Logo
নোটিশ ::
আপনার যেকোনো সৃজনশীল লেখা পাঠিয়ে দিন আমাদের ঠিকানায়।আমাদের ইমেইল: hello.atharb@gmail.com

আইন প্রয়োগ করার মাধ্যমে ধর্ষণ বন্ধ হোক: মো. মাহমুদুল হাসান

অঙ্কন ডেস্ক / ২৬৮ বার
আপডেট সময় : রবিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২০

 

আমাদের দেশে প্রায় প্রতিবছর ধর্ষণের মতো এ জঘন্য তাণ্ডব চলছেই। এটার কোন স্থায়ী দমন মনে হচ্ছে নেই। দিনদিন এর মাত্রা বেড়েই চলছে। যতদিন গড়ায় আলোচনা হয়, বোধহয় এর মাত্রা কমতিতে নেই বরং গুণহারে বেড়েই চলছে। জাতিসংঘ পরিচালিত আন্তর্জাতিক গবেষক টিম ১০,০০০ মানুষের মধ্যে একটি জরিপ পরিচালনা করে। উক্ত জরিপে দেখা গেছে, তাদের জিজ্ঞেসাবাদে ৪৫ শতাংশ লোক বলেছে, যারা নাকি একাদিক মহিলাকে ধর্ষণ করেছে, ১১শতাংশ লোক যারা নিজ স্ত্রী ব্যাতিত অন্য মহিলাকে ধর্ষণ করেছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) অনুযায়ী, ২০১৯ সালে সারাদেশ ধর্ষণ ও গণধর্ষণের শিকার ১৪৩৭ নারী ও শিশু । যেটা ২০১৮ সালে ৭৩২ জনে ছিল। তাহলে আমরা দেখতে পাচ্ছি, দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আরো আচমকার বিষয়, ২০২০ সালের প্রথম দশদিনে সারাদেশে ১২৮টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। যেটা রীতিমত অভিভূত করে দেয়।
মনে হয়, দিনগড়ায় যত এটার দৌরগৌর তত নিকটে আসে। এটার কারণ হিসেবে প্রথমেই বলতে হয়, সবার উপরে আইন প্রয়োগ না করার প্রবণতা। সকলে শুধুমাত্র ভাইরাল হওয়াগুলোর কথা শুনেন। এগুলোর সংখ্যা খুবই সীমিত।

 

ফেনির নুসরাত রাফি, লক্ষীপুরের হিরামনী, ঢাবির ছাত্রী কিংবা এমসি কলেজে ধর্ষণের শিকার তরুণী। এগুলো ছাড়া মানুষজন নিউজ হওয়া এমনগুলোর কথাও জানেন না। যার জন্য এটির নিরোধগোড়ে কালোজল। আর নিউজ না হওয়া কিংবা লোকচক্ষুর আড়ালের গুলো বাদই। সেখানে দেখা যায়, ধর্ষিতার সামাজিক অবস্থানের ভয়ে, ইজ্জত টিকানোর জন্য কিংবা  কোর্ট কাচারির কারসাজির জন্য তারা এটা বার্স্টআউট করেন না। নিরবে যাতনা সহ্য করে যান। যতগুলো নিউজ হয়,সেগুলোও বিচারহীনভাবে পড়ে থাকে। যার জন্য দিনকে দিন এটা গুণহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

 

বংলাদেশের সংবিধানে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০, এর ৯ ধারায় ধর্ষণ ও ধর্ষণজনিত কারণে মৃত্যু ঘটানো ইত্যাদি অপরাধের সাজা সম্পর্কে আলোচনা করেছে। সেখানে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডও রাখা হয়েছে।ইসলামে ব্যাভিচার ও ধর্ষণ ভয়ংকর অপরাধ বলে গণ্য। ইসলাম বলছে, ব্যাভিচারের চেয়ে ধর্ষণ মারাত্মক। কেননা ব্যাভিচার হয় উভয়ের সম্মতিতে আর ধর্ষণ হয় নিচক একজনের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বল প্রয়োগ করে।
ধর্ষণ থেকে বাঁচতে যদি ধর্ষণকারীকে হত্যাও করতে হয়, তাতেও অনুমতি দিয়েছে ইসলাম।
হযরত সাঈদ (রা) বর্ণিত, রাসূল (সা) বলেন, “সম্ভ্রম রক্ষা করতে গিয়ে যে নিহত হয়েছে, সে শহীদ।” -( আবু দাউদ, তিরমিজি)
ইসলাম আরো বলে, কারো ইচ্ছার বিরুদ্ধে বল প্রয়োগে জোর করে যদি এ ঘৃণ্য কাজ করা হয়, তাহলে তার কোন পাপ হবে না। হাদিসে এসেছে- হযরত ইবনে আব্বাস (রা) বর্ণিত, রাসূল (স) ঘোষণা করেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের ভুলবশত করা অপরাধ, ভুলে যাওয়া কাজ, বলপ্রয়োগকৃত বিষয় ক্ষমা করে দিয়েছেন।” -( ইবনে মাজাহ)

 

ইসলামে এর শাস্তি দুই ধরনের। এক. ব্যাভিচারী যদি অবিবাহিত হয় তাহলে ১০০ বেত্রাঘাত। দুই. ব্যাভিচারী যদি বিবাহিত হয় তাহলে তাকে পাথর মেরে হত্যা করা হবে। তবে এক্ষেত্রে সমবেদনা কিংবা শিথিলতা কাম্য নয়। তাহলে ধর্ষণের শাস্তি অত্যন্ত ভয়াবহ না বুঝার উপায় নেই। পার্থক্য এটুকু সেখানে ভিকটিম বা ধর্ষিতার শাস্তি হবে না। বরং ইসলাম বলছে সে মাজলুম। বাংলাদেশের সংবিধানেও এটার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
তাহলে সমস্যা কোথায়? কেন এটা দিনদিন বেড়েই চলছে?বছরে ডাবল হয়ে যাচ্ছে??
তাহলে দখতে পাব, বার্স্টআউট হওয়া গুলোর অধিকাংশের দৃষ্টান্তমূলক কোন শাস্তি হচ্ছে না। এর কারণ হিসেবে কয়েকটি উল্লেখ করা যায়, আইনের শাসন না হওয়া। বিচারহীনতার সংস্কৃতি- প্রতিবছর এতোএতো ধর্ষণ, ক্ষুণ, ঘুম, বিচার বহির্ভুত হত্যাকান্ড, মজুদদারী, চোরাচালানী, মাদকদ্রব্যের প্রসার এগুলোর বিচার না হওয়া এটাই প্রমাণ করে।
কোন কোনটার বিচারকার্য চল্লেও উপযুক্ত বা
দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দেয়া। ব্যাপকহারে ক্ষমতাসীনদের অবৈধ সুপারিশে বিচার-আচারের বাইরে থেকে যাওয়া।তাই আইন থেকেও না থাকার সমান। এতে অপরাধী আরো উৎসাহী হয়।

 

তাই বলতে হয়, আজ সময় এসছে যথাযথ আইনপ্রয়োগের , কোন অপরাধীকে নিস্তার না দেয়া। “আইন সবার জন্য সমান” নীতি গ্রহণ করে বিচার বিভাগকে স্বচ্ছ করার। যেখানে কোন অপরাধীর নিস্তার মিলবে না। তাহলে এ জঘন্য কাজ শুণ্যের কোটায় নেমে আসবে বলে মনে হয়। তাই প্রশাসন ও বিচারবিভাগকে আরো সচেতন ও দায়িত্বপ্রবণ হওয়ার বিকল্প নেই।

 

 

লেখক:
মো মাহমুদুল হাসান
শিক্ষার্থী
ইতিহাস বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
Email:mdmahudulh576@gmail.com


এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com