Logo
নোটিশ ::
আপনার যেকোনো সৃজনশীল লেখা পাঠিয়ে দিন আমাদের ঠিকানায়।আমাদের ইমেইল: hello.atharb@gmail.com

মানবতার ভিন্ন উচ্চতায় গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ : রিফাত হোসেন 

অঙ্কন ডেস্ক / ২১৭ বার
আপডেট সময় : সোমবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২০

জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্টসহ করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যায় সদ্য বিবাহিত চট্টগ্রাম নগরীর শাহ জাহান (৩০)। একদিন ব্যবধানে একই শ্বাসকষ্ট ও করোনা উপসর্গ নিয়ে যান তারই আপন ভাই শাহ আলম (৩৫)। একদিনের ব্যবধানে দুই ভাইয়ের এমন করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু পুরো এলাকাকে আতঙ্কিত করে তোলে। আত্মীয় স্বজনরা কেউ তাদের কাছেই আসছিলো না। জানাজা, দাফন কাফন নিয়ে সকলে চিন্তিত হয়ে পড়ে। মসজিদের ইমাম মুয়াজ্জিনকেও পাওয়া যাচ্ছে না দাফন কাফনের জন্য। ঠিক সেই মুহূর্তে স্থানীয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে খবর পেয়ে লাশ দাফন কাফনে ছুটে আসেন গাউসিয়া কমিটি নামক এক আধ্যাত্বিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ১০ থেকে ১২ জন স্বেচ্ছাসেবক। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এগিয়ে আসেন তারা। লাশ গোসলের পর কাফন পরিয়ে জানাজা এবং শেষে দাফন করা হয় তাদের।
এটি গত ৫ জুনের ঘটনা।

গত ৪ই ডিসেম্বর করোনা আক্রান্তে মারা যাওয়া যুদ্ধ অপরাধীর দায়ে ফাঁসি হওয়া সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক লায়ন গভর্নর প্রফুল্ল রঞ্জন সিংহের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্মান জানানোর পর তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেন গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ।

এভাবে ধর্ম বর্ণ ভেদাভেদ ভুলে নিজের জীবন বাজি রেখে করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া লাশ দাফন ও সৎকারে ছুটে যাওয়া বর্তমান সময়ের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেন্জিং কাজ। করোনা কালের এই ভয়াল সময়ে অনন্য এক মানবিক সংগঠন গাউসিয়া কমিটির এই সহযোগিতা সবার কাছে উপমা হয়ে থাকবে। ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে ১৫৩৬ জন এবং শুধু চট্টগ্রামে ১২১০ জনকে দাফন কাফনে সহায়তা করে গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ। পাশাপাশি তারা ভিন্ন ধর্মাবলম্বী ২২ জনকে সৎকার কাজে সহায়তা করে।

করোনা আক্রান্তদের লাশ দাফন কাফনে যখন অতি প্রিয়জনরাও পালিয়ে যাচ্ছিলো, নিজের পিতা মাতার লাশ যখন সন্তান দাফন করছিলো না তখন গাউসিয়া কমিটির সদস্যরা পরম মমতায় একের পর এক লাশ দাফন করছে। করোনা কালের প্রথম ধাপে যখন মসজিদের ইমামকেও পাওয়া যাচ্ছিলো না তখন বাংলা শিক্ষিত হয়েও গাউসিয়া কমিটির সদস্যরা জানাজায় ইমামতি করেছেন। লাশ দাফনের পাশাপাশি গাউসিয়া কমিটির নিজস্ব অর্থায়নে নেয়া অ্যাম্বুলেন্স ও অক্সিজেন সিলিন্ডার সেবা দিয়েও মানুষের পাশে দাড়িয়েছে। করোলা কালে লকডাউন চলাকালীন যখন শ্রমজীবী মানুষের কোনো কাজ ছিল না তখন গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ খাদ্য বিতরণ করেও দুস্থ মানুষদের পাশে দাড়িয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৮৬ সালে সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (রাঃ) এই গাউসিয়া কমিটি প্রতিষ্টা করেন। সংগঠন সূত্রে জানা যায়, দেশের প্রতিটি জেলায় এই করোনা কালে গাউসিয়া কমিটির প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত তিন হাজার কর্মী লাশ দাফন ও সৎকার কাজে নিয়োজিত থাকে যা বর্তমানেও অবিরত রয়েছে। গাউসিয়া কমিটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মোসাহেব উদ্দিন বখতিয়ার বলেন, সরকারের সহযোগিতা থাকলে তারা এই মানবিক কাজকে আরো বৃহৎ পরিসরে রূপ দিতে পারতেন। তিনি আরো বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বাস্থ্যবিধি অনুসারে পিপিইসহ সকলকে দাফনের কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। গত ১৫ ই মার্চ গাউসিয়া কমিটির পক্ষ থেকে করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া লাশ দাফন কাফনের আগ্রহের কথা জানিয়ে জেলা প্রশাসকের সাথে যোগাযোগ করা হয়। পরবর্তীতে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, বিভাগীয় কমিশনার ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাথে কথা বলে ও পরামর্শ নিয়ে তারা এই কাজে অংশগ্রহণ করে। এই সংকটময় মুহূর্তে এমন কাজ সকলের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

• লেখক: রিফাত হোসেন ,  শিক্ষার্থী,  চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়


এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com