Logo
নোটিশ ::
আপনার যেকোনো সৃজনশীল লেখা পাঠিয়ে দিন আমাদের ঠিকানায়।আমাদের ইমেইল: hello.atharb@gmail.com

আয়শা জাহান নূপুর’র একগুচ্ছ কবিতা

অঙ্কন ডেস্ক / ১০৭ বার
আপডেট সময় : রবিবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০২১

মৃত্যুর আগে কথোপকথন ও একজন আমি

বাতাস থেমে যায় হুটহাট।
অতঃপর অনেকটা ক্লান্তি যোগ হয় তাতে।
একজন বৃদ্ধের লাশের সাথে দীর্ঘক্ষণ কাটানোর অনুভূতি আমাকে বর্নণা করতে মঞ্চে আহ্বান করা হয়েছে।
পা দু’টো অনেকটা সময় জায়গা বদল হয়নি বলে খানিকটা বিদ্রোহী।
এক গ্লাস ঠান্ডা জল ঢকঢক করে পুরোটাই মুখে নিয়ে আমি পা বাড়ালাম।
রজনীগন্ধার এক ধরনের ব্যক্তিগত সুবাস আমার চারপাশে ঘুরতে লাগলো।
একজন মানবিক সুন্দর আমাকে হাত ধরে নিয়ে চললো আগামীর দিকে।
সকলেই খুব শান্ত, চিরচেনা অডিটোরিয়ামে শালীন নিরবতা।
একজন সহযোগী এসে মাইক্রোফোন প্রস্তুত করতে করতে আমার দিকে মুচকি হাসলেন।
কোথায় দেখেছি তাকে ঠিক মনে পড়ছে, না অথচ আমি নিশ্চিত আমাদের দেখা হয়েছিলো।
হে সুধী, আমি বৃদ্ধের মৃত্যুর বর্ণনা করছি।
তার সাথে দীর্ঘ কথোপকথনে সে জানিয়েছিলো, তার মরুভূমির মতো ঠোঁটে একটু ভেসলিন লাগিয়ে দিতে।
আমি তাকে একটা সমুদ্র যাত্রার গল্প বলেছিলাম খুব আগ্রহ নিয়ে।
তিনি বললেন তিনি গির্জার পেছনের এক খন্ড উদার জমিনে প্রার্থণা শেষে রোজ দাঁড়াতেন।
তারপর কিছু গম ছিটিয়ে দিতেন পাখিদের আহারে।
মানুষের মতো পাখিকূলের দুঃখ ও ব্যক্তিগত, কথায় কথায় জানলাম।
তিনি কিছুটা বাড়তি অক্সিজেন টেনে নিয়ে অত্যন্ত ক্ষীণ কন্ঠে বললেন,” চললাম, প্রিয় বন্ধু।”
তখন প্রায় নির্জণ পথে রাত নেমে এলো দ্রুত।
আমি তার লাশের সাথে সারারাত কাটিয়ে বুঝলাম,
মানুষ আর পাখির মধ্যে মিল-”তারা উড়ে যায়!”

 

আমি ক্লান্ত প্রাণ এক

একটা তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে এগিয়ে যাই,
পেছনে ফেলে ধূসর দিনরাত্রি।
সহজাত কোলাহল এড়িয়ে,
ছায়াহীন বৃক্ষের পাশ দিয়ে যেতে যেতে একটু থামি।
আগ্রহ নেই তবুও উপরে তাকিয়ে দেখি,
মৃত শাখায় বাসা বুনেছে এক হলুদ রংয়ের পাখি।

ধীরে ধীরে আরো এগিয়ে যাই,
পা মিলে দুঃখরা সহযাত্রী হয়।
আমরা কেউ কারো দিকে তাকাই না।
নিরবে পেরিয়ে যাই পুরনো ক্ষত, ব্যর্থ দিনলিপি।
ইচ্ছে নেই তবুও অপেক্ষায় বসে থাকি,
যেখানে ভালোবাসা আর ঘৃনা একই ঘরে থাকে।

তারপর জনশূন্য এই অস্থির পৃথিবীতে,
আমি তোমাকে ভেবে,
একটা পূর্ণ বিকেল শুধু একলা কাটিয়েছি।
আমার সাথে নির্জন পুকুরে
চোখ রেখে অপেক্ষায় ছিলো এক মাছরাঙা,
যেন সে মহাকালে ছিপ ফেলে বসে আছে!

 

সুখের জামা গায়ে লাগে না

কেননা আমরা জানতাম উভচর সুখের মূলনীতি আলাদা।
সবুজ ক্রমশ গাঢ় হতে হতে একসময় বিবর্ণ রং পেয়ে যায়।
প্রতিবেশী ইচ্ছে গুলো উড়িয়ে নামহীন রাত নামে সযতনে ।
তাতে আমরা একত্রে মিশিয়ে দিয়েছি প্রেম, কিছুটা অপ্রেমে।

কেননা আমরা জানতাম নির্ভরযোগ্য সূত্র উঠে গেছে ‘দৈনিক পত্রিকা ‘থেকে।
রক্তের রং লাল, নীল কিংবা কালো
হয়ে যায় শুধু সময়ের ব্যবধানে।
একটা বিকশিত দিনের শেষে অদ্ভুত রাত নেমে এলে মানুষের ভিতরটা জেগে ওঠে।
আমরা স্নিগ্ধ হাওয়ায় জেগে ওঠা ভূমিতে উৎপন্ন করেছি সতেজ ফসল।

কেননা আমরা দীর্ঘদিন ধরে একই পথে যেতে যেতে পরিচিত মুখের দাগ স্পষ্ট দেখেছি।
বয়সীদের মধ্যে অপেক্ষাকৃত অধিক যারা তারা ভুলে গেছেন যোগাযোগের সঠিক ঠিকানা
অনুজদের জন্য রেখে যাওয়া বাক্সে পরে আছে কয়টা আধুলি মাত্র।
তাতে বড়জোর চায়ের সাথে একটা নোনতা বিস্কুট মিলবে।


এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com