Logo
নোটিশ ::
আপনার যেকোনো সৃজনশীল লেখা পাঠিয়ে দিন আমাদের ঠিকানায়।আমাদের ইমেইল: hello.atharb@gmail.com

গল্প: শেষ ইচ্ছে || অনুপমা দাস বন্যা

অঙ্কন ডেস্ক / ৫৩ বার
আপডেট সময় : রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২০

রমা দেবী বিছানায় শুয়ে আছেন। প্রচন্ড ব্যাথা হচ্ছে সারা শরীরে,মনে হচ্ছে উঠার শক্তিটুকু নেই।  শরীরটা আজকাল তেমন ভালো যাচ্ছে না রমা দেবীর। বয়স তো আর কম হলো না। সবে পঞ্চান্ন তে পা দিয়েছেন। কোনরকম  আধশোয়া হয়ে কম্বল মুড়ি দিয়ে জানালার বাইরে তাকিয়ে আছেন। সকাল দশটা বাজে। এমন সময় সাথী এলো গরম চা আর মুড়ি নিয়ে। “কি গো ঠাকুমা, শরীর এখন কেমন? বেশি খারাপ লাগলে বল আমি বড়কর্তাকে ফোন দিব!” – সাথী বলল। রমা দেবী হেসে বললেন, “না গো গিন্নি, তোমায় আর কষ্ট করতে হবে না। আমি একদম ঠিক আছি। আর বড়কর্তাকে এনিয়ে কিছু বলিসনা। শুধু শুধু চিন্তা করবে। ” সাথী আবার বলল, “সে কত চিন্তা করে তা আমার জানা আছে। আচ্ছা এসব কথা বাদ দাও। বল কি খাবে?  এই শীতের সকালে গরম গরম ভুনাখিচুড়ি আর বেগুন ভাজা হলে কেমন হয়?” ভুনাখিচুড়ি আর বেগুন ভাজা শুনে খোকার কথা মনে পড়ে গেল রমা দেবীর। খোকার যে এই খাবারটা ভীষণ প্রিয়। বৃষ্টি হলেই ভুনাখিচুড়ি আর বেগুন বা মাছ ভাজ হলেতো আর কথাই নেই। হঠাৎ ভাবনার  জগৎ থেকে বেড়িয়ে এলেন সাথীর ডাকে।  “তুমি আবার বড়কর্তার কথা ভাবছো তো!  ইশ ঠাকুমা এসব ভাবনা চিন্তা ছেড়ে গরম চা আর মুড়ি খাও। আর আমি গিয়ে রান্নাটা করে আসি। “
-সাথী এটা বলেই রান্নাঘরের দিকে চলে গেল। আর এদিকে রমা দেবী বিছানা থেকে নেমে চাদর গায়ে জড়িয়ে জানালার পাশে একটা বেতের চেয়ারে আরাম করে বসলেন।জানলার বাইরে একপাশে বড় শিউলি ফুলের গাছ।এর সুভাসে ঘরের চারিদিকে মোঁ মোঁ করছে। এই গাছটা অবশ্য খোকাই লাগিয়েছিলো। গাছ লাগানো সখ ছিল তার। চায়ের কাপ হাতে নিয়ে অপলক দৃষ্টিতে জানলার বাইরে তাকিয়ে আছেন। চায়ের কাপে এক চুমুক দিয়েই আবার নিজের ভাবনায় ডুব দিলেন রমা দেবী।
খোকার বয়স যখন দশ বছর তখন আমাদের একা করে অপারে চলে গিয়েছিলেন আমার স্বামী। তিনি একটা প্রাইভেট ব্যাংকে চাকরি করতেন। আর আমি একটা সরকারি স্কুলের শিক্ষিকা। আমাদের একমাত্র সন্তান হলো খোকা, ভালো নাম হিমেশ সরকার। তিনি চলে যাওয়ার পর খোকাকে আমার একাই মানুষ করতে হয়। কোনকিছুর অভাব বুঝতে দেইনি। ধীরে ধীরে খোকা বড় হল। এসএসসি ও এইচএসসির রেজাল্ট ভালো হওয়ায় সে সিদ্ধান্ত নিল মেডিকেলে পড়বে। চান্সও পায় তবে সেটা ঢাকা। তাই ওকে হোস্টেলে থেকে বাকি পড়াশোনা করতে হবে। খোকা হোস্টেলে চলে গেল ওর স্বপ্নপূরণের জন্য। মাঝে মাঝে বড়িতে আসতো তবে দু-তিন দিনের জন্য।  পরে আবার আমি বাড়িতে একাই থাকতাম। ওর যখন ডাক্তারি পড়া প্রায় শেষের দিকে… ” “ঠাকুমা খাবে চল। ঠান্ডা হয়ে গেলে মজা লাগবে না ” – সাথী এসেই হাত ধরে নিয়ে গেল খাবার টেবিলে।
সাথী সাত বছর বয়স থেকেই রমা দেবীর কাছে মানুষ হচ্ছে। সাথীর মা-বাবা দুজনেই রমা দেবীর বাড়িতে কাজ করতেন। সাথীর জন্মের সময় মা মারা যায় আর সাত বছর বয়সে ওর বাবা। তারপর থেকেই রমা দেবীর কাছে থাকছে। তিনিই ওকে পড়াশোনা করাচ্ছেন।
এখন বিকেল চারটে বাজে। রমা দেবী সেই বেতের চেয়ারে বসে, গায়ে চাদর মুড়িয়ে, চোখে মোটা চশমা পড়ে খোকার বিয়ের অ্যালবাম দেখছেন। এমন সময় সাথী তেল নিয়ে উপস্থিত।
“দেখি এই অ্যালবামটা রেখে চুপটি করে বসো। আমি চুলে তেল দিয়ে দেই” – সাথী বলল।
রমা দেবী অ্যালবামটা টেবিলে রেখে সাথীকে বললেন-“সারাদিন কত কাজ করিস নারে! এই বুড়িটাকেও দেখতে হয়। আমি তোকে কাজে কোন সাহায্যও করতে পারি না.. “
” হয়েছে বাপু!! আর বলতে হবে না। আমি কাজ পারি বলেই করি। যদি না পারতাম তাহলে এই কাজগুলো এখন কে করতো শুনি। আর কথা বলোনা আমি চুলে তেল দিয়ে দেই ” – সাথী।
সাথী চুলে তেল দিয়ে দিচ্ছে আর রমা দেবী চোখ বন্ধ করে আবার সেই অতীতে ডুব দিলেন।
“হ্যালো “
“হ্যাঁ মা বলো। কেমন আছো তুমি?”
” ভালো আছি খোকা। একটা কথা বলার ছিল “
” বলো”
” আমি না তোর বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তুই কি বলিস?”
” ইয়ে মানে তুমি যা ভালো মনে কর “
” আচ্ছা তোর কি কোন পছন্দ আছে? থাকলে আমাকে বলতে পারিস। আমি জোর করবো না তোকে “
” আসলে মা, আছে। মেয়েটা আমার সাথেই পড়ে। তুমি যদি চাও ওকে একদিন আমাদের বাড়িতে নিয়ে আসবো। কথা বলে দেখতে পারো “
কিছুক্ষণ চুপ থেকে রমা দেবী উত্তর দিলেন – ” ঠিক আছে নিয়ে আয় “
” ওকে মা “
” হুম ” বলেই রমা দেবী ফোনটা রেখে দিলেন।
আজকালকার ছেলে-মেয়েদের মতের বিরুদ্ধে কিছু করা এতটাও সহজ না। তাও বিয়ে নামক এমন বন্ধনে।  মা-বাবার পছন্দে হোক বা নিজের পছন্দে বিয়ে করার পর যদি মানিয়ে নিতে না পারে তখনতো আবার সংসারজীবনে অশান্তি আর নয়তো ডিভোর্স। এজন্য রমা দেবী হিমেশের কথা মেনে নিলেন।
পরদিন শুক্রবার। সকাল থেকে রমা দেবী রান্নাঘরে ভীষণ ব্যস্ত। অনেকদিন পর আজ তার খোকাকে দেখতে পাবেন।  দুপুর ১:০০ টায় হিমেশ বাড়িতে এলো সাথে একটি মেয়ে। রমা দেবী এতদিন পর ছেলেকে দেখে প্রায় কেঁদেই দিলেন। ছেলের কপালে একটা চুমু দিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। ” কতদিন পর এভাবে জড়িয়ে ধরলাম বাবা। কেমন আছিস? ” স্নেহময় দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললেন। হিমেশ চোখের জল মুছিয়ে দিয়ে বলল -” ভালো আছি মা। পরিচয় করিয়ে দেই। এ হলো রুপা রায়। যার কথা তোমাকে বলেছিলাম।” এতক্ষণে রমা দেবী পাশে দাঁড়ানো সুন্দরী মেয়েটির দিকে তাকালেন। পড়নে লাল পাড় কালো শাড়ি, একহাতে ঘড়ি আরেকহাতে দুগাছা চুড়ি, গলায় একটা চেইন, কানে বড় ঝুমকো, চুল খোঁপা করা, চোখে মোটা করে কাজল, কপালে ছোট্ট কালো টিপ আর ঠোঁটে মিষ্টি হাসি। দেখেই কোনো প্রতিমা মনে হচ্ছে। রমা দেবী যেন চোখ ফেরাতে পারছিলেন না। মেয়েটি রমা দেবীকে প্রণাম করতেই রমা দেবী মেয়েটিকেও বুকে জড়িয়ে ধরলেন আর বললেন – ” খুব মিষ্টি দেখতে তুমি “
হিমেশ তার মাকে জিজ্ঞেস করল – ” পছন্দ হয়েছে মা? “
“হ্যাঁ রে বাবা। অনেক পছন্দ হয়েছে ” – রমা দেবী।
দুপুরের খাওয়া দাওয়া শেষ করে রুপার সাথে গল্প করছিলেন রমা দেবী। এমন সময় হিমেশ এসে বললো তারা বিকেলেই রওনা দিবে। আজকেই চলে যেতে হবে কথাটা শুনে রমা দেবী বললেন – ” এইতো এলি তোরা। এখনই চলে যাবি? “
” মা কালকে আমাদের ইম্পর্ট্যান্ট ক্লাস আছে। যেতেই হবে ” – হিমেশ বললো।
” ওহ্ ; আচ্ছা। রুপা তোমার মা বাবাকে বলো আমার সাথে পাকা কথা বলতে ” – রমা দেবী বললেন।
রুপা জবাবে মাথা নাড়িয়ে সায় দিল। বিদায়ের আগে রমা দেবী শুধু হিমেশকে বললেন – ” তুই খুশিতো খোকা? ”  হিমেশ রমা দেবীকে জড়িয়ে বলল, ” হুম মা। অনেক খুশি “
বিদায় নিয়ে হিমেশ ও রুপা বেরিয়ে গেল। তার একমাস পর রুপার পরিবারের সাথে পাকা কথা বলে হিমেশ ও রুপার ধুমধাম করে বিয়ে হয়ে যায়। বিয়ের পর একমাস অবশ্য হিমেশ ও রুপা  রমা দেবীর কাছেই ছিল। এরপরই তাদের আবার ঢাকা চলে যেতে হবে।
” মা তুমিও আমাদের সাথে চলো। এখানে তুমি একা কি করে থাকবে? ” – হিমেশ বলল
” না রে। এই বাড়িতে তোর বাবার অনেক স্মৃতি রয়েছে। অন্যকোথাও মন আমার টিকবে না তোরা যা, মাঝে মাঝে  এসে আমাকে দেখে যাস ” – রমা দেবী
রমা দেবীকে আর তাদের সাথে নিতে পারে নি হিমেশ। তারা ঢাকা চলে গেল। রমা দেবী আবার একা হয়ে গেলেন। তার কিছুদিন পরই সাথীকে নিয়ে  এলেন। রমা দেবী মাঝে মাঝে আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবেন -”  খোকাটা কত পাল্টে গেছে। আগে প্রতিদিন ফোন দিয়ে খবর নিত। আস্তে আস্তে সেটা সপ্তাহে একদিন হয়ে গেল পরে সেটা মাসে একবার হয়ে গেল। ” আযানের শব্দে বাস্তবে এলেন রমা দেবী।
” কি রে তোর হ… একি তুই বিছানায় বসে আমার দিকে ওমন হা করে তাকিয়ে আছিস কেন?” – রমা দেবী সাথীকে বললেন
” যাক, শেষ পর্যন্ত তুমি তোমার ভাবনার সাগর থেকে উঠে এলে। সবসময় বড়কর্তার কথা ভাবো। তার কথা ভেবেই নিজের শরীরটা খারাপ করছো “
” তুই কি করে বুঝলি আমি খোকার কথা ভাবছি? “
” সে ছাড়া আর কার কথা ভাববে তুমি শুনি! আচ্ছা ঠাকুমা তুমি বসো আমি সন্ধ্যেটা দিয়ে আসি। “
পরদিন যেন রমা দেবীর শরীরটা আরও বেশি খারাপ হয়ে গেল। সাথী রমা দেবীর পা টিপে দিয়ে বলল –    ” তুমি দেখছি দিন দিন আরও অসুস্থ হচ্ছো। চলোনা গো ডাক্তার দেখিয়ে আসি? “
” না রে। বয়সতো আর কম হল না৷ দুর্বলতার কারনে হয়তো এমন হচ্ছে। শুন ফোনটা দে না। খোকার সাথে কথা বলবো “
সাথী ফোন রমা দেবীর হাতে দেয়। রমা দেবী হিমেশকে ফোন দেন। অপাশ থেকে রিসিভ হয়
” হ্যালো মা “
” কেমন আছিস খোকা? “
” ভালো। তোমার গলা এমন শোনায় কেন? অসুস্থ নাকি? “
” তেমন কিছু নারে । ঐ একটু আরকি। কবে আসবি বউমা আর নাতিকে নিয়ে? শেষবার নাতির অন্নপ্রাশনের আগে এসেছিলি আর অন্নপ্রাশন শেষ করে কয়েকদিন থেকেই চলে গেলি। এরপর তিন-চার বছরে আর একবারও এলিনা। ফোন দেওয়া কমিয়ে দিছিস। কয়েক দিনের জন্য আয় নারে ওদেরকে নিয়ে! নাতিটাও এখন অনেক বড়  হইছে তাইনারে “
” মা এখন ব্যস্ততা অনেক। রুপা আমি দুজনেই খুব ব্যস্ত থাকি। বুজতেই পারছো দুজনেই ডাক্তার। রাতদিন পেশেন্ট থাকে, কি করে বাড়ি আসি বলতো এখন! তাছাড়া তুমিই চলে এসোনা সাথীকে নিয়ে। তোমার নাতির সাথে সময় ভালো কাটবে “
” নারে আমি আসবোনা। এই বাড়ি ছেড়ে আমি কোথাও যাবো না। রাখছি ” – বলেই রমা দেবী ফোন কেটে দেন। খুব রাগ হয় হিমেশের উপর। ডাক্তার বলে কি মাকে দেখতে আসবে না!  এতো ব্যস্ততা!  চুপ করে শুয়ে রইলেন।  এখন সারাদিন তাঁর শুয়ে বসে কেটে যায়।  এখন হিমেশ মস্তবড় ডাক্তার। অবশ্য ডাক্তার হওয়ার পর হিমেশ বলেছিল রমা দেবীকে মাসে মাসে টাকা পাঠাবে কিন্তু রমা দেবী না করে দেন। কারন এত টাকার প্রয়োজন নেই। পেনশনের টাকা দিয়ে মোটামুটি চলে যায়।
কয়েকদিন পর বিকেলে আবার ফোন দেন হিমেশকে। রিসিভ হতেই রমা দেবী বলে উঠলেন –     ” খোকা তুই আজকেই চলে আয়৷ তোরে দেখার জন্য মনটা খুব উতলা হয়ে আছেরে। মনে হচ্ছে আজকে তোরে না দেখলে আর কখনোই দেখবোনা। তোরে শেষ দেখাটা দেখি। আমার এই শেষ ইচ্ছেটা রাখ..”
”মা আমি আজকে আসতে পারবোনা। কালকে গিয়ে তোমায় নিয়ে আসবো “- বলেই ফোন কেটে দেয় হিমেশ। রমা দেবী কিছুক্ষণ ফোনের দিকে তাকিয়ে রইলেন। চোখের জল যেন আজ কোন বাধা মানছে না। জানালার বাইরে সেই শিউলি গাছটার দিকে তাকিয়ে আছেন। তিনি হয়তো বুঝতে পারছেন তার সময় ঘনিয়ে এসেছে, তাইতো ছেলেকে দেখার তীব্র ইচ্ছা বার বার মনে জেগে উঠছিল। যা হিমেশের হৃদয়ে বুঝতে পারেনি।
 রাতের খাবার খেয়ে যখন ঘুমাতে গেলেন হঠাৎ কি মনে করে খাতা কলম নিয়ে একটা চিরকুট লিখলেন। রমা দেবীর মন বার বার বলছে কাল তার খোকা আসবে কিন্তু তাকে হয়তো আর দেখতে পাবেনা। খোকাকে দেখার শেষ ইচ্ছে অপূর্ণ রয়ে যাবে।  ঘুমাতে যাওয়ার আগে কিছুক্ষণ রমা দেবী তাঁর স্বামীর ছবির দিকে তাকিয়ে বললেন – ” তোমার সাথে হয়তো আমার ওপারে দেখা হবে ”  তারপর আস্তে আস্তে চোখ বন্ধ করে ঘুমিয়ে গেলেন।
পরদিন খুব ভোরে হিমেশ রওনা হয় বাড়ির উদ্দেশ্যে।  কিন্তু সে তো আর জানতো না যার জন্য যাচ্ছে সে আর তার অপেক্ষায় বসে নেই। বাড়িতে আসার পর থমথমে পরিবেশ, এত লোকজন আর কারো কান্নার আওয়াজ শুনে হিমেশ ঘাবড়ে যায়। সে তার মায়ের রুমে দৌড়ে যায় আর দেখে রমা দেবী বিছানায় চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছেন এবং বিছানায় হেলান দিয়ে সাথী কান্না করছে।  তার আর বুঝতে বাকি রইল না সে দেরী করে ফেলেছে। ধীরে ধীরে রমা দেবীর পাশে গিয়ে বসলো হিমেশ। তার পাশে ছোট টেবিলের উপর থাকা চিরকুট হাতে নিল৷ তাতে লেখা ছিল –    ” আমার সময় হয়তো ঘনিয়ে এসেছে খোকা।শেষ দেখা আর হলো না।  সাথীকে দেখে রাখিস। ” এই দুইলাইন পড়েই হিমেশ ঝাপিয়ে পড়ল রমা দেবীর বুকে। আজ সেও চিৎকার করে কাঁদছে আর বিড়বিড় করে বলছে –  তোমার ইচ্ছে পূরণ করতে পারিনি। তুমি আমায় শেষবারের মতো বুকে জড়িয়ে ধরতে পারলে না।


এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com