Logo
নোটিশ ::
আপনার যেকোনো সৃজনশীল লেখা পাঠিয়ে দিন আমাদের ঠিকানায়।আমাদের ইমেইল: hello.atharb@gmail.com

তারুণ্যের চোখে ‘যে জলে আগুন জ্বলে’

অঙ্কন ডেস্ক / ৮১৮ বার
আপডেট সময় : বুধবার, ৩ জুন, ২০২০

জীবন্ত কিংবদন্তি কবি হেলাল হাফিজ। তাঁর অমর কাব্যগ্রন্থ ‘যে জলে আগুন জ্বলে‘র পাঠপ্রতিক্রিয়া জানিয়ে অঙ্কনে লিখেছেন ক’জন তরুণ কবি ও পাঠক।



  • শামস মাহবুবঃ হেলাল হাফিজ ; ফিরে এসো যৌবনে।

প্রেমানলে বিদগ্ধ, পাঁচ দুপুরের নির্জনতার খুনী- স্বপ্নকাতর কবি হেলাল হাফিজ। তাঁর অমর সৃষ্ট কাব্যগ্রন্থ “যে জলে আগুন জ্বলে”। প্রেম-যুদ্ধ, উৎসব-ব্যসন, এবং প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির বিষ্ফোরিত শব্দশিখায় তিনি নির্মাণ করেছেন কবিতার শরীর। নিপুণ দক্ষতায় জলের বুকে এঁকেছেন আগুনের চিত্র। যেনো অগ্ন্যুৎসবে বৃষ্টিস্নাত। দুর্বিনীত যৌবনের বিশুদ্ধ ছায়া, প্রেমিকের সবুজ উদ্যান। উপলব্ধির গভীর থেকে একজন পাঠকের না বলা কথা ওঠে এসেছে তাঁর কবিতাসমূহে। আনন্দ-বেদনার নিগূঢ় অর্গাজম ঘটিয়ে “যে জলে আগুন জলে” গ্রন্থটি কবিকে নিয়ে গেছে এক অনন্য উচ্চতায়। নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়, নিখুঁত স্ট্র‍্যাটেজি, হিরণবালা, লাবণ্যের লতা, প্রস্থান এবং অশ্লীল সভ্যতার কাছে বিশেষ মুগ্ধতা পেশ করছি। কবিতার আরেক নাম দুঃখ, দুঃখের আরেক নাম হেলাল হাফিজ। কবি, ফিরে এসো পরিণত যৌবনে।



  • স্নিগ্ধা গোস্বামীঃ কবির কাছে নেত্রকোণা যে কতখানি প্রিয়, কতটা লক্ষী তা উনার নেত্রকোণা কবিতার মধ্য থেকে বোঝা যায়। আদরের কতটা ভালোবাসার নেত্রকোণা। মানুষের জীবনে কত ইচ্ছে থাকে। রাজ্য, রাজা, রাণী কিন্তু সবার সব ইচ্ছে পূর্ণ হয় না। এক অমোঘ অব্যক্ত তা ফুটিয়ে তুলেছেন কবিতার মধ্য দিয়ে। আবার নারী কি নদীর মতো চমৎকার ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন কবিতার মধ্য দিয়ে নারীকে….
    সুখ – দুঃখ, আনন্দ – বেদনা সব কিছু নিয়েই মানুষের জীবন অতিবাহিত হয়। তারি মধ্যে কষ্ট মানুষের জীবনে কখনো কখনো খুব আপন আর রঙিন হয়ে ওঠে। কবি তরুণ সমাজকে দেশের জন্য এগিয়ে আসতে উদ্যার্ত আহ্বান জানিয়েছেন
    “এখন যৌবন যার মিছিলে তার শ্রেষ্ঠ সময়
    এখন যৌবন যার যুদ্ধ যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়”সর্বোপরি প্রেম, ভালোবাসা, বিদ্রোহ, মিলন, বিরহ সব মিলিয়ে একটি অনবধ্য সৃষ্টি কবির ” যে জলে আগুন জ্বলে “।



  • নোমান কবির রাহাতঃ “হয়তো আমি হারিয়ে দিয়েছি নয়তো গিয়েছি হেরে,
    থাক না দ্রুপদী অস্পষ্টতা কে কাকে গেলাম ছেড়ে৷”- পুরো বইয়ে এই লাইন দু’টি আমার অনেক বেশি পছন্দের৷ জীবন খরচ করে কবিতা লিখতে হয় তা জানতে পারি বেদনার কবি হেলাল হাফিজের কাছ থেকে৷ দীর্ঘ সময় অধ্যবসায়ের ফলে এমন একটি বিরল কাব্যগ্রন্থ তিনি তৃষ্ণার্ত পাঠকদের উপহার দিতে পেরেছেন৷ তাঁর কাব্যগ্রন্থে প্রায় অধিকাংশ কবিতায় প্রেম, দ্রোহ, বেদনা ইত্যাদি অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে৷ মানুষ দুঃখবাদী তাই, সরল ভঙ্গিমায় নিজস্ব ঢংয়ে কবি তা তুলে ধরায় মানুষ সহজেই কবিতা গুলো গ্রহণ করেছে ৷ কবিতা পাঠ করতে গিয়ে কবিতার মধ্যে অনেকেই খুঁজে পেয়েছে তার নিজেরই প্রতিচ্ছবি৷ কিছু অসাধারণ শব্দ গুচ্ছ তাঁর কবিতা গুলোকে নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়৷ শব্দের গাঁথুনি ও বুননে অনন্য সাধারণ কৌশল তিনি অবলম্বন করেছেন যা, পাঠ করার সময় অতি সহজ মনে হলেও ভেতরে ভেতরে অনেক বেশি নাড়া দেয়৷ অনেক কম লিখেও যে, মানুষের হৃদয়ের মানুষ হওয়া যায় তা, কবি হেলাল হাফিজকে দেখেই উপলব্ধি করেছি প্রথম বারের মতো৷


  • আব্দুল আজিজ রাজুঃ “যে জলে আগুন জ্বলে” বইটি সর্ম্পকে যদি কিছু বলতে যাই,কতটুকু বললে কতটুকু ঘাটতি থেকে যাবে আমি দ্বিধা দ্বন্দ্বে পড়ে যাই।এটা যেন কোন এক মানবী কে ঘিরে সীমাহীন আর্তনাদ।একরাশ ব্যথা জড়িত স্মৃতি নিয়ে গড়ে উঠেছে এক একটি লাইন।

বইয়ে কয়েকটি অনু কবিতার মধ্যে আমার প্রিয় দুটি হলো”অশ্লীল সভ্যতা,কোমল কংক্রিট “।আর ” ইচ্ছে ছিলো,তুমি ডাক দিলে,তৃষ্ণা, প্রস্থান “কবিতাগুলো তুলনা হয় না।এর মানে এই নয় এই ক’টা কবিতাই অতুলনীয় তা নয় এগুলো বারবার আমার মনে পড়ে এতটুকু।পুড়ো বইটাই অতুলনীয়।



  • হুমায়রা রজনীঃ “যে জলে আগুন জ্বলে” বইটি কবি হেলাল হাফিজের অনন্য কিছু লেখনীর সমষ্টি। বইটিতে মোট কবিতার সংখ্যা ৫৫ টি। কবিতা গুলো যুদ্ধ পূর্ববর্তী, যুদ্ধকালীন এবং যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে মানবমনের জটিলতার স্বচ্ছ-সাবলীল প্রকাশ। বইটিতে থাকা প্রত্যেকটি কবিতা আমার মনকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। বই এর শুরুতেই লেখক বলেছেন, “এখন যৌবন যার, মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়”! এত সুন্দর করে যৌবনের আহ্বানে সারা আর কোনো বাক্য কি দিতে পারে? এছাড়াও প্রেম এবং বিরহের আবেদনময়তা কবিতাগুলোতে পেয়েছে অনন্য মাত্রা। যখন কবি বলেছেন ” নিউট্রন বোমা বোঝো, মানুষ বোঝো না!” মনুষ্যত্বের ব্যর্থতা কি আশ্চর্যরকম সত্য হয়ে উঠেছে এই বাক্যে! এই বইটি যখনই পড়ে উঠি একজন কাব্যপ্রেমিক হিসেবে আমার অনুভূতিকে আমি শব্দরূপ দিতে পারি না। যা বলি তাও যেন কম হয়ে যায়।



  • শেখ সোহাগ রেহমানঃ কবি হেলাল হাফিজের কবিতা মূলত—আত্নঘাতী আঁধারের বুকে জ্বলে উঠা বিমূর্ত আলো। শৈল্পিক খেদের ঘ্রাণে বেড়ে উঠা ফসল। বিমর্ষ অনুভূতির নোনতা স্বাদ যেন উর্ধ্বগামী পতনের সমীকরণ।
    “যে জলে আগুন জ্বলে” বইয়ের কবিতা গুলি যেন অব্যক্ত সমূহ কথাদের জোনাক পোকার সমীপে রেখে গেলো। আক্ষেপ আর আত্নপীড়নের জটিলতায় যেন বেদনার ফিনিক্স বারবার জেগে উঠে আশ্চর্য মোহময়তায়!
    তৃষ্ণার্ত কাকের চেয়েও অধিক তৃষ্ণা যেন হেলাল হাফিজের কবিতায়। জৈষ্ঠ্যের কাঠফাটা রোদে কবি হেলাল হাফিজের কবিতা বোধ করি মাটির কসল ভর্তি স্বচ্ছ জল।




  • বড়ুয়া জনিঃ আমি যেন কখনো সত্তুর কখনো আশির এবং কখনো নব্বইয়ের দশকের টগবগে যুবক হেলাল হাফিজ হয়ে গেলাম!যৌবন আমার,তাই মুক্তির জাগরণ মঞ্চে আমারও অধিকারবোধ কাজ করছে। দুঃখ,মুক্তি,স্বাধীনতা,সহযোদ্ধা ও মনন এবং সভ্যতাকে একসাথে অবলোকন করেছি ‘যে জ্বলে আগুন জ্বলে’র প্রতিটি শব্দোচ্চারণে। পড়া শুরু করছিলাম শেষ কবিতাটির হাত ধরে।সভ্যতার স্থবিরতার নিষ্পেষিত গন্ধ পেলাম।নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়,দুঃসময়ে আমার যৌবন,ঘরোয়া রাজনীতি,অগ্ন্যুৎসব,একটি পতকা পেলে,হিজলতলীর সুখ,রাডার,যেভাবে সে এলো,প্রত্যাবর্তন নামক কবিতাগুলোকে আমার বিপরীতে একজন বিপ্লবী আমি’র স্পষ্ট উপস্থিতির জানান দিচ্ছে।কবিতা যে জীবনের কথা বলে তা এই বইটিতে স্পষ্ট পদচ্ছাপ রেখে গেছে।পুরুষের সাথে নারীর যে সহবস্থান, জীবনের সাথে দুঃখের যে হৃদ্যতা তা ‘প্রতিমা’কবিতায় কখনো ‘ফেরিওয়ালা’ কবিতায় মুক্তি পেয়েছে।অনির্ণীত নারী কবিতাটি নারীকে বর্ণনা করেছেন শৈল্পিক বোধ দিয়ে।বোনের শুশ্রূষার দায়বদ্ধতার প্রতি তীব্র আকুতি ফুটিয়ে তুলেছে ‘বেদনা বোনের মত’কবিতায়।শব্দের প্রতি কবির যে কামনা তা কেবল চোখ বন্ধ করে নিউট্রন বোমা বুঝো মানুষ বুঝো না এই লাইনটি উচ্চারণ করলে অনুভব করা যায়।ধ্রুপদী শব্দটি বারবার ফিরে এসেছে স্বমহিমায়। বেশ লাগলো!নিজেকে কবিতা বানাতে বা কবিতাকে ক’জন জীবন দিতে পারে?শামুক কবিতাটি চেতনার নবোন্মেষ ঘটিয়েছে। আমরা একাই ছিলাম,আছি!শূণ্যস্থান যে অপূরণীয়ই থাকবে।এটিই শ্বাশত ।পরিশেষে একজন খুদে পাঠক হয়ে সাহিত্যের শুদ্ধতম পুরুষ হেলাল হাফিজ দাদাভাইয়ের এই সৃষ্টি নিয়ে দুয়েক কথায় আমার অনড় অনুভূতি প্রকাশ করলাম।কবিতা জীবনের কথা বলুক।


এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com