Logo
নোটিশ ::
আপনার যেকোনো সৃজনশীল লেখা পাঠিয়ে দিন আমাদের ঠিকানায়।আমাদের ইমেইল: hello.atharb@gmail.com

সুনামগঞ্জবাসীর ভালোবাসায় সিক্ত বিদায়ী জেলা প্রশাসক আব্দুল আহাদ | রিয়াজ উদ্দিন

অঙ্কন ডেস্ক / ১৫১ বার
আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ৭ জানুয়ারী, ২০২১

পদোন্নতিজনিত বা অন্য কোন কারণে সরকারি কর্মকর্তাদের এক কর্মস্থল থেকে অন্য কর্মস্থলে বদলি হতে হয়  । কিন্তু যখন কোন কর্মকর্তার বদলির খবর শুনে সাধারণ মানুষের মনে বেদনার ছাপ পড়ে,কালো মেঘের আচ্ছাদন পড়ে হৃদয়ে তখন স্পষ্টত প্রতীয়মান হয় যে তিনি ছিলেন সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালবাসার মূর্ত প্রতীক।
সুনামগঞ্জ জেলার সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক মোঃ আবদুল আহাদ সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক হিসেবে প্রায়  দুই বছর দায়িত্বকালে নিজ কর্মদক্ষতা, সততা,কর্তব্যনিষ্ঠা এবং মানবিকতার মতো গুণাবলির সাহায্যে জায়গা করে নিয়েছেন সুনামগঞ্জবাসীর হৃদয়ের মণিকোঠায়। যার ফলে তার বদলির খবর সুনামগঞ্জ জেলার মানুষের মনে প্রবাহিত করেছে বেদনার জড়ো হাওয়া।
অনেকে বলে থাকেন অনেক কিছুই হয়তো খুব সহজে বা খানিকটা বিনাশ্রমে বা অল্পশ্রমে পাওয়া যায় কিন্তু মানুষের আস্থা আর ভালবাসা এমনি-এমনি অর্জন করা যায় না। কেবল নিজ কর্মগুনেই অর্জন করতে হয় মানুষের আস্থা আর ভালবাসা, জায়গা করে নিতে হয় মানুষের শ্রদ্ধার উচুঁ আসনে   যা মাত্র দু’বছরের দায়িত্বকালে করতে পেরেছেন জেলা প্রশাসক মোঃ আবদুল আহাদ মহোদয়। এ যেন অনেকটা জুলিয়াস সিজারের “এলাম,দেখলাম,জয় করলাম ” এর মতো।
সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন বালুমহাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করার ফলে অনেক নিরীহ মানুষের বসতবাড়ী বিলীন হয়েছে নদীগর্ভে। তাদের বুকফাটা আর্তনাদ ব্যথিত করেছে জেলা প্রশাসক মহোদয়কে। তিনি নিয়েছেন কঠোর পদক্ষেপ, বন্ধ করেছেন অবৈধ বালু উত্তোলন। অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা নানান ভাবে শত চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে, তিনি সারা জেলায় হয়েছেন সমাদৃত। শত শত পরিবারের বুক ফাটা কান্নার পরিবর্তে তাদের দিয়েছেন গাল ভরা রোদেলা হাসি।
বালু উত্তোলন বন্ধ করার লক্ষ্যে  অভিযান চলাকালে নৌকার উপর থেকে পড়ে পায়ের লিগামেন্ট ছিড়ে যায়। তাঁকে চিকিৎসার জন্য নিতে হবে লম্বা ছুটি অপর দিকে চলছে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ। সুনামগঞ্জ জেলার মানুষের জীবিকার প্রধান অবলম্বন কৃষি কাজ। ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের অনিয়ম হলে ঘটতে পারে বছর পাঁচেক আগের হাওর ডুবা ট্রাজেডির পুনরাবৃত্তি। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন যে করেই হোক কৃষকের ফসল  রক্ষা করতে হবে প্রয়োজনে চিকিৎসা পরবর্তী সময়ে করাবেন। তিনি চষে বেড়িয়েছেন জেলার এক প্রান্তের হাওর থেকে অন্য প্রান্তের হাওরে, নিজে তদারকি করেছেন ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের। অবশেষে কৃষক হাসলো সুখের হাসি। এভাবেই অদম্য জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সময়কালে অকালে হাওর ডুবার মতো কোন দূর্ঘটনা ঘটে নি।
শুধু অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ বা ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে জীবন ঝুঁকি নয় তিনি ছিলেন প্রকৃতপক্ষে একজন শিক্ষার্থীবান্ধব জেলা প্রশাসক। তিনি ছিলেন শিক্ষার্থীদের আশার বাতিঘর। একজন শিক্ষার্থী যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় তখন তার এবং তার পরিবারের মাঝে বিরাজ করে অফুরন্ত আনন্দ কিন্তু যখনি ভর্তি হওয়ার জন্য মোটা অংকের টাকার প্রয়োজন হয় তখনি নিমিষেই আনন্দ পরিণত হয় বেদনায়, দুশ্চিন্তা গ্রাস করে ঐ পরিবারকে। কোনো শিক্ষার্থীর কোনো সফলতা যেন পরবর্তী টাকা সংগ্রহের দুশ্চিন্তায় মলিন হতে না পারে সেই দায়িত্ব তিনি নিজ হাতে নিয়েছেন। দুই বছর জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব কালে স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে,মেডিকেল কিংবা ইন্জিনিয়ারিংএ ভর্তির জন্য আর্থিক সহয়তা করেছেন প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থীদের। শুধু আর্থিক সাহায্য নয়, শিক্ষার্থীদের দিয়েছেন এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা। শতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপন করেছেন বঙ্গবন্ধু কর্ণার, জেলার শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা,দিয়েছেন বিভিন্ন বিদ্যালয়ে পাঠদান। এভাবেই জেলার শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের কাছে আদর্শ জেলা প্রশাসক হিসেবে খ্যাতি পেয়েছেন।
তিনি ছিলেন একজন জনবান্ধব কর্মকর্তা। সাপ্তাহিক গণশুনানির জন্য নির্ধারিত দিন থাকলেও শত ব্যস্ততার মাঝেও প্রতিদিন শুনেছেন সাধারণ মানুষের আবেদন-নিবেদন আর  অভিযোগ-সমস্যার কথা। শুধু শুনে প্রতিশ্রুতি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয় নিয়েছেন তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ। অনেকে বুক ফাটা আর্তনাদ নিয়ে এসে ফিরেছেন হাসিমাখা মুখে।
তিনি স্থাপন করেছেন স্বচ্ছতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। অনেকের ধারণা প্রশাসনের ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ যেকোন পদে বদলি বা পদায়নে প্রয়োজন  হয় তদবিরের। সেই ধারণাকে ভেঙে দিয়ে স্বচ্ছতার এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করলেন তিনি। জেলার ইউ/পি সচিবদের বদলিতে দিয়েছেন উন্মুক্ত লটারি তাঁর এই উদ্যোগ সারা দেশে প্রশংসা কুড়িয়েছে বেশ। পেয়েছেন মানুষের হৃদয় নিঙড়ানো ভালোবাসা।
প্রতি জেলায় এরকম একজন সৎ,দক্ষ, জনবান্ধব এবং শিক্ষাবান্ধব জেলা প্রশাসক থাকলে খুব দ্রুতই স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মান হবে ইনশাআল্লাহ।
লেখক: রিয়াজ উদ্দিন,  শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।


এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com