Logo
নোটিশ ::
আপনার যেকোনো সৃজনশীল লেখা পাঠিয়ে দিন আমাদের ঠিকানায়।আমাদের ইমেইল: hello.atharb@gmail.com

আমার এতসব সমস্যার সমাধান কোন পথে? || আরিক আব্দুল্লাহ

অঙ্কন ডেস্ক / ৫০ বার
আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২১

 

মানুষের একটি সাধারণ স্বভাব হলো সে নিজের জন্যে যা প্রিয়, মূল্যবান মনে করবে তা সে নিজের সবকিছু দিয়ে আগলে রাখবে। তা যে কোনো কিছুই হোক না কেন। যত দামী বা কম দামিই হোক না কেন, প্রত্যেকেই নিজের প্রিয় বস্তুটি অত্যন্ত যত্নে রাখতে চায়।

আর সেটা যদি তার প্রিয় মানুষটির দেওয়া হয়, তাহলে তো আর কথাই নেই। যে কোনো মূল্যে তা আগলে রাখে। এমনকি প্রিয় মানুষটি মুখের কথা গুলোও অক্ষরে অক্ষরে পালন করার চেষ্টা করে।

মুসলিম হিসেবে আমাদের সবচেয়ে প্রিয়, অনুসরণীয় পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হলেন আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আমাদের প্রিয় নবী (সা.) তার জীবনের শেষ ভাষণে অর্থাৎ বিদায় হজ্বের ভাষণের এক পর্যায়ে বলেছিলেন – ” আমি তোমাদের মাঝে এমন দুটি জিনিস রেখে গেলাম, তোমরা তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরলে কখনো বিভ্রান্ত হবে না। তা হচ্ছে_আল্লাহর কিতাব (পবিত্র কোরআন) ও তাঁর রাসুলের হাদিস।”

অথচ আজ আমাদের প্রিয় মানুষটির বলে যাওয়া মহা মূল্যবান এই কথাটিকে আমরা ভুলে বসে আছি। জানা থাকলেও আমরা তা মানি না। আমরা তা নিজের কলবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারিনা। আমরা কি দৃঢ়ভাবে বলতে পারব ” আমরা কুরআন ও হাদিসকে আকঁড়ে ধরতে পেরেছি”?

সূরা বাক্বারাহ এর ১৮৫ নম্বর আয়াতের এক অংশে আল্লাহ তায়ালা নিজে বলেছেন ” কুরআন মানবজাতির জন্য পুরোপুরি হিদায়াত “।

অথচ আমরা এই কথাটা বুঝেও বুঝতে পারি না। সঠিক জায়গায় সমাধান খুঁজি না। সর্ব সমস্যার সমাধান দেওয়া আছে এ মহাগ্রন্থ আল কুরআনে। কিন্তু আমাদের এর সঠিক জ্ঞান জানা না থাকার কারণে আজ আমরা পথভ্রষ্ট।যার ফলে আমাদের জীবনের প্রতি স্তরে স্তরে নেমে আসে হাহাকার। আমরা সমাধনের দিশা খুঁজে পাই না। বিপদে আমরা কোনো আশা খুঁজে পাইনা। মনে সর্বদা হতাশা আর না পাওয়ার যাতনা ভর করে থাকে।

সমাজ ব্যবস্থায় কুরআনের গুরুত্ব আজ আমাদের চোখে পড়ে না। আমাদের চোখে আজ পর্দা পড়ে গেছে। অসুস্থ কলবের ছায়ায় চোখ ঢেকে গেছে। সুস্থ চোখ থাকতেও স্পষ্ট সমাধান দেখতে পাইনা।

হায় আফসোস, আজকে যদি আমাদের সমাজ, রাষ্ট্র ব্যবস্থা এমনকি অনন্তত নিজের ব্যক্তি জীবনেও যদি তার প্রয়োগ করতে পারতাম! তবে হয়তো এতো সমস্যায় জড়িয়ে থাকতে হতো না।

আমাদের সমাজে, ব্যক্তি জীবনের বিপর্যয়, দুঃখ বা দুর্দশা এই সবকিছুই আমাদের নিজেদের অর্জন করা। সব কৃত কর্মই আমরা নিজের হাতে কামাই করেছি। আমাদের করা পাপ গুলোই সমস্যার রূপ নিয়ে আমাদের সামনে হাজির হয়। এগুলো আমাদের সতর্ক করতে পাঠানো হয়, যেন আমরা আমাদের কাজের জন্য অনুতপ্ত হই এবং সেই পাপের পথ থেকে ফিরে আসি।
সূরা আর-রূম এর ৪১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন-

” ظَهَرَ الْفَسَادُ فِى الْبَرِّ وَالْبَحْرِ بِمَا كَسَبَتْ أَيْدِى النَّاسِ لِيُذِيقَهُم بَعْضَ الَّذِى عَمِلُوا لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ

মানুষের কৃতকর্মের দরুন জলে-স্থলে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে, যার ফলে তাদেরকে তাদের কিছু কৃতকর্মের স্বাদ আস্বাদন করানো যায়, হয়তো তারা বিরত হবে। ”

কিন্তু যে নিজেকে আল্লাহর কাছে সপে দেয়, যে নিজের জন্য একমাত্র আল্লাহ তায়ালাকে যথেষ্ট মনে করে এবং পাপ কাজ থেকে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে তার জীবনের দায়িত্ব আল্লাহর কাছেই থাকে। আল্লাহ তায়ালার দয়া, রহমতের মাধ্যমে তার জীবনে শান্তি নেমে আসে। তার প্রতি অসংখ্য নিয়ামত বর্ষিত হতে থাকে। সে যত আল্লাহর নিকটে আসতে থাকে তার প্রতি বর্ষিত রহমত তত বাড়তে থাকে। সে আল্লাহর রহমতের ছায়ার নিজে চলে আসে।
এ সম্পর্কে সূরা আল-বাক্বারার ১৫৬ ও ১৫৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন –
[ 156 ]
الَّذِينَ إِذَآ أَصٰبَتْهُم مُّصِيبَةٌ قَالُوٓا إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّآ إِلَيْهِ رٰجِعُونَ

এবং যখনই কোন বিপদ আসে বলেঃ “আমরা আল্লাহ‌র জন্য এবং আল্লাহ‌র দিকে আমাদের ফিরে যেতে হবে, — তাদেরকে সুসংবাদ দিয়ে দাও।

[157]

أُولٰٓئِكَ عَلَيْهِمْ صَلَوٰتٌ مِّن رَّبِّهِمْ وَرَحْمَةٌ ۖ وَأُولٰٓئِكَ هُمُ الْمُهْتَدُونَ

তাদের রবের পক্ষ থেকে তাদের ওপর বিপুল অনুগ্রহ বর্ষিত হবে, তাঁর রহমত তাদেরকে ছায়াদান করবে এবং এই ধরণের লোকরাই হয় সত্যানুসারী।”

তাই আসুন গুনাহের পথ ত্যাগ করে, মন থেকে তাওবা করে ফিরে আসি আপনার, আমার রবের দিকে, যেখানে সব সমস্যার সমাধান নিহিত আছে। কুরআন তো একটি পরিপূর্ন কিতাব, এতে সর্ব দিক উল্লেখ করা আছে। রয়েছে পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। আমাদের জীবন তো আল্লহরই দেওয়া। তাহলে জীবনের সমস্ত দায়িত্ব কেন তাঁর উপর দিচ্ছি না? আর আমাদের দায়িত্ব তিনি তখনি নিবেন যন আমরা তাঁর পথে চলব, শুদ্ধ, সত্যের পথে চলব এবং চরম সত্য, নিয়ামত ও হুকুম গুলোকে মেনে নিয়ে তা পালন করতে থাকব।

নিজের চাওয়া পাওয়া, আশা ভরসা সবকিছু একমাত্র আল্লাহর প্রতি দিয়ে দেখুন, ইনশাল্লাহ তিনিই আপনার আমার জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবেন।

* আল্লাহ তায়ালা উক্ত বিষয়ের উপর সঠিক বুঝ ও আমল করার তাওফিক দান করুন, আমিন।

 


এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com