিসের এত অভিমান রাফসান সাহেবের? ”

” তুমি দেখা করতে চাও না। তুমি কি সারাজীবন ফোনেই থাকবে? সংসারও কি ফোনেই করবে? ”

” হাহাহা ”

” হাসছো কেন? ”

” এই জন্য এত রাগ? ঠিক আছে। দেখা করবো। চলে এসো ঢাকা। ”

” তুমি ঢাকার কোথায় আছো? ”

” তুমি ঢাকায় এসে জানিও। আমি ঠিকানা দেবো। আমার বাসা থেকে দূরে কোনো এক এলাকায় দেখা করবো। বাসার কেউ যদি দেখে তাহলে আমাকে মেরে ফেলবে। ”

” আমি আগামীকাল ঢাকায় পৌঁছাচ্ছি। ”

সেই রাতে রাফসানের খুশিতে ঘুমই হয় না। তার কল্পনার রাণীকে সে দেখতে চলেছে। কত বড় পাওয়া তার জন্য। অবশেষে তার স্বপ্ন পূরণ হতে চললো। দেখা হবে সেই রাণীর সাথে। প্রথম দেখা তার প্রথম ভালোবাসার।
আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস।
সাদা পাঞ্জাবি পড়ে পার্কের এক বেঞ্চে বসে ঘড়ি দেখছে রাফসান। হাতে একটা ছোট প্যাকেট। কালো সানগ্লাস পাঞ্জাবির বুকে লাগিয়ে রেখেছে। এখন এগারোটা হতে চললো। কিন্তু জুলিয়ার আসার কথা সাড়ে দশটায়। এখন পর্যন্ত জুলিয়াকে সে খুঁজে পেলো না। হয়তো জুলিয়াও তাকে খুঁজে চলেছে। লাল শাড়িতে তো অনেক মেয়েই আসছে। কিন্তু জুলিয়া কোনটা?

দূরে একটা মেয়েকে দেখে রাফসানের চোখ আটকে যায়। লম্বা ঘন কালো চুল গুলো হালকা বাতাসে মেয়েটির কোমরে আঁচড়ে পড়ছে। লাল শাড়িতে দেখতে বেশ মায়াবী লাগছে। কাজল টানা চোখ গুলো এদিক সেদিক কাউকে খুঁজে চলেছে। চিন্তার রেখায় কুঁচকে যাচ্ছে বার বার তার কপালের টিপ। লাল পাপড়ির মতো ঠোঁট কামড়ে বুঝিয়ে দিচ্ছে সে বেশ চিন্তিত। রাফসান সেই মেয়ের দিকে চোখ ফেরাতে পারে না। এই মেয়ে তার কল্পনায় আঁকা পরির থেকেও রূপবতী। কিন্তু মেয়েটি খুঁজছে কাকে? এই কি জুলিয়া?

নিজের ফোন পকেট থেকে বের করে জুলিয়াকে ফোন করে রাফসান। জুলিয়ার ফোনে রিং হতেই ফোন ধরে সেই রূপবতী। রাফসান নিশ্চিত হয়ে যায় এই তার স্বপ্নের রাণী। ফোন রিসিভ করতেই রাফসান বলে,

” তোমার ওই কাজল কালো চোখ কি আমায় খুঁজছে? তোমার ওই টিপের কুঁচকে যাওয়ার কারণ কি আমি? ওই লাল পাপড়ির মতো ঠোঁট কার চিন্তায় কামড়ে রক্তাক্ত করছো মায়াবতী? তোমার খোলা চুলের মন মাতানো সুগন্ধি আমাকে চম্বুকের মতো টেনে নিয়ে যাচ্ছে তোমার কাছে। ”

রাফসানের কথা শুনে এদিক সেদিক আরও তাকাতে শুরু করে জুলিয়া৷ তা দেখে রাফসান হেসে বলে,

” এতো কি খুঁজছো? ভালোবাসো তো? ”

” হ্যাঁ ভালোবাসি। ”

” কতটা? ”

” সীমাহীন। ”

” আমি যদি তোমার ভালোবাসার সীমানা হয়ে যাই? যা পার করে কেউ আসতে পারবে না তোমার রাজ্যে। ”

” সেই অপেক্ষাতেই তো আছি। ভালোবাসা দিয়ে জয় করে নিজের রাজ্য দখল করে নাও। ”

” এখনও কি জয়ী হতে পারিনি? ”

” হয়েছো কিন্তু বিজয়ের হাসি নিয়ে সামনে আসো নি। ”

” সামনে এলে যদি আমার রাজ্য পালিয়ে যায়? ”

” রাজ্য পালায় না। তা শত্রু দখল করে নেয়। ”

” উঁহু এই রাজ্য আর রাজকন্যা শুধু আমার। কেউ দখল করবে না। তোমার ডান পাশের রাস্তার দিকে তাকাও। ”

ফোন কানে ধরেই জুলিয়া ডান পাশের রাস্তায় তাকায়। এবার রাফসান বলে,

রাস্তার ডান পাশে একটা ছোট দোকান দেখতে পাচ্ছো? ফুলের? ”

” হ্যাঁ, দেখতে পাচ্ছি। ”

” দোকানে যাও। সেখানে গিয়ে বলো ভালোবাসার রঙে রঙ্গিন হতে চাই । ”

” কি? ”

” যাও আগে। ”

ফোন দিয়ে সেই দোকানে ভয়ে ভয়ে যায় জুলিয়া। ছোট এক ছেলে সেই দোকানের কর্মচারী। জুলিয়া তাকে বলে ” ভালোবাসার রঙে রঙ্গিন হতে চাই “। ছেলেটি একটা প্রাণ ভরা হাসি দিয়ে দোকানের পাশে রাখা ফিতেটা টেনে দেয়। সঙ্গে সঙ্গে উপর থেকে ফুলের বৃষ্টি হতে শুরু করে জুলিয়ার উপর। এসব দেখে জুলিয়া অবাক। পেছন ফিরে দেখে রাফসান হাঁটু গেড়ে বসে আছে। জুলিয়া তার দিকে ফিরতেই বলে,” ভালোবাসার রঙে সারাজীবন রাঙ্গিয়ে রাখবো তোমাকে। আমার মনের রাজ্যের রাণী করে রাখবো। সারাজীবনের জন্য ধরবে আমার এই হাত? ”

জুলিয়ার চোখ বেয়ে ঝরছে আনন্দের অশ্রু। সে কল্পনাও করতে পারেনি আজ এতকিছু পাবে। রাফসান তার ক্ষমতা অনুযায়ী চেষ্টা করেছে তাদের প্রথম দেখা স্বরণীয় করে তুলতে। আর রাফসান সফলও হয়েছে। এই দিনটির কথা জুলিয়া আর রাফসান কখনওই ভুলতে পারবে না। রাফসান এক সাথে দুজনকে খুশি করেছে। এই ছোট দোকানদার ছেলেটা কারো কাছেই ফুল বিক্রি করতে পারতো না। তাই আজ তার সব ফুল রাফসান কিনে নেয়। দুজন মিলেই এই আয়োজন করে জুলিয়াকে চমকে দেওয়ার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com