Logo
নোটিশ ::
আপনার যেকোনো সৃজনশীল লেখা পাঠিয়ে দিন আমাদের ঠিকানায়।আমাদের ইমেইল: hello.atharb@gmail.com

যে দেশে শিক্ষকগণ বেশি অবহেলিত সেই দেশে অন্যায় অরাজকতা চলবেই: কাজী আব্দুল হালিম সানি

অঙ্কন ডেস্ক / ১০৮ বার
আপডেট সময় : সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২০

 

 

অজানাকে জানার প্রতি কৌতুহল আমাদের। সেই কৌতুহল থেকেই আমরা শিক্ষাগ্রহণ করে থাকি। নার্সারি কিংবা স্কুলে ভর্তি জীবনের আগ পর্যন্ত তো আমরা বাড়িতেই অ আ ক খ বা ইংরাজি বর্ণমালা, ১ থেকে ১০০ পর্যন্ত গণনা, ছড়া, রং চেনা, পশুপাখিদের ছবি দেখে চিনতে শেখা, রোমাঞ্চকর গল্প আরও কত কি বাড়িতেই শিখে যাই বাবা মায়ের কাছ থেকেই। হামাগুড়ি বয়স থেকেই হাঁটতে শেখা, কথা বলতে শেখা সবই তাদের কাছেই। এক্কেবারে অপরিণত বয়স থেকে আমাদের শিক্ষার হাতেখড়ি তাদের হাত ধরেই। আমাদের বাবা ও মা-ই আমাদের প্রথম ও পরম গুরু। জীবনযাপনের অন্যতম শিক্ষক।
তারপর আমাদের জীবনে ধীরে ধীরে আরো অনেক শিক্ষক আসতে শুরু করেন। স্কুলে গিয়ে প্রথম দিকে আমাদের কিছুটা খারাপ লাগা তৈরি শিক্ষকদের প্রতি। কেননা উনারা শুধু পড়া দেন, না পারলে শাস্তি দেন। সব মিলিয়ে প্রথম দিকে খারাপ ধারনাই তৈরি হয়। কিন্তু সময় যত গড়াতে থাকে আমরা ধীরে ধীরে উপলব্ধি করতে পারি যে, আমরা অনেক কিছু শিখছি উনাদের কাছ থেকে। আমাদের শিক্ষানবিশী চলতেই থাকে। জীবনভর। আমরা প্রতিদিন শিখি। আমরা ঠেকে শিখি। ঠকে শিখি। ভুল করি অগণিত। আবারও ঠিক করে ফেলি। পরবর্তী অভিজ্ঞতালব্ধ জীবনে ছাত্রাবস্থায় শেখা অনেক ভাল জিনিস কাজে লাগে। আমাদের ছাত্রাবস্থায় সেই শেখাটা কিন্তু ঠিক ছিল, কিন্তু নানা প্রতিকুলতা ও চাপের কাছে হয়তো সে আদর্শের কাছে নতি স্বীকার করতে হয়েছে।
আজ ৫ সেপ্টেম্বর, সোমবার ‘শিক্ষক দিবস’। ডঃ সর্বপল্লিরাধাকৃষ্ণণের জন্মজয়ন্তী। দেশের অগণিত শিক্ষকদের আদর্শগত মহান কর্মকাণ্ডের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে এবং তাঁদের পেশাগত অবদানকে স্মরণে বরণে শ্রদ্ধায় পালন করার জন্য সমগ্র বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই মহান শিক্ষক পালন করার রীতি রয়েছে। নির্দিষ্ট দিনটি বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন দিনে পালন করা হয়ে থাকে। যেমন বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই ৫ অক্টোবর, ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ হিসেবে পালিত হয়। UNICEF থেকেও, ৫ অক্টোবর দিনটিই ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবসের’ স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

 

বিশ্বের সর্বমোট ১৯টি দেশে অক্টোবর মাসের ৫ তারিখ ‘টিচার্স ডে’ পালিত হয়। আবার বিশ্বের অন্য ১১টি দেশে ২৮ ফেব্রুয়ারি দিনটিতে বিশ্ব শিক্ষক দিবস চালু। ১৯৯৪ সালের ৫ অক্টোবর থেকে ইউনেস্কো দ্বারা ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ দিনটি সূচিত হয়। এটি সারা দেশ-বিদেশে ‘শিক্ষক’ পেশাজীবীদের জন্য সেরা সম্মান।
যে শিক্ষকদের প্রথমদিকে আমাদের পছন্দ হয় না। রাগী, ফ্যাকাসে লাগে পরবর্তীতে তারাই হয়ে উঠেন আমাদের প্রিয় শিক্ষক। তাঁদের স্নেহে, প্রশ্রয়ে, শিক্ষায়, সহমর্মিতায়, দরদী সমালোচনায়, চরিত্র গঠনের দৃঢ় শিক্ষায় আমরা ঋদ্ধ হতে থাকি ক্রমশ। আমাদের প্রতিটি আচরণের বহির্প্রকাশ ঠিক কী হবে, শিশুবয়স থেকেই উচিত-অনুচিতের বোধ আমরা শিখতে থাকি তাদের কাছেই। আমাদের নিজস্ব পছন্দ-অপছন্দ, আমাদের দায়বদ্ধতা বিশ্বাস, অন্যকে মাণ্যতা দেওয়া, গুরুজনকে সম্মান জানানো, নিজেদের পারিবারিক রীতিকে মর্যাদা দেওয়া, রক্ষণশীলতাকে টিকিয়ে রাখা এই সমস্ত কিছুই শিখি বাড়ির গুরুজন অভিভাবকদের থেকেই। আমাদের আদর্শ আমাদের চরিত্রগঠন সব কিছুর প্রাপ্তি তাঁদের থেকেই।

‘‘A great teacher is like a candle— it consumes itself to light the way for others.’’

 

একটা সময় শিক্ষকদের কদর ছিলো বেশ অন্যরকম। যেকোনো জায়গায় কোনো একজন শিক্ষক প্রবেশ মানেই স্থানটা বেশ শ্রদ্ধার হয়ে যাওয়া। সময় গড়াতে থাকলো। এখন বোধকরি উনাদের সেই সম্মানটা কিঞ্চিৎ কমেছে বৈকি। এই পৃথিবীতে যত জ্ঞানী, বিজ্ঞানী, বরেণ্য শিক্ষাবিদ আছেন সবাই কিন্তু কোনো না কোনো শিক্ষকের ছাত্র। সব বিখ্যাত মানুষের মধ্যেই তার প্রিয় শিক্ষকের ছাপ রয়েই যায়। আচরণ কিংবা কথা বার্তায় তা ফোটে ওঠে। একটি জাতিকে সামনের দিকে নিয়ে যেতে একজন শিক্ষকের প্রয়োজন অনস্বীকার্য। যে দেশে শিক্ষকগণ বেশি অবহেলিত সেই দেশে অন্যায় অরাজকতা চলবেই।
চাইলে উদাহরণও টানা যায়। আজকাল আমাদের দেশে খুব করে ধর্ষণের প্রতিযোগিতা চলছে। এছাড়াও আরো নানাবিধ অপরাধ চলছে যা সবাই জানেও না পর্যন্ত। কিন্তু কেনো হচ্ছে এসব?
আসলে একটি দেশে শিক্ষকদের যেমন মর্যাদা দেওয়া উচিত আমরা হয়তো তেমন দিতে পারছি না। যে কারণে আমাদের ভবিষ্যৎ ভুল পথে হাটছে। অথচ একটি দেশ ঘটনে শিক্ষকের মূখ্য ভূমিকা আছে।

 

জাপানের একটা প্রচলিত প্রবাদ হল—‘‘Better than a thousand days of dilligent study is one day with a great teacher’’.

গুরুর সান্নিধ্য ছাড়া কিছুই হয় না। প্রত্যেকটি কাজেই একজন গুরুর প্রয়োজন। বই দেখে হয়তো সবাই পড়তে জানে কিন্তু একজন শিক্ষকের পড়ার ফাকে একটি ওয়ার্ডও যে মূল্যবান হতে পারে তা ডিক্টেটরশিপ পাশ করে অনেকে বুঝেন।
জীবনের অনেক বছরব্যাপী পড়াশোনা করে যখন কাঙ্ক্ষিত চাকুরী পেয়ে যায় কেউ তখনও হঠাৎ করে কোনো এক প্রিয় শিক্ষকের কথা মনে হয়ে গেলে সব কিছু ফেলে চলে যেতে ইচ্ছে করে সেই মহান শিক্ষকের কাছে।
সবশেষে এটিই চাইবো পৃথিবীর সব শিক্ষকগণ যেনো প্রাপ্য সম্মানটুকু পেয়ে সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে পারেন। দেশ ও জাতির জন্যে কাজ করতে পারেন। উনাদের দ্বারা দেশে একজন ভালো চিকিৎসক জন্ম নেয়, ভালো ইঞ্জিনিয়ার জন্ম নেয়, মোটকথা একজন ভালো মানুষ জন্ম নেয়।

  • লেখক: কাজী হালিম সানি

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com