Logo
নোটিশ ::
আপনার যেকোনো সৃজনশীল লেখা পাঠিয়ে দিন আমাদের ঠিকানায়।আমাদের ইমেইল: hello.atharb@gmail.com

উপন্যাস: মুবা মিয়া—১ম পর্ব || রেদ্ওয়ান আহমদ

অঙ্কন ডেস্ক / ৩৯৫ বার
আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২০

প্রথম পর্ব
আঁধার ঠেলে ভোরের সূর্যটা উঁকি মেরেছে। মুচকি হাসিতে আবার মিটিমিটি তাকাচ্ছেও সে। সকালের এই স্নিগ্ধ অরুণ হাসি যেনো সকলের জন্য এক প্রেমময় আশীর্বাদ। আলোর বিচ্ছুরণ ক্রমে ক্রমে দূর্গাপুর গ্রামটিতে ছড়িয়ে পড়ছে। কুকুরেরা সব সারারাত গ্রাম পাহারা দিয়ে মনে হচ্ছে এইমাত্র ঘুমিয়েছে।
গ্রীষ্মের সবদাহে এ সকাল যেনো কোনো এক স্বর্গ হাওয়া। গ্রীষ্মের দুপুরে কড়া রোদে গাছের পল্লবেরা নেতিয়ে পড়ে, রাখাল গরু ছেড়ে লাঠি মাটিতে গেঁড়ে কোনো বৃক্ষতটে ঘুমিয়ে পড়ে, প্রকৃতিরা যেনো রুক্ষ-শুষ্ক হয়ে বৈচিত্র্যহীন হয়ে পড়ে। অথচ, আজকের সকালটায় যেনো চতুর্দিকে আনন্দের ঢেউ খেলে যাচ্ছে। ভোরের পাখিদের সুরেলা কণ্ঠে শিশিরেরা এসে দূর্বাঘাসে হৃদয় উজাড় করে দিয়েছে।
মনে হচ্ছে যেনো প্রকৃতিরা সেজেছে কোনো নতুন রূপে, হয়েছে সুশোভিত। পাড়ার ছেলে-মেয়েরা আনন্দে হৈ-হুল্লোড় করে করে ছুটছে আর গান গাইছে,
“জামা-কাপড় পরে নিন, আজকে আমার ঈদের দিন।
আমরা সবাই কষ্টহীন, আজকে আমার ঈদের দিন।”
চতুর্দিকে আনন্দের ঢেউ খেলে যাচ্ছে। নতুন জামা-কাপড়ের আস্তরণে নিজেদের আবৃত্ত করে করে আতর-খুশবুর ঘ্রাণে খুশিতে সবাই প্রায় আত্মহারা। আর হওয়ারই তো কথা। অন্যান্য ধর্মের বেলায় মুরুব্বীরা বলতেন, “বার মাসে তের পার্বণ”। কিন্তু মুসলমানদের বেলায় তা খুবই ক্ষীণ। দীর্ঘ একমাস-কাল সিয়াম পালন শেষে এই ঈদের দিনে সর্বময় আনন্দবন্যার আলোকচ্ছ্বটা।
শিরণী-পায়েশ রাধতে চুলায় গাঁয়ের বঁধূদের ধুম পড়ে গেছে। কারো ঘরে মুরগী-পোলাও, কারো ঘরে গোস্ত-রুটি, আবার কারো ঘরে বা কেনো রকম সাজ-ভোজন। পাড়াগাঁয়ের এ রকম আনন্দের দিনে গরুর দুধ ও নারিকেলের ক্ষীর ঘরে না থাকলেই নয়। এ যেনো এক কোমলমতি মুসলিম বাঙ্গালিয়ানা।
মিস্টি মুখ করে নতুন জামা-কাপড় গায়ে কেহ-কেহ ঈদগাহ ময়দানে নামাজ পড়ার জন্য মুসল্লা নিয়ে দলে বেঁধে বেঁধে চলছে। কেহ বা প্রস্তুত হচ্ছে। এই আনন্দের দিনে কেউ যেনো মাত্রাতিরিক্ত আনন্দে স্রষ্টাকে ভুলে না যায়, সেজন্যই দু’রাকাত নামাজের এই বিধান। ঈমাম সাহেবও এরমধ্যে মিহরাবে বসে হামদ্-নাত্ পড়ে মাইকে আলোচনা করেছেন। এমন সময় হঠাৎ এক মৃদু বাতাসের শিহরণে সবাই কেঁপে উঠল।
পশ্চিমাকাশ ঘোলাটে অন্ধকারে ঢেকে যেতে লাগল। মৃদু বাতাস বইছে। পরক্ষণেই শুরু হলো দমকা হাওয়া। সজল-কাজল মেঘের হাতছানি। গাছপালা এদিক সেদিক হেলতে দুলতে লাগলো। পথের ধুলোগুলো ঘুর্ণিঝড়ের মতো পাক খেয়ে খেয়ে শূন্যে উড়ে যেতে লাগলো। বাতাসের মাত্রা যেনো ফাঁদে পড়া পাখির ডানা ঝাপটানোর মতো বাড়ছে। কবুতর, চড়ুই, কাক, বক, সারস পাখিগুলো জীবন বাঁচানোর জন্য ছুটাছুটি করে নীড় খুঁজছে। গাছে গাছে বাড়ি খেয়ে মরমর শব্দ হয়ে হয়ে আকাশে মেঘের বাজের সাথে মিলিয়ে যেতে লাগলো। হাওরের পানি বাতাসে ফুলে উঠে গ্রাস করে নিলো নদীপাড়ে বাচ্চাদের ছোটছোট মাটির ঘরগুলো। গাছের আম টিনের চালে ঠাসঠুস ঝরে পড়ছে। মেঘ তার আপন গতিতে ছুটে আসলো। শুরু হলো মুষলধারে এক রিমঝিম বৃষ্টি। বৃষ্টি পড়ছে তো পড়ছেই। থামার রেশটুকুও নেই। প্রচন্ড বাজে টিনের চাল যেনো চমকে উঠছে।
এমন সময় মুবা মিয়া দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে উঠল, “মানের মান আল্লায়ই রাহে”।
মুবারক মিয়া, সবাই মুবা মিয়া বলেই ডাকে। মুবা মিয়া সাধারণ এক জেলের ছেলে জেলে। অবশ্য যে সময় যেটার কদর হয়, সেসময় সেটা করেই গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষ দিব্যি বেঁচে থাকে। বয়সটা তার ত্রিশ-বত্রিশের মতো হবে। এই তিন দশকেই তিন সন্তানের জনক সে। বড় মেয়ে ফাতেমা। তারপর ছেলে ইব্রাহিম। আর সবার ছোট জয়নব।
সময়টা একুশ শতক হলেও মনে হয় যেনো উনিশ শতকের কোন এক পাড়াগাঁ। নেই শহরের সাথে সংযুক্ত কোনো রাস্তাঘাট, নেই বিদ্যুৎ, নেই তেমন কোনো উন্নত টেলিফোন যোগাযোগ ব্যবস্থাও। আর নেটওয়ার্ক তো ধরা ছোঁয়ার বাহিরেই। খবর দেখার টিভিও মিলতো না পুরু বাড়ি জুড়ে একটা। তাও আবার সাদা-কালো ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়া অবস্থা। চ্যানেল ছিলে শুধু একটাই, বিটিভি। সেই সাদা-কালো ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়া বিটিভিতেই শুক্র-শনিবারে সিনেমা দেখার জন্য বাড়ির আবাল-বৃদ্ধদের ঢল পড়ে যেতো। যার ঘরে টিভি থাকতো সে তো নিয়মিত রাজাই হয়ে উঠতো। চালের ড্রামের উপর টিভি রেখে সবাই নিচে পিড়ি বিছিয়ে বসতো। আর কেউ কেউ সকালেই নিজের জায়গা রাখার জন্য নিজের ঘর থেকে পিড়ি এনে টিভির ঠিক সামনে রেখে যেতো। আহ! কী সুখের আবেশ।
শীতকালে ভীষণ শীত পড়লেও পাওয়া যেতো না দামী বা তেমন ভালো কোনো বস্ত্র। দেড়শো টাকা দামের মোটা একটা কাপড়েই ঠাই পেতো সবাই। ধান রোপন ও পানি সেঁচনে শরীরে কাঁপন ধরে যেতে, তবুও থামা নেই। পেটের দায় খুবই নৃশংস।
গ্রীষ্মের কাটফাটা রোদে সব কিছু কেমন যেনো টকটকে লাল হয়ে যায়। চৈত্র মাসের অবস্থা তো আরো একধাপ এগিয়ে। একদিকে বৈশাখের ছোঁয়ায় সেও বসন্তের চাদর খুলতে শুরু করে। অন্যদিকে মাঠ-ঘাট, ক্ষেত-খামার সব ফেটে চৌচির হয়ে পড়ে। এমনকি নদী, হাওড়, বিলও জলশূন্য হয়ে পড়ে। জলের কুমুদীগুলোও শুকিয়ে নেতিয়ে পড়ে। গোসল করার পানিটুকু পর্যন্তও মিলে না। তখন সচরাচর আর্সেনিকমুক্ত টিউবওয়েল কয়েক বাড়ি মিলেও একটা পাওয়া যেতো না। নদী, পুকুর বা বৃষ্টির পানিতেই রান্না হতো। যদি বা একটা টিউবওয়েল কোনো রকম পাওয়া যেতো, তাতে আবার এক কলস পানির জন্য তিনঘণ্টা সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। অথচ, সেখানেই বর্ষার পানিতে কেমন মাঠ-ঘাট সব তলিয়ে যায়। কতবার ডাক পড়ে, কার যেনো বাড়ির ভিটার আড়া ঢেউয়ে ভেঙ্গে নিয়ে গেছে। কারো পঞ্চাশ-এক’শ বছর পুরনো বটগাছ বাতাসে ভেঙ্গে উড়িয়ে নিয়ে গেছে। বৈশাখী ঝড়ে কারো বা ঘরের চালটুকুও তছনছ হয়ে যায়। গ্রামীণ প্রকৃতি মাঝে মধ্যে খুবই নির্মমই ঠেকে।
ঝড়-বৃষ্টি হওয়া শুরু হলেই শুরু হতো বাচ্চাদের ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে কানে তর্জনী ঠেকিয়ে চিৎকার করে করে আজান দেওয়া আর দোয়ায়ে ইউনূস পাঠ “লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনায যলিমিন”। চর বজ্রপাতের সাথে সাথে বলে উঠতো “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ”। কেউ কেউ আবার ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেই চলে যেতো আম, জাম, কামরাঙ্গা আর বড়ই গাছের তলায়।
শীত, বসন্ত, গ্রীষ্ম ও বর্ষা ছাড়া বাকি দুইটা ঋতুর আনাগোনা বাংলাদেশের কেউ কখনো বুঝতো কিনা জানা নেই। কিন্তু, গাঁ-গ্রামের মানুষেরা নিয়মিত এদের কর্ষণ করতো। শরতে নতুন ধান-চালের হালকা পিঠাপুলির উৎসব। কাশফুল ও পদ্মফুল মাঝিদের মন নিয়ে খেলা করতো।
আর হেমন্তে চলতো নদী-নালা, খাল-বিল থেকে মাছ ধরার এক তীব্র আমেজ। প্রায় প্রত্যেকের ঘরেই থাকতো বড় বড় মাছের শুটকি ও সবজি চাষের প্রতিযোগিতা। আরো কতোভাবেই না ষড়ঋতুকে গ্রামীণ মানুষেরা আপন করে বরণ করে নিতো।
গ্রামটি যদিও নিরক্ষরতায় ছেয়া, তবুও এ এক প্রকৃতির রাজ্যে ঘেরা সবুজ-শ্যামল ছায়ায় আবৃত। শহুরে যান্ত্রিক জীবন থেকে সময়ে সময়ে নিজের রূপ পাল্টিয়ে, নিজেকে বিভিন্ন কারু শিল্পতে পরিনত করে, এক সুখের আমেজ তৈরি করে তুলতো এই গ্রাম। একমাত্র এখানকার মানুষেরাই জানে কীভাবে এই ছোট্ট আকৃতির গ্রামটা তাদের আগলিয়ে রাখছে বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ!
তেমনি প্রকৃতির রূপের বাহনেই চলছিলো মুবা মিয়ার সংসার। তিন ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড় মোবারক মিয়া ওরফে মুবা মিয়া। তারপর বোন ময়না ও মুয়াজ্জেম মিয়া। যাকে মানুষ মজ্জা মিয়া বলেই চিনে। গ্রামে এই বড় বড় নামের কোনো স্থান নেই। বড় হলেও কেটে বিকৃত নামে ডাকাই এখানকার গ্রামপ্রকৃতির নিয়ম। তাদের অভিভাবক বলতে একমাত্র বাবা হারিস মিয়াই। পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়স। দেখলে আশির কোটায় পা রাখা বৃদ্ধ মনে হয়। চামড়ায় ভাঁজ পড়া। চেহারায় কালো-কালো তিলক পড়েছে। গুনে গুনেও একটা কালো চুল পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ।
এই কয়েকবছর হলো মুবা মিয়ার মা ব্রেইন টিউমারে মারা যায়। অনেক চেষ্টা করার পরও তাকে বাঁচাতে পারেনি হারিস মিয়ারা। ডাক্তাররা তাকে বিদেশে উচ্চ চিকিৎসা করানোর জন্য বলে। কিন্তু তাদের সে সামর্থ্য ছিলো না। যাদের নুন আনতে পান্তা ফুরোয়, তাদের নিকট বিদেশে উচ্চ চিকিৎসা নিতান্তই মৃত্যু ঘোষণা। তারপর এর কিছুদিন পরই হঠাৎ একরাতে নিজের বিছানাতেই মৃত্যুঘুম দেয় মুবা মিয়ার মা। একমাত্র বাবা হারিস মিয়া হয়ে পড়েন জলশূন্য মাছের মতো।
হারিস মিয়ার ধারণা, তার স্ত্রীর মতো সোনার মানুষ হয় না। তেত্রিশ বছরের সংসারে কোনোদিন খাওয়া-পরার উপর টুঁ-শব্দটাও পর্যন্তও করে নি সে। যা এনেছে, যা দিয়েছে, তাই খেয়ে-পরে সবসময় সন্তুষ্ট থেকেছে। অনেক কষ্টে মুবা মিয়ার বাবা হারিস মিয়া স্ত্রী হারানোর শোকে দিন কাটাতে থাকলেন।
নিজের হাতের সাজানো-গোছানো তেত্রিশ বছরের এই সংসারটুকু তিলে তিলে সে গড়ে তুলেছিলো। আর সে-ই আজ সব ছেড়ে চলে গেছে দূরে-বহুদূরে।
ঘরের যেদিকে তাকায় হারিস মিয়া শুধু তার স্ত্রীর হাতের স্পর্শই দেখতে পায়। কিছুতেই তিনি স্ত্রী হারানোর শোক কাটাতে পারছেন না। পুরুষ মানুষের জীবনে সবচেয়ে বেশি কাঁদার কয়েকটি কারণের মধ্যে একটি কারণ হলো নিজের স্ত্রী হারানোর শোক। এছাড়া পুরুষ মানুষের চোখেরজল খুবই নিষ্ঠুর।
এখন হারিস মিয়া রাতের বিছানাটা আর কাউকে ঝেড়ে দিতে বলেন না। মশারিটা আর টানিয়ে দিতে বলেন না কাউকে। হুঁকার তামাক সাজিয়ে দিতে বলেন না। সবকিছুই নিজে নিজে করেন। ছেলেদের যত্নের কমতি না হলেও সহধর্মিণীর অভাব কেউ কখনোই পূরণ করতে পারে না। স্ত্রী হারানোর কষ্ট যে কতোখানি, তা যে হারায় সে-ই একমাত্র বুঝতে পারে। সংসার আগলে রাখার মতো কোনো কাজ পুরুষ মানুষ করতে পারে না। তারা শুধু সংসারের ভরণপোষণের অভাবই পূরণ করতে পারে।
মা হীন সংসারে যা হয় তার প্রথম নিদর্শনই দেখা দিলো মুবা মিয়া ও মজ্জা মিয়ার সংসারের জুদা করন। হারিস মিয়ার স্ত্রী হারানোর শোক শেষ হতে না হতেই তাকে সংসার ভাগ করার শোকে পড়তে হলো। যে সংসার তিনি ও তার স্ত্রী তিলে তিলে সাজিয়েছেন, সে সংসারটাই তার নিজের দু’হাতে এভাবে ভেঙ্গে ভাগ করে দু’চেলের হাতে তুলে দিবেন তিনি তা কখনো কল্পনাই করতে পারলেন না।  নিয়তি মাঝে মাঝে বড় নির্মমই ঠেকে।
একচালের নিচে দুই ভাইয়ের ঘর হলেও সব কিছুই হয়ে পড়ে আলাদা-আলাদা। কারো কোনো কিছুতে আর অন্যকারো হস্তক্ষেপ থাকলো না। হাওড়ের জমিটুকুও বৃদ্ধ বাবাকে নিজ হাতে চোখের জলে ভাগ করে দিতে হলো। হারিস মিয়া দিনেদিনে আরো ভেঙে পড়তে থাকেন।
ছেলেদের অনেক অনুরোধ-অনুনয়ের পরেও হারিস মিয়া দ্বিতীয় বিয়ে করতে কোনোরূপ রাজি হলেন না। তিনি মনে করেন, তার জীবনের অর্ধেকটাই তার স্ত্রীর সঙ্গেই দাফন করে এসেছেন। আর বাকি জীবনটা ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনির সুখ-দুঃখের ভাগিধারী হয়েই কাটিয়ে দিতে পারবেন।
মুবা মিয়ার পুরো পরিবারের কারোরই এইট পাশের পর্যন্ত সনদ নেই। প্রয়োজন মানুষকে নেকড়ের মতো তাড়ায়। প্রয়োজনের তাগিদেই তাদের সবাইকে লেখাপড়ার পাঠ অতি অল্প বয়সেই চুকে ফেলতে হয়। সেই জের ধরেই মুবা মিয়া ধরে জাল আর মজ্জা মিয়া ধরে নাও-বৈঠা। ছোট ছেলে মজ্জা মিয়ার প্রতি বাবা হারিস মিয়ার একটু বেশি টান থাকলেও ভিড়তে পারেন না ছেলের বউয়ের কারণে। স্রষ্টাই কেমন করে জানি মানুষকে আড়াআড়ি মিলিয়ে সৃষ্টি করেন! বড় ছেলে মুবা মিয়ার ঘরেই হারিস মিয়া খেয়ে-দেয়ে সারাদিন মসজিদেই পড়ে থাকেন। ইদানীং মসজিদে আজান-ইকামত দেওয়ার দায়িত্বটাও নিয়ে নিয়েছেন তিনি। তাই, সারাদিন মসজিদেই কেটে যায় তার। রাতে এসে কোনো রকম তামাক পাতায় ধোঁয়া ধরিয়ে হুঁকার নলে টানতে টানতেই ঘুমিয়ে পড়েন।


এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com