Logo
নোটিশ ::
আপনার যেকোনো সৃজনশীল লেখা পাঠিয়ে দিন আমাদের ঠিকানায়।আমাদের ইমেইল: hello.atharb@gmail.com

অ্যান্টিবায়োটিক: আশীর্বাদ যেন হয়ে যাচ্ছে  অভিশাপ

অঙ্কন ডেস্ক / ৩০৯ বার
আপডেট সময় : শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২০

“স্বাস্থ্যই সকল সুখেল মূল”  বিষয়টি বর্তমানে করোনা মহামারীর কারনে আরে স্পষ্টত প্রতীয়মান হয়েছে। তবে করোনা পরবর্তী বাংলাদেশে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্য ঝুঁকি বয়ে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে তা হলো অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার।
মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করতে ব্যবহার করা হয় অ্যান্টিবায়োটিক।  আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের অন্যতম আশীর্বাদ হলো অ্যান্টিবায়োটিকের আবিষ্কার কিন্তু প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে অত্যধিক অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার, রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই এবং সেবনবিধি না মেনে অনিয়মিত অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের কারনে মানবদেহে তৈরি হচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স।
ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস বা তার বংশ বৃদ্ধি রোধ করার জন্য  অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা হ্রাস ফেলে তাকে বলা হয় অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স।
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর এবং বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থার যৌথ উদ্যোগে করা একটি সমীক্ষায় দেখা যায় গত দুই বছরে বাংলাদেশে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার ৩০.৮১ শতাংশ বেড়েছে।
ঔষধ প্রশাসন অদিধপ্তর থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ওটিসি ঔষধ ব্যতীত অন্য কোন ঔষধ প্রেসক্রিপশন ছাড়া বিক্রয় করা যাবে না।  তবে তাদের এই নির্দেশনা কতটুকু মেনে ফার্মেসিগুলো ঔষধ বিক্রি করছে একটি সমীক্ষার ফলাফল দেখলেই বুঝা যাবে। ২০১৫ সালে সিস্টেম ফর ইম্প্রুভড এক্সেস টু ফার্মাসিউটিক্যালস এন্ড সার্ভিসের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে ঔষধের দোকানে আসা  ৬৮ শতাংশ ক্রেতার কাছে প্রেসক্রিপশন থাকে না।
ঔষধ প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী সারাদেশে লাইসেন্সধারী খুচরা ঔষধের দোকান আছে ১,১৮,৯০১ টি এবং সমপরিমাণ লাইসেন্সবিহীন ঔষধের দোকানও রয়েছে।
সারাদেশের ন্যায় সুনামগঞ্জ জেলাতেও রয়েছে অসংখ্য লাইসেন্সবিহীন ফার্মেসী।
ঔষধ প্রশাসন সুনামগঞ্জ এর তথ্য অনুসারে লাইসেন্সধারী অ্যালোপ্যাথিক ঔষধের দোকান রয়েছে ১১৬৬টি কিন্তু লাইসেন্সবিহীন ঔষধের দোকান এর চেয়েও কয়েকগুন বেশি হবে। অধিকাংশ ফার্মেসীতে কোন ফার্মাসিস্ট না থাকলেও সব ধরনের রোগের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। মাঝেমধ্যে ছোট-খাটো অপারেশনও করানো হচ্ছে এসব ফার্মেসীতে।
মানুষ কেন রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ঔষধ সেবন করছে আবার ফার্মেসীগুলোই কেন প্রেসক্রিপশন ছাড়া ঔষধ বিক্রি করছে এর জন্য দায়ী যেসব কারন পাওয়া যায়,
প্রথমত ; জনসচেতনতার অভাব। অনেক ক্রেতা জানেন না তাকে যে ঔষধটা দেওয়া হয়েছে তা অ্যান্টিবায়োটিক বা ইহার সেবনবিধি আসলে কেমন। দ্রুত নিরাময় পাওয়া যায় বলে সাধারণ সর্দি জ্বর, কাশি, গলা ব্যথা বা মাথা ব্যথা হলেই সাধারণ মানুষ অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করে থাকেন। এই প্রসঙ্গে “দ্যা ডেইলি স্টার” পত্রিকায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইইডিসিআরের কর্মকর্তা ডা. জাকির হোসেন হাবিব বলেছিলেন, “ওষুধের অকার্যকারিতা দেখিয়ে দিচ্ছে আমরা দ্রুত আমাদের হাতে থাকা অব্যবহৃত সীমিত এন্টিবায়োটিক ঔষধগুলোও শেষ করে ফেলছি। যখন সেগুলোও কার্যকারিতা হারাবে, তখন সাধারণ অসুখেও কোন ঔষধ কাজ করবে না। অর্থাৎ রোগ নিরাময় হবে না।”
দিত্বীয়ত ; অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রিতে অনান্য ঔষধের তুলনায় লাভ বেশি হয় যার ফলে ফার্মেসীগুলো অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ বিক্রি করতে বেশি আগ্রহী যেকারণে সহজেই অ্যান্টিবায়োটিক কেনা যায়।
তৃতীয়ত ; ফার্মেসীগুলোতে ঔষধ প্রশাসনের জোরালো নজরদারি নেই যার ফলে ফার্মেসীগুলো জবাবদিহিতার বাহিরে থাকে এবং নির্ভয়ে প্রেসক্রিপশন ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক  ঔষধ বিক্রি করছে।
চতুর্থত ; ডাক্তারদের কাছ থেকে প্রেসক্রিপশন নিতে গেলে খুব উঁচুমানের ভিজিট ফি- দিতে হয় যা বিশাল একটা জনগোষ্ঠীর আয়ত্তের বাহিরে যার কারনে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়াই অনেক মানুষ ঔষধ সেবন করে থাকেন।
এন্টিবায়োটিকের যত্রতত্র ব্যবহার কমিয়ে আনতে হলে যেসব বিষয়ের প্রতি নজর দিতে হবে..
ক) জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। ঔষধ প্রশাসনের সারা দেশব্যাপী ব্যপক প্রচারণা চালাতে হবে যেন মানুষ বুঝতে পারে সাধারণ কোন রোগের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা বা রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা তাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতি বয়ে আনবে।
খ) ফার্মেসীগুলোকে সম্পুর্ণভাবে নজরদারিতে রাখতে হবে যেন ওটিসি ব্যতীত অন্যকোন ঔষধ প্রেসক্রিপশন ছাড়া বিক্রি করতে না পারে।  প্রয়োজনে কিছুদিন পরপর মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা যেতে পারে। ঔষধ প্রশাসননের নিদের্শনা ভঙ্গ করে প্রেসক্রিপশন ব্যতীত অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি করলে কি ধরনের সাজা ভুগতে করতে হবে সেই বিষয়টি সারাদেশে প্রচার করা যেতে পারে। প্রয়োজনে হটলাইন নাম্বার চালু করা যেতে পারে। বিএসএমএমইউর অধ্যাপক সায়েদুর রহমান বলেন, ডিজিডিএ এই অপরাধের জন্য ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করতে পারে। ওষুধের দোকানের মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করা যেতে পারে এবং দোকানটি বন্ধও করে দেওয়া যেতে পারে।
গ) এন্টিবায়োটিকের প্যাকেটগুলোকে আলাদা একটি রংয়ের করা যেতে পারে যেন মানুষ প্যাকেটটা দেখলেই বুঝতে পারে ইহা অ্যান্টিবায়োটিক। মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে যে ঐ রংয়ের প্যাকেটের ঔষধগুলো প্রেসক্রিপশন ছাড়া সেবন করা যাবে না।
ঘ) রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের ভিজিট ফি এমন একটা স্তরে নির্ধারণ করা যেতে পারে যেন তা সর্বস্তরের মানুষের নাগালের মধ্যে থাকে।
  • রিয়াজ উদ্দিন,  শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।


এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com