Logo
নোটিশ ::
আপনার যেকোনো সৃজনশীল লেখা পাঠিয়ে দিন আমাদের ঠিকানায়।আমাদের ইমেইল: hello.atharb@gmail.com

গল্প: গগন পথে পাখিদের যানজট || রাকিবুল ইসলাম রিফাত

অঙ্কন ডেস্ক / ৩১ বার
আপডেট সময় : শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২০

দিনটি ছিল শ্রাবণ মাস। বোঝাই যাচ্ছে বর্ষার সময় ছিল এটা। জানালার পাশে বসে গোয়েন্দা কাহিনী পরছিলাম। হঠাৎ আমার দুই শ্রবণেন্দ্রিয়তে দাম্ভোলির আওয়াজ শুনতে পেলাম। জানালা দিয়া তাকাইয়া দেখলাম  মাথার উপরের গগন নিরদে কালো হয়ে রয়েছে। গগন নিরদাচ্ছন্ন থাকায় বোঝাই যাচ্ছিল না এখন দিন না রাত্রির। গগনে এতো বিকট শব্দ হচ্ছিল যা শুনলেই গাঁ শিউরে উঠছিল।

এরই মধ্যে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি পড়া শুরু করল বাহিরে চাহিয়া দেখলাম বৃষ্টি শুরু হওয়ার সাথে সাথে পিপীলিকাভুক তাদের হাটিহাটি পা দিয়ে ছায়াতলে যাইতেছিল। গগন পথে পাখিরা বিচরণ শুরু করে দিয়েছে।কার আগে কে তাদের আশ্রয়স্থলে যাইবে তা নিয়ে ছোটাছুটি? তাদের কলহপূর্ণ ধ্বনি কানে শুনতে পেলাম। মনে হলো, ওরা কিছু বলছে। কিন্তু কি বলছে? ভাবলাম, আন্দাজ করলাম হয়তো বা ওরা কোনো বিপদে পড়েছে।

কিন্তু বিপদটা আবার কি? বৃষ্টি আসাটাই হতে পাড়ে ওদের বিপদ! জানালা দিয়ে দেখলাম, যে পাখির নিকেতন নিকটে, তারা সেখানে আশ্রয় নিচ্ছে আর যাদের নিকেতন দূরে ছিল তারা গাছের ডালে  বসে ভিজে একাকার হয়ে গিয়েছে।

পাখিদের জগতে একটা মজার ব্যাপার হলো পাখিরা তাদের নিকেতনে সহজে কাউকে আশ্রয় দিতে চায়না। কেন না তাদের নিকেতন আশ্রয় দাতা দখল করে নিতে পারে।পাখিগুলোকে দেখার জন্য ছাতা নিয়ে বাহিরে বের হলাম। দেখে খুব মায়া হলো, একা বলতে লাগলাম নিষ্পাপ পাখিগুলো তাদের একবেলার আহারের সন্ধানে দূর দূরান্তর পর্যন্ত গমন করে। কিন্তু তারপরও তারা তাদের আহার যোগাড় করতে পারে না। তারা যাদেরই দু’য়ারের সামনেই যাক না কেন  তারাই তাদের একটি ঢিল ছুড়ে অথবা ভয় দেখিয়ে তারিয়ে দেয়। পারে না তারা মানুষদের মতো তৃপ্তি করে দু’বেলা খেতে।নির্বোধ পাখিদের জন্য মমতা নেই মানুষদের মনে। অবিচার করে যাচ্ছে হিংস্রধর্মী মানুষেরা। হত্যা করে ফেলছে নির্বিচারে তাদের। হঠাৎ চোখে পড়লো একটি শালিক পাখি তার বাসায় ঢোকার জন্য চেষ্টা করছিল কিন্তু তার বাসায় সে ঢুকতে পারছিল না।

কেনো? ব্যাপারটা সম্পর্কে আরও জানার আগ্রহ হলো। এই কারণে সামনে এগিয়ে গেলাম। খড়কুটো দিয়ে সুসজ্জিত করে নিমগাছের ওপরে নিকেতনটি তৈর করা ছিল।

সে যাই হোক, পাখিটি তার নিকেতনে ঢুকতে পারছেনা কেন? শালিকটি আমায় দেখে কিচিরমিচির শব্দ শুরু করতে লাগল।মনে হলো, পাখিটি আমায় কিছু বলতে চায়। কিন্তু কি বলতে চায়? একদিকে বৃষ্টি বিন্দুতে পাখিটি ভিজে একাকার হয়ে যাচ্ছিল। আমি নিজের কাছে প্রশ্ন করলাম শালিকটির নিজ নিকেতন হওয়া সত্ত্বেও সে তার নিকেতনে যাচ্ছে না কেন?

অন্যদিকে লক্ষ্য করলাম কিছুকিছু ছোট পাখি যেমনঃ চড়ূই, ময়না, বালিয়া, টিয়া পাখি এরা কিছু পথ যাচ্ছে তারপর কিছুক্ষণ ঘুরছে তারপর আবার সামনে কিছু পথ যাচ্ছে। কিছু তো সমস্যা আছে, এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত হলাম  আমার মনে এখন দুটো প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।
প্রশ্নের উত্তর উদঘাটনের জন্য নেমে পড়লাম।

শালিক পাখিটার নিকেতনটি খুব বড় সরোই ছিল। হঠাৎ শালিক পাখির বাসার মধ্যে কিছু একটা দেখতে পেলাম। কিন্তু কি ছিল?

তা আর বুঝতে পারলাম না। এদিকে শালিক পাখিটি তার নিকেতনে ঢোকার জন্য অবিরত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু ঢুকতে পারছিল না। কিছুক্ষণ পর শালিক পাখির নিকেতন থেকে অন্য একটি সাদা কালো রঙ্গের পাখি বের হয়ে শালিক পাখিকে তারা করিতে লাগিল। প্রথম দিকে পাখিটিকে চিনতে পারলাম না। কি পাখি ছিল তাও বুঝতে পারলাম না? কিছুক্ষণ পর যখন শালিক পাখিকে তারা করা শেষ করলো তারপর আবার ঐ নিকেতনে পাখিটি চলে আসলো।পাখিটি দেখতে খুব ভয়ানক ছিল। তার ঠোঁটটি ছিল বেষ তীক্ষ্ণ।

বোঝাই যাচ্ছিল যেকোনো ছোট জাতের পাখিগুলো এই সব পাখিগুলোকে ভীষণ ভয় পায়। মনের মধ্যে প্রশ্ন জাগলো কি পাখি হতে পারে যাকে কি না অন্যসব পাখিগুলো ভয় পায়? চিন্তা করতে করতে ধারণা করলাম হতে পারে এগুলো মাংসাশী পাখি। আমার ধারনাটিই সত্যি হলো পাখিটি নাম হলো বাজ পাখি। এতক্ষণে আমার কাছে সব কিছু পরিষ্কার হলো। শালিক পাখির নিকেতনটি বাজ পাখিটি ঘায়েল করেছে। তাই শালিকটি তার নিকতনে যেতে পারছে না।

শালিকটি অবিরত বৃষ্টিতে ভিজে যাচ্ছিল কতোই না কষ্ট হচ্ছিল পাখিটির। তার নিজের হাতে কষ্ট করে বুনোন করা নিকেতনে শালিকটি আজ আশ্রয় নিতে পারছেনা। কিছু করতেও পারছে না শালিকটি। কেন না শালিকটির না আছে ক্ষমতা না আছে শক্তি তাই তার দুর্বলতার সুযোগ নিয়েছে বাজ পাখিটি। শালিকটি বৃষ্টিতে ভিজে কিচিরমিচির করেই যাচ্ছে অবিরত।

অন্যদিকে তো দেখলাম বিভিন্ন ছোট জাতের পাখিগুলো তারা তাদের সহজ পথ দিয়ে নিজ গন্তব্যস্থানে সহজে যেতেই পাচ্ছে না। এ ব্যাপারটাও আমার কাছে পরিষ্কার হয়ে গেল।গগন পথে দেখলাম ছোট পাখিদের কয়েকটি বড় হিংস্রধর্মী পাখিরা পিছু নিয়েছে। তাই ছোট পাখিদের কিছুক্ষণ লুকিয়ে থাকতে হয়।তারপর আবার যাত্রা শুরু করতে হয়।আবার, এর সাথে রয়েছে মমতাহীন শিকারকৃত হায়নাদের ভয়।

এতদিন আমার মনের মধ্যে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল?
আমরা মানুষরা রাস্তাঘাটে যেভাবে চলাচল করি। পাখিরাও কি গগনপথে একইভাবে চলাচল করে? তারাও কি আমাদের মতো লাল, হলুদ, সবুজ সিগন্যালের মুখোমুখি হয়?

আজ উত্তর খুজে পেলাম, পাখিরা উড়তে পারলেও তারা তাদের গন্তব্য স্থানে দ্রুত পৌঁছাইতে পারে না। কেন না ছোট পাখিগুলোর ক্ষমতাশালী পাখি ও শিকারকারীদের জন্য নেই কোনো স্বাধীনতা, তাদের মোকাবিলা করার মতো না রয়েছে ক্ষমতা না রয়েছে বুক ফুলে কিছু বলার  মতো সাহস।
মানুষদের মধ্যে যেরকম প্রাচুর্যবানদের কাছে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষরা হার মানে।প্রাচুর্যপূর্ণ লোকদের দেখা হয় সম্মানের চোখে। অন্যদিকে অর্থহীন   মানুষদের দেখা হয় ঘৃণার পাত্র হিসেবে।
তেমনি কম শক্তি বল পাখিরা আকাশ পথে মুক্তভাবে বিচরণ করতে পারে না। কোথাও যদি যেতে চায় সেখানে সময় মতো যেতে পারেনা। আমরা মনে করি, পাখিরা হয় তো মটর গাড়ির আগেই তারা তাদের গন্তব্যস্থানে পৌঁছায়। কিন্তু তা সম্পূর্ণ ভুল। গগণ পথে হয় তো সিগন্যাল নেই কিন্তু পাখিদের বিপদ আপদের ও সীমানেই। আমরা মানুষরা যে রকম যানজট উপেক্ষা করে সঠিক সময়ে গন্তব্য স্থানে পৌঁছাই কিন্তু পাখিদের উম্মুক্ত পথ থাকা সত্ত্বেও তার সঠিক সময়ে হায়নাদের থাবার ভয়ে উম্মুক্ত ভাবে কোথাও যেতে পারে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com