Logo
নোটিশ ::
আপনার যেকোনো সৃজনশীল লেখা পাঠিয়ে দিন আমাদের ঠিকানায়।আমাদের ইমেইল: hello.atharb@gmail.com

একটি নিষ্টুর ভালোবাসার গল্প : সৌরভ শেখ

অঙ্কন ডেস্ক / ৮৮ বার
আপডেট সময় : শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২০

কোনো এক কুয়াশা ভরা সকালে রিমির সাথে দেখা হয়েছিলো নীরবের। প্রথম দেখাতেই নিরবের ভালো লেগে যায় রিমিকে । তারপর জোগাড় করে রিমির ফোন নম্বর। আস্তে আস্তে বন্ধুত্ব। তারপর প্রেম।
নিরব অনার্স ফাইনাল ইয়ারে পড়তো ভিক্টোরিয়া কলেজে। শহরের ওপর মেসে থাকতো।
নিরবের বাবা ছিলো কৃষক। তাই তো বাবার পাঠানো সামান্য টাকায় কষ্টেই পড়াশোনা করতে হতো নিরবকে।
রিমি ইন্টার পাশ করেছে সে বছর। রিমির বাবা পোস্টমাস্টার। ভালো অঙ্কের বেতন পেলেও পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেশি হওয়ায় পরিবার নিয়ে কষ্টে চলতে হতো।যদিও রিমিকে কষ্টে পড়াশোনা করতে হতো কিন্তু নিরবের সাথে প্রেম করার পর থেকে নিরবই রিমির পড়ার খরচ চালাতো।
রিমির সাথে প্রেম করার পর থেকে নিরব মরিয়া হয়ে পড়েছিলো টিউশনি করানোর জন্য।অনেক চেষ্টার পর এক বড় ভাইয়ের মাধ্যমে দুটো টিউশনি পেয়েছিলো নিরব।তারপর থেকে নিজের পড়া বাদ দিয়ে টিউশনিতে মনোযোগ, টিউশনির সমস্ত টাকা দিয়ে রিমির আবদার মিটানো যেনো নিরবের মূল্যবান দায়িত্ব হয়ে দাড়িয়েছিল।

 

 

প্রতিদিনের নিয়মে সেদিনও রাত করে নিরব টিউশনি করে বাসায় ফেরে। সকালের ঘুম ভাঙ্গতে না ভাঙ্গতেই নিরবের মোবাইলে হরদম রিং বেজে যাচ্ছিলো। রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে রিমি,
-নীরব, নীরব ওই নীরব কিছু করতে পারছো?
-কিসের কথা বলছো?
-ফরম তোলার ব্যাপারে কিছু করলা?
-আরে টেনশন করো না। ব্যবস্থা হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ।
-আর মাত্র দুদিন বাকি, মনে রেখো কিন্তু
-ওকে বাবা, চিন্তা করো না। এখনই ঘুম দেই।
বলেই ফোনটা কেটে দেয় নিরব।

 

কিন্তু তারপর আর নিরবের ঘুম হয় না। নিরব চিন্তা করতে থাকে কিভাবে এতোগুলো টাকা জোগাড় করবে? টাকা জোগাড় না করতে পারলে যে রিমির স্বপ্ন পূরণ হবে না।
ইন্টার পরীক্ষার রেজাল্টের দিন রিমি নিরবকে বলেছিলো ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখার কথাটা। তাই তো নীরব ৩ মাসের টিউশনির টাকা দিয়ে রিমিকে কোচিং সেন্টারে ভর্তি করেছিল। এখন ফরম তুলতে ৫ হাজার টাকার প্রোয়জন। নিরব ভেবেই পাচ্ছে না কি করবে। এদিকে মাসের ৫ তারিখ তাই টিউশনির টাকাও পাওয়া যাবে না।

 

নিরব বাড়িতে ফোন করে বাবার কাছেই টাকাটা চাইলো,
– হ্যালো বাবা। আমার ৫ হাজার টাকার খুবই দরকার। যে করে হোক পাঠিয়ে দাও।
– তোকে তো ১০ দিন আগে ৩ হাজার টাকা দিলাম। সব শেষ?
– বাবা তুমি দিবা কি, না সেইটা বলো?

নিরবের বাবা গরিব হলেও ছেলেদের চাওয়া কখনও বাকি রাখতেন না। ছেলেদের অনেক বড় হবার স্বপ্ন দেখতেন। তাই তো ধার দেনা করে নিরবকে ৫ হাজার টাকা পাঠায়।
বাবার পাঠানো টাকা পেয়ে নিরব শহর থেকে রিমির রোল দিয়ে মেডিকেলের ফর্ম পূরণ করে।
রিমিকে সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য নিরব ফর্ম তোলার কথা কিছুই রিমিকে জানায় না।তবে ফোন করে বিকালে কলেজ ক্যাম্পাসে আসতে বলে রিমিকে।

 

বিকালে রিমি কলেজে আসতেই দেখে নিরব দাড়িয়ে আছে গেটে। রিক্সা থেকে নেমে নিরবকে দিয়ে রিক্সা ভাড়াটা দেওয়ায় রিমি।তারপর দুজন হাটতে শুরু করে। গল্প করতে করতে নিরব ব্যাগ থেকে মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষার এডমিট কার্ডটা বের করে দেয় রিমির হাতে। এডমিট হাতে পেয়ে রিমি তো খুশিতে আত্মহারা।
তবে রিমির এমন আনন্দঘন মুহূর্তে নিরব রিমিকে কিছুটা কষ্ট দিয়েছিলো সেদিন।
নিরব আর রিমি দুজন দুজনার সাথে মোবাইলে কথা না বলে থাকতে পারতো না।তবু নিরব রিমিকে বলেছিলো,
-আজ থেকে তোমার ভর্তি পরীক্ষার দিন পর্যন্ত আমি তোমার সাথে যোগাযোগ করবো না। নিজের যত্ন নিও আর ভালো করে প্রস্তুতি নিও। তোমাকে ডাক্তার হতে হবে।
তারপর কথা বলতে বলতে নিরব রিমিকে বাসা পর্যন্ত এগিয়ে দেয়।

 

সেদিন থেকে ১০ দিন নিরবের সাথে রিমির যোগাযোগ হয় না। দীর্ঘ ১০ দিন পর রিমির ভর্তি পরীক্ষার দিনটা এসে যায়। নিরব সকাল সকাল গোসল সেরে রিমির বাসার সামনে হাজির হয়। রিমি বাসা থেকে বেরিয়ে নিরবের সাথে রিক্সায় করে গার্লসস্কুলের দিকে যায়।রিমির সিট পড়েছিলো গার্লস্কুলে। স্কুলের সামনে গিয়ে নিরব রিমিকে নানান কথা বলে অনুপ্রেরণা দেয় । কারণ নিরব জানতো নিরবের দেওয়া অনুপ্রেরণা রিমির মনকে শক্ত করবে। তারপর রিমি পরীক্ষার হলে ঢুকে।
এদিকে নীরব হলের সামনে দাড়িয়ে আল্লাহকে ডাকতে থাকে, রিমি যেনো চান্স পায় সেই কামনা করতে থাকে।
১ ঘন্টা পর রিমি পরীক্ষা দিয়ে বের হয়ে দেখে নিরব দাড়িয়েই আছে।
– তুমি সেই থেকে দাড়িয়েই আছো নিরব?
– হ্যা। একদিন না হয় দাড়িয়েই থাকলাম। কিচ্ছু হবে না।ব লো পরীক্ষা কেমন দিলা? চান্স পাবেতো?
– ইনশাল্লাহ
নিরব আকাশের দিকে তাকিয়ে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে রিমিকে নিয়ে রিক্সায় ওঠে। বাসার সামনে এসে রিমিকে নামিয়ে দেয়। তারপর নিরব বাসায় চলে যায়।

 

পরদিন ভোর না হতেই নিরবের ঘুম ভাঙ্গে একটা দুঃস্বপ্ন দেখে। নিরব রিমিকে কল দেয়। কিছুক্ষণ রিমির সাথে কথাও বলে।তারপর সকালের খাবার খেয়ে রিমির রেজাল্ট জানার জন্য শহরে গিয়ে কম্পিউটারের দোকানে ভিড় জমায়।
সকাল থেকে অপেক্ষার পর দুপুর একটায় রেজাল্ট পাবলিশ হয়। রিমির রোল দিয়ে সার্চ করতেই নিরব দেখতে পায় রিমি মেডিকেলে চান্স পেয়েছে।
যদিও রিমির চান্স পাওয়ার খবরটা নিরবকে আনন্দিত করার কথা তবু খবরটা নিরবকে কাতর করে দেয় কারণ রিমি মেধা তালিকার সিরিয়ালে একটু দূরে থাকায় অন্য জেলার মেডিকেল কলেজে চান্স পায়।
রিমির চান্স পাওয়ার খবরটা নিরব রিমির বাসার সামনে গিয়েই ওকে দেয়। কিন্তু নিরবের মনটা একটু বেজার দেখে রিমি নিরবকে বলে,
– আমি চান্স পেয়েছি এতে তুমি খুশি নয় তাই তো।

 

নিরব তখন রিমির কথার কোনোই উত্তর দেয়নি বরং সেখান থেকে হেটে চলে এসেছিল। আসার সময় নিরব ভাবতেছিলো যে, রিমি মেডিকেলে চান্স পাওয়ার প্রথম দিনেই আমাকে ভুল বুঝলো?

 

তারপর বাসায় এসে হাতমুখ ধুয়ে নিরব রিমিকে ফোন দিয়ে,
– রিমি তুমি মেডিকেল কলেজে চান্স পাওয়ায় সবচাইতে খুশি কেউ হলে এই নিরব হয়েছে।আর তুমি ভুল বুঝলে?
– মজা করছিলাম। লাভ ইউ সোনা বাবু।
– লাভ ইউ।
এভাবে কথা চলতে থাকে……

 

প্রতিনিয়ত ফোনে কথা বলা,কলেজ মোড়ে দেখা করা যেনো নিরব আর রিমির রুটিন হয়ে দাড়িয়েছিলো।
হটাৎ একদিন রিমির মোবাইলে ভর্তি হওয়ার জন্য ঠাকুরগা মেডিকেল কলেজ থেকে মেসেজ আসে।
রিমি নিরবকে ফোন করে জানায়।
নিরবের মনটা খারাপ হয়ে যায়। রিমি চলে গেলে কার সাথে রোজ দেখা করবে এসব ভাবতে থাকে। তবুও মনকে শান্তনা দেয় রিমির স্বপ্নের কথা চিন্তা করে।
২৫ তারিখ রিমি চলে যাবে ঠাকুরগা তাইতো যাওয়ার আগের দিন নিরবের সাথে কাটায় দিনটা।
রিমি নিরবকে অনেক কথা বলে যায়, অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়ে যায়। রোজ ফোন করে কথা বলবে, রিমির জন্য কখনও মন বেশি খারাপ হলে ঠাকুরগা গিয়ে দেখা করে আসতে বলে নিরবকে ইত্যাদি।
রিমি যাওয়ার দিন নিরব ১০ হাজার টাকা রিমিকে দেয় আর বলে প্রত্যেক মাসে টিউশনির টাকা পেলে রিমির জন্য পাঠাবে।
সকাল ১০ টার ট্রেনে রিমি যাত্রা করে ঠাকুরগায়ে। রেলস্টেশনে বসেই দিনটা কাটিয়ে দিয়েছিলো নিরব।

 

রিমি ঠাকুরগায়ে পৌছে পরদিন বিকালে নিরবকে কল করে। নিরব কল রিসিভ করতেই রিমি,
– যানো নিরব, যেমন ভেবেছিলাম তেমন না।কলেজটা অনেক সুন্দর। আমার মনে ধরেছে। আজ ভর্তি হয়ে নিয়েছি। জেলা শহরে ঢুকেই একটা পার্ক আছে গাড়ি থেকে দেখলাম। খুবই সুন্দর। তুমি আসলে দুজন হাত ধরে হাটবো। এখানে কেউ আমাদের চিনবেই না।

– একদিন যাবো রিমি। সেদিন যেনো হাতধরে হাটতে পারি এরকম সুযোগ দিও।

কথা চলতে থাকে দুজনের……

পরদিন রিমির প্রথম ক্লাশ । তাই তো শাড়ি পরে সেজেগুজে বের হয়।প্রথম ক্লাশে গিয়ে পরিচিত হয় সকল বন্ধু, বান্ধবীদের সাথে।ক্যাম্পাসে ঘুরতেই প্রথমদিনেই রিমির একটা ভালো বন্ধু হয়ে যায়। সেও রিমিদের ব্যাচ।তারেক নাম তার।

তারপর থেকে রোজ নিয়ম করে তারেকের সাথে রিমির চলাফেরা। সকাল সন্ধ্যা আড্ডা আর এদিক সেদিক ঘোরাফেরা। তারেক রিমিকে একটা টিউশনিও ঠিক করে দিয়েছিলো ঠাকুরগা শহরে। রিমি টিউশনি করিয়ে যে টাকা পেতো তা দিয়েই রিমির খরচ ভালোকরে চলে যেতো। তাই তো একদিন রিমি নিরবকে ফোন করে,

– নিরব এখন থেকে তুমি আর আমাকে টাকা পাঠাবে না। আমি একটা টিউশনি পেয়েছি।সে টাকা দিয়েই আমার খরচ ভালো ভাবে চলে।
– পাগলীটা কষ্ট করে টিউশনি করতে গেছো কেনো?
– তোমাকে আর কত কষ্ট দেবো বলো? তুমিও তো কতো কষ্ট করে টিউশনি করাও। তাই এখন থেকে একটু নিজের পড়ার দিকে মন দিও নিরব।

রিমির এত কেয়ারিং দেখে নিরবের একটু অন্যরকমই ভালো লাগেছিলো সেদিন।

এদিকে ক্যাম্পাসে রিমি কাউকে বলেনি ও নিরবকে ভালোবাসে। এমন কি বেস্টফ্রেন্ড তারেকেও না। তাই তো তারেক একদিন রিমিকে প্রেম নিবেদন করে আর আজীবন একসাথে চলার কথা বলে। রিমি তারেককে তার প্রেমিক নিরবের কথা কিছুই বলতে পারে না কারণ রিমি জানতো নিরবের কথা শুনলে তারেক কষ্ট পাবে। রিমি কিছুক্ষণ ধরে ভাবে, নিরব এখান থেকে অনেক দূরে থাকে তাই ও কিচ্ছু বুঝতে পারবে না তারেকের সাথে প্রেম করলে।
কিছুক্ষণ এসব ভেবে রিমি তারেকের প্রেম নিবেদনে রাজি হয়ে যায়।
তারপর থেকে তারেকের সাথে অন্যরকম ভাবে ক্যাম্পাসে দিন পার করতে থাকে।

আর এদিকে নিরবের সাথে কথা ছিলো দুজন প্রতিদিন কথা বলবে, খোঁজ খবর নিবে। কিন্তু নিরব কল করলে রিমিকে বিজি পায়। আবার কখনও রিমি নিরবের কল রিসিভ করে বলে ক্লাসে আছি কিংবা টিউশনিতে আছি।
কিন্তু নিরব খুব ভালো মনের মানুষ। রিমির ব্যস্ততার কথা নিরব সহজেই বিশ্বাস করে নেয়। এভাবে কথা হয় তো হয়না, রিমি ব্যস্ত আছে, টিউশনিতে আছে। কেটে যায় ৫ মাস।

নিরবের ডাইরির পাতায় লিখে রাখা রিমির জন্মদিনের আর মাত্র ২ দিন বাকি। নিরব রিমির এই জন্মদিনে ঠাকুরগা যাবে ঠিক করেছে। তাই তো নিজের পছন্দ মত নিরব রিমির জন্য ২ টি শাঁড়ি কেনে। পরদিন সকাল সকাল ট্রেনে করে ঠাকুরগায়ের পথে চলতে শুরু করে।
নিরব যে রিমির ক্যাম্পাসে যাবে এসব কিছুই রিমিকে বলেনি। কারণ, নিরব রিমিকে সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিলো। ঠাকুরগা স্টেশনে নেমে নিরব রিক্সায় করে মেডিকেল কলেজের দিকে রওয়ানা হয় । মেডিকেল কলেজের গেটে যেতেই পেছন থেকে নিরব একটি মেয়ে আর একটি ছেলেকে হাত ধরে হাটতে দেখে। কিছুদূর এগিয়ে তারা পুকুর পাড়ে বসে। মেয়েটি ব্যাগ থেকে টিফিনবক্স বের করে ছেলেটিকে কি যেনো খাইয়ে দিচ্ছে।
নিরব মনে মনে ভাবে ওই ছেলে আর মেয়ের কাছে রিমির কথা জানতে চাইলে ওরা হয় তো বলতে পারবে রিমি কোন ভবনে ক্লাস করে। তাই তো নিরব তাদের ফলো করে হাটতে থাকে।

 

 

কিছুদূর এগিয়ে নিরব যখন তাদের সামনাসামনি হয় তখন নিরব দেখতে পায় সেই মেয়েটা আর অন্য কেউ নয়। রিমিই সেই মেয়ে।

নিরবের বুকটা ফেটে আসছিলো তখন। রিমির হাতে অন্য ছেলেকে খাইয়ে দেওয়ার দৃশ্য নিরবের চোখে পৃথিবীর সবচাইতে নিষ্ঠুর বলে মনে হচ্ছিল। তাই তো নিরব আর বেশিক্ষণ দাড়ায়নি সেখানে। পেছন কেটে চলে আসে নিরব। তবে রিমি নিরবকে দেখতে পায়নি।

 

তারপর নিরব স্টেশনে এসে রিমিকে কল দেয়। রিমি রিসিভ করতেই এপাশ থেকে নিরব,
– রিমি পৃথিবীটা এত নিষ্ঠুর তোমার সাথে পরিচয় না হলে অজানা থেকে যেতো।
এইটুকু বলেই কল কেটে দেয় আর চলতি ট্রেনের ওপর ঝাপ দিয়ে পড়ে।আশেপাশের লোকজন নিরবকে তুলে হাসপাতালে ভর্তি করে।

 

এদিক থেকে রিমি নিরবকে কল করে কিন্তু নিরবের মোবাইল বন্ধ । রিমি চিন্তায় পড়ে যায়। কি জন্য নিরব এমনটা বললো? তাহলে কি নিরব জেনে গেলো তারেকের কথা? এসব ভাবতে থাকে রিমি। আবার ভাবতে থাকে, নিরব কি করে জানবে? ওতো এখান থেকে অনেক দূরে?
রিমি এসব চিন্তা করতে করতে তারেক চলে আসে।
রিমি ভুলে যায় নিরবের কথা।

এদিকে হাসপাতালে ৩ দিন থাকার পর চোঁখ খুললেও সেন্স ফিরে পায় না নিরব। পারে না নাম বলতে, পারেনা ঠিকানা বলতে। তাই তো সেখানের ডাক্তার নিরবকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়।

 

এভাবে চার বছর হয়ে যায়।
রিমির পড়াশোনা শেষ।রিমি তারেককে বিয়ে করেছে।এখন শুধু ইন্টার্নি করলেই রিমি আর তার স্বামী পরিপূর্ণ ডাক্তার।তাইতো দুজনই ইন্টার্নি করার জন্য আবেদন করে।
ভ্যাগের করুণ পরিহাসে রিমি আর তার স্বামী তারেকের ইন্টার্নি করার জন্য পাবনা মানসিক হাসপাতাল সিলেক্ট হয়।

 

কয়েকদিন পরই রিমি আর তার স্বামী পাবনাতে চলে যায়। হাসপাতালে ডিউটিতে এসেই রিমি রোগী দেখা শুরু করে।কয়েকজন রোগী দেখার পরেই একজন রোগী সামনে বাধে।সে রিমির দিকে একধ্যানে তাকিয়ে ছিলো।সেই রোগীটি আর কেউ নয়।সেই নিরব।রিমি নিরবকে দেখতে পায়।রিমি হয়তো অবাক হয়েছিলো নিরব এখানে কেনো? কিন্তু রিমি সেদিন তার স্বামীর সামনে নিরবকে ডাক দেওয়ার প্রোয়জনই মনে করেনি।

 

রিমি দুই বছর সেই হাসপাতালে ছিলো।প্রত্যেকটা দিন নিরব নামের পাগলটা লোহার গ্রিলের ফাঁক দিয়ে রিমি নামক ডাক্তারের দিকে চেয়ে থাকতো।
রিমি সবই দেখতো।
কিন্তু নিরব নামের পাগলদের যে রিমি নামক ডাক্তারেরা কোনোদিন চেনেনা,কোনোদিনও না।


এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com