Logo
নোটিশ ::
আপনার যেকোনো সৃজনশীল লেখা পাঠিয়ে দিন আমাদের ঠিকানায়।আমাদের ইমেইল: hello.atharb@gmail.com

অনলাইন ক্লাসের এপিঠ ওপিঠ : রিফাত হোসেন

অঙ্কন ডেস্ক / ২৪০ বার
আপডেট সময় : বুধবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২০

“Today’s youth for tomorrow’s world” এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে পিছিয়ে পড়া শিক্ষা ব্যবস্থার অগ্রগতির লক্ষ্যে প্রণয়ন হয় অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থা। মহামারি করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে পুরো বিশ্বে যেমন অর্থনৈতিকভাবে অবনতি ঘটেছে ঠিক তেমনি শিক্ষা ব্যবস্থায়ও পড়েছে ভাঁটা। শিক্ষা ব্যবস্থার এই অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও পিছিয়ে নেই অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থায়। অনলাইন ক্লাসের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা এখন ভার্চুয়ালি বিভিন্ন সেমিনার এবং কর্মশালাতেও যোগদান করছে যা তাদের পিছিয়ে পড়াকে অনেকটা সামনে এগিয়ে নিচ্ছে।
নানামুখি সমস্যা এড়িয়ে এবং সারাদিনের একাকিত্ব গুছিয়ে অনলাইন ক্লাস শিক্ষার্থীদের কাছে অনেকটা আশির্বাদ স্বরূপ হয়ে এসেছে। অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বন্ধুত্বের মধ্যে যে দূরত্ব এবং শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগের মাঝে যে দেয়াল তৈরি হয়েছে তা অনেকটা কাটিয়ে নিয়েছে। অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের অ্যাকাডেমিক পড়া কিছুটা হলেও অবিরত রাখতে পারছে। সময় সুযোগ করে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে তাদের ইচ্ছে মতো যেকোনো সময় ক্লাস নিতে পারছে যা অফলাইনে একটা সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। আবার কোনো শিক্ষার্থী ক্লাস করতে না পারলে পরবর্তী সময় সে অন্য কারো থেকে স্লাইড যোগাড় করে নোট করে নিতে পারছে।
কিন্তু এই অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থার মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার ও উপযুক্ত সুযোগ সুবিধা না থাকায় অনেক সময় শিক্ষার্থীদের বিপর্যয়ের দিকে ঝুঁকে দিচ্ছে বলে আশংকা করা হচ্ছে।  এই অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থা যতটা না উপকারে এসেছে ঠিক ততটুকুই অপকার হচ্ছে বলে আশংকা করা হচ্ছে। অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থার চতুর্মুখী সমস্যা এবং অপকারের কারণে অবিভাবকরা এখন চিন্তিত হয়ে পড়ছেন। অবিভাবকদের এমন চিন্তার কারণে যে সমস্যা গুলো উঠে এসেছে তার মধ্যে অন্যতম হলো: শিক্ষার্থীরা দিনের বেশির ভাগ সময় ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকার কারণে বাস্তবতায় অনেক সময় ব্যাঘাত ঘটছে। কম্পিউটার বা মোবাইল ফোনের সাথে দিনের বেশির ভাগ সময় সংযুক্ত থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের মাথা ব্যাথা ও চোখের সমস্যা থেকে শুরু করে নানা শারীরিক জটিলতা দেখা দিচ্ছে। গ্রামে ভাল ইন্টারনেট সুবিধা না থাকায় অ্যাকাডেমিক পড়ায় শহুরে শিক্ষার্থীদের চেয়ে গ্রামের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ছে। অনলাইন ক্লাসের কারণে শিক্ষার্থীরা যে ভার্চুয়াল অভ্যাসে পরিণত হচ্ছে আগামীতে তা থেকে তাদের বেরিয়ে আনা অনেকটা চ্যালেন্জের সম্মুখীন হতে হবে।
শুধু শিক্ষার্থীরাই নন, দূরত্ব বাড়ার কারণে শিক্ষকদেরও নানামুখি ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে। অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের তেমন সাড়া না থাকায় শিক্ষকরা ক্লাসের সেই অনুভব পাচ্ছেন না। সময় স্বল্পতা এবং শিক্ষার্থীদের যাচাই করার তেমন সুযোগ না থাকায় সিলেবাস গুছিয়ে দিতে শিক্ষকদের অনেকটা বেগ পেতে হচ্ছে।
সর্বোপরি, অনলাইন ক্লাসের এই চতুর্মুখী সমস্যা গুলো থেকে পরিত্রাণ এবং অনলাইন ক্লাসের সর্বোচ্চ সুযোগ সুবিধা নিশ্চিতকরণে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত। দূর্বল ইন্টারনেট সুবিধা এবং যাদের অর্থনৈতিক অবস্থা মন্থর তাদের বিনামূল্যে ইন্টারনেট ডাটা দেয়া প্রয়োজন। সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় তাদের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে ১৫ জিবি ডাটা দিলেও এই ডাটা নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের অন্ত নেই। নির্দিষ্ট কিছু অ্যাপস সীমাবদ্ধ করে দেয়া হলেও অনলাইন ক্লাসের সময় সে ডাটার উপর্যুপরি ব্যবহার লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। চর ও হাওড় এলাকার শিক্ষার্থীরা ক্লাসে যুক্ত হতে পারছে না বললেই যথোচিত হবে। তাই ইন্টারনেটের এই মন্থর গতির পরিবর্তন এবং সকল প্রতিষ্ঠানে এভাবে বিনামূল্যে ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করা দরকার। আর অবিরত ক্লাস না দিয়ে শিক্ষার্থীদের কিছুটা অবসরের সুযোগ করে দেয়া দরকার। এতে করে শিক্ষার্থীরা ভার্চুয়াল অভ্যাসে পরিণত হওয়া থেকে রক্ষা পাবে।
লেখক:  রিফাত হোসেন , শিক্ষার্থী, সমাজতত্ত্ব বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ।


এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com