Logo
নোটিশ ::
আপনার যেকোনো সৃজনশীল লেখা পাঠিয়ে দিন আমাদের ঠিকানায়।আমাদের ইমেইল: hello.atharb@gmail.com

উপন্যাস: ডিপ্রেশন ও একটি মৃত্যু—৬ষ্ট পর্ব || ফাতেমা আকন পিউ

অঙ্কন ডেস্ক / ৩৯৮ বার
আপডেট সময় : শনিবার, ২০ জুন, ২০২০

রাত ১ টা ২০ মিনিট…

মোবাইলে ঘাটাঘাটি করছে রাফসান। মাহা বলেছিল তাকে একটা ফোন নাম্বার দিয়ে। সে যেনো যোগাযোগ করে। পড়া শেষ হলেই তারা তাকে ভালো চাকরি দিবে। কিন্তু রাফসান এতই আলসে নাম্বার ফোনে তখন রাখেই নি। মুখস্থ করে রেখেছে। এই নিয়ে পাঁচ বার নাম্বার তুলেছে সে। কিন্তু শেষ একটি সংখ্যা নিয়ে চিন্তায় আছে। কত হবে? আট নাকি নয়! ভুলেই তো গেল সে। কি আর হবে? রং নাম্বারে ফোন গেলে বকাবকি করবে? তাতে কি! ফোন করে বসে রাফসান। বুক ধুপধুপ করছে তার। এতো রাতে রং নাম্বারে ফোন গেলে তাকে আস্তো রাখবে না তা সে নিশ্চিত। পাঁচ ছয়বার রিং হতেই কেউ ফোন তুলে। ঘুম কাতর গলায় ওপাশ থেকে কেউ বলে, “হ্যালো!” গলা শুনে কান থেকে ফোন নামিয়ে নেয় রাফসান। এ তো একটা মেয়ের গলা! এখন যদি আরও বকা শুনে! আর মেয়েটার সাথে কথাই বা বলবে কিভাবে? সে তো কখনো কোনো মেয়ের সাথে এভাবে কথা বলেই নি। তাও নিজেকে সামলে নিয়ে রাফসান কথা বলে৷,

” হ্যালো.. এটা কি মিঃ জাহিদের নাম্বার! ”

” না আপনি কে? এতো রাতে কেন ফোন করেছেন? ” কিছুটা চেচিয়ে বলে মেয়েটি।

” আসলে মিঃ জাহিদ আমাকে বলেছিলেন চাকরির ব্যাপারে কথা বলার জন্য ফোন দিতে। ”

” দুঃখিত এখানে মিঃ জাহিদ নামের কেউ থাকে না। আর এতো রাতে আপনি চাকরির ব্যাপারে কথা বলতে ফোন করেছেন?

” আমাকে মিঃ জাহিদ এই সময় দিয়েছেন। আসলে আমি শেষের একটি নাম্বার ভুলে গেছিলাম। তাই হয়তো ভুল করে আপনাকে ফোন দিয়ে ফেলেছি। আমি তার জন্য দুঃখিত। ক্ষমা করবেন।

ফোন রেখে দেয় রাফসান। এই প্রথম কোনো মেয়ের সাথে কথা বলে সে। বুক ধুপধুপ করছে। বাইরে থেকে যে কেউ এখন শুনতে পাবে তার হার্টবিট। প্রথমবার ভুল নাম্বারে ফোন করায় রাফসানের সাহস হয় না অন্য আরেকটি নাম্বারে ফোন দিয়ে কথা বলার। যদি এবারও ভুল হয়? প্রথমবার মান সম্মান বেঁচে গেলেও পরেরবারও যে বেঁচে যাবে তা তো নয়। যাই হোক। চাকরি তার ভাগ্যে থাকলে পাবে। কিন্তু ভুল নাম্বারে ফোন করে অপমানিত হয়ে চায় না রাফসান।

সকাল ১১ টা….

এখনো ঘুমিয়ে আছে রাফসান। ঘুমাবে না কেন! আজ শুক্রবার। তার অফিস বন্ধ, কলেজ বন্ধ। বাসায়ও তাকে নিয়ে কোনো সমস্যা নেই তেমন। প্রতিমাসে টাকা যে দিচ্ছে। তবে হ্যাঁ, নিজের ইচ্ছেতে খাবার নিয়ে খেতে হয়। কেউ এনে দেয় না। কেউ জোর করেও না খাওয়ার জন্য। খাওয়ার সময় কেউ ডাকেও না। তাই হয়তো এতো বেলা করে ঘুমোচ্ছে। নয়তো খাওয়ার জন্য সেই কখন ডেকে ঘুম থেকে তুলে দিতো।

রাফসানের ফোন বেজে উঠে। হাত বাড়িয়ে বালিশের পাশ থেকে ফোন তুলে নেয়। ফোনের স্ক্রিনের দিকে না তাকিয়েই রিসিভ করে রাফসান। ওপাশ থেকে ভেসে আসা কন্ঠে দ্রুত উঠে বসে সে।

” হ্যালো ” ঘুম কাতর গলায় বলে রাফসান।

” কি হলো! এখনও ঘুমোচ্ছেন? ”

” কে আপনি?? ” অবাক হয়ে বলে রাফসান।

” গতকাল রাতে আপনি চাকরির জন্য যাকে ফোন করেছিলেন। ”

” দেখুন আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আমি জেনে বুঝে আপনাকে ফোন করিনি। ”

” হাহাহাহা ”

” হাসছেন কেন আপনি? ”

” যদি আমি আপনার উপর রেগে থাকতাম তবে কি আপনাকে ফোন করতাম? আমি বুঝতে পেরেছি আপনি ভুল করেই আমাকে ফোন করেছিলেন। কিন্তু এখন আমি আপনাকে জেনে বুঝেই ফোন করেছি। ”

” কিন্তু কেন? ”

” ধরে নিন ভালো লাগলো তাই। ”

” আমি তো আপনাকে চিনি না। ”

” তাতে কি? চিনতে কতক্ষণ? হতে পারে আমরা একজন অন্যজনের ভালো বন্ধু হতে পারি। ”
” বন্ধু! ”

” কেন? আপনি কি কারো সাথে বন্ধুত্ব করেন না? ”

” আসলে আমার কোনো মেয়ে বন্ধু নেই। ”

” নেই তাতে কি? আমি কি পারিনা আপনার বন্ধু হতে? ”

” হ্যাঁ পারেন। ”

” তাহলে তো হয়েই গেল। আজ থেকে আমরা দুজন বন্ধু। আমি জুলিয়া, আপনি? ”

” আমি রাফসান। ”

” তাহলে আজ থেকে আপনি নয়, তুমি করেই বলবে। যেহেতু আমরা বন্ধু। আর বন্ধুরা কখনো আপনি করে বলে না। ”

” ঠিক আছে। কিন্তু তুমি তো আমার সম্পর্কে কিছুই জানো না, আমাকে দেখও নি। তাহলে বন্ধু করে নিলে যে? ”

” আসলে আমার তেমন কোনো বন্ধু নেই। আছে স্কুল কলেজের সহপাঠী। কিন্তু তারাও সময়ের সাথে সাথে হারিয়ে যায়। গতকাল রাতে তোমার ফোন পেয়ে আর তোমার সাথে কথা বলে মনে হলো তুমি খুব ভালো। তোমার সাথে বন্ধুত্ব করা ভাগ্যের ব্যাপার। তাই আজ ফোন করে বন্ধুত্বের আবেদন করলাম। বন্ধু তো সবারই থাকে। কিন্তু ভালো বন্ধু কজন হয়? ”

কথাটা ঠিক। বন্ধু সবাই হতে পারে। কিন্তু ভালো বন্ধু সবাই হতে পারে না। জীবনে চলার পথে অনেক অনেক বন্ধু পেয়ে থাকি। কিন্তু তারা সময়ের সাথে হারিয়ে যায়। যখন আপনি স্কুলে থাকবেন তখন আপনার অনেক বন্ধু থাকবে। ক্লাস রুম জুড়ে আপনার বন্ধু। কিন্তু যেই আপনি স্কুল পেরিয়ে কলেজে যাবেন। তার পাঁচ ছয় বছর পর দেখবেন আপনার স্কুলের বন্ধুরা আপনাকে ভুলে গিয়েছে। ঠিক এভাবেই মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমাদের বন্ধু আসে আবার চলে যায়। কিন্তু তার মধ্যে হাতে গোণা ক’টি বন্ধু সারাজীবন থাকে আপনার পাশে। তারা স্বার্থ চিনে না। চিনে বন্ধুত্ব।


এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com