Logo
নোটিশ ::
আপনার যেকোনো সৃজনশীল লেখা পাঠিয়ে দিন আমাদের ঠিকানায়।আমাদের ইমেইল: hello.atharb@gmail.com

গল্প: শুকনো ফুলের প্রেম || আকিজ মাহমুদ

অঙ্কন ডেস্ক / ১৬৭ বার
আপডেট সময় : শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২০

কৃষ্ণচূড়া বলছিল বসন্ত এসে গেছে। তার ফুলের সৌরভে প্রকৃতিকে করেছে রঙিন। সৌন্দর্যে বিমহিত লোকেরা প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

তুমি কোথায় চললে? দেখ আমার লাল পাপড়ি গুলো যখন দোল খায়, কত সুন্দর লাগে।
কত কবিতা-ই না লেখে কত কবি। আর তরুণ , তোমার মত তরুণরা আমাকে নিয়ে তাদের ভালবাসার আদান-প্রদান করে। কত রোমান্টিক কথা,বাক্য বিনিময়। আহ্লাদে আমাকে তোলে মাথায়। আমি নাকি এক বর্ধিত সৌন্দর্যের কারণ।
আমি নাকি প্রেমিকার খুশি হওয়ার কারন।
তারপর?
তারপর শুনবে,,। একটা প্রেমের গল্প, প্রেমিক প্রেমিকার গল্প। তারা দুজন, তারা যেন এক।একটাই মন,অস্তিত্ব।
তাদের ভাল সময়টুকু অতিবাহিত হতে লাগলো । একে অপরের সংস্পর্শে আসতে চাচ্ছিল দুজনা। প্রেমিকার হাত ধরে স্বপ্নে আচ্ছাদিত ছিল প্রেমিক। নুইয়ে পরছিল তার দেহ। প্রেমিকার দেহের স্পর্শ চাচ্ছিল। ঢলে পরা শরীরের ভার সাগ্রহে বরন করে নেয় প্রেমিকা। তাদের অগোছালো কোথাগুলো শুনতে বেমানান, গভীরতার কমতি নেই। প্রেমিকার মুখে হাসি দেখতে কত পথ অবলম্বন করল যে প্রেমিক, হাহা,,সত্যিই হাসি পেয়ে বসল আমার। আমি বাতাসে বাতাসে স্ফুর্তির স্ফুরণ ঘটিয়েছি।প্রেমিকের হৃদয়ের দোলন ঘটেছে আমার অঙ্গে। প্রেমিকা কে দেখেছি, সে বড় মায়াবী কন্যা। সুন্দর চেহারার মাঝে হাসিটাও আকর্ষণীয়। সহজেই প্রেমিক কে অতলে ডুবতে বাদ্ধ করতে সক্ষম। চেহারা দুটো খুব মানিয়েছে। দুজানার হাসিতে উদ্যানের ফুলের সৌরভ ঝরতো। বাহ! কি সুন্দর ভালবাসার খেলা। কি সুন্দর এই পৃথিবি। ভালবাসার জগৎ সত্যিই সুন্দর হয়, আকর্ষণীয় হয়। আমি ব্যাপকতা বুঝতে পেরেছিলাম। আমি আহ্লাদিত । লালের আভা ছড়িয়ে দৃষ্টিপাতের জন্য আহবান করছিলাম চারপাশকে।প্রকৃতির বর্তমান অসাম্যকে নাড়া দিয়েছিল তাদের উপস্থিতি। তারপর,,

তারপর কি? থেমে গেলে কেন?

বলি শোন তবে, প্রেমিকা চলতে লাগলো বাসার দিকে।
আর প্রেমিক?
সেও ছুটলো বাসার দিকে ।
দুজনের চেহারায় কেমন যেন মলিনতা, হাসি নেই,একটু আগেই যে আবেগ আনন্দের মিশ্রনে ছলছল করছিল চেহারা গুলো, তা আর নেই।
তারপর কি হলো ?
তারপর প্রেমিকার খবর জানা হয়নি। সে বড় অন্যায় করেছে আমার সাথে। আমাকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছিল মাটিতে। আমার পাপড়িগুলো আমার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। লক্ষ্য করলাম আমার সৌন্দর্য বিনষ্ট হয়ে গেছে। দু একটা পাপড়ি দিয়ে কি আর মানব মনকে আকৃষ্ট করা যায়? তবুও আশায় রইলাম, প্রেমিকের প্রতি। ছেলেটা বড্ড ভাল। আমাকে স্বহস্ত তুলে নিল। আমার একটি পাপড়িকেও নষ্ট হতে দিল না। যত্ন করে হাতের মুঠোয় নিল। চোখের পানিতে আমার সজিবতা, আমার নবীনতা বাড়তে লাগলো। আমি সিক্ত হলাম। ছেলেটা আমায় ভালবাসে। আমাকে নষ্ট হতে দিতে চায় না। আমি ক্ষনজন্মা তবু এই আবেগ, ভালবাসা কইবা রাখি! তারপর,,,,

তারপর কি হল?কি হল বল কৃষ্ণচূড়া?

হ্যা হ্যা বলছি! তারপর দেখ আমার এই অবস্থা। ডায়েরির পৃষ্ঠার চাপে আজ আমার কোন রস নেই, রং নেই, সজিবতা নেই, সৌন্দর্য তো নেই ই।

তুমিতো বললে ছেলে বড্ড ভাল, তোমায় খুব ভালবাসে, তাহলে তোমায় কেন এমন শাস্তি দিল?

বলেছিলাম। ভেবেছিলাম মেয়েটার চেয়ে ছেলেটা ভাল, কিন্তু ছেলেটা আরও নিষ্ঠুর। আমাকে ডায়েরির পৃষ্ঠায় রেখে দিয়েছে। সাথে কি যেন লিখে রাখলো পড়তে পারলাম না। আমি যে পড়তে পারি না।

আমি অবাক হয়ে ডায়েরির পাতায় চোখ বুলালাম।
লেখা ছিল,সেদিন আমার কোন ভূল ছিল না, তোমাকে হারাতে চাই না বলেই সন্দেহ করতাম। তুমি রাগ করে চলে গেলে। তোমার ছুড়ে ফেলা ফুল গুলো রেখে দিয়েছি, এবার না হয় শুকনো ফুল দিয়ে ভালবাসার প্রস্তাব দিব। তুমি নিশ্চয় ফিরিয়ে দিবে না।


এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com