Logo
নোটিশ ::
আপনার যেকোনো সৃজনশীল লেখা পাঠিয়ে দিন আমাদের ঠিকানায়।আমাদের ইমেইল: hello.atharb@gmail.com

ভাটি বাংলার বাতিঘর বীর মুক্তিযোদ্ধা রমিজ উদ্দিন আহমদ

অঙ্কন ডেস্ক / ৪২৬ বার
আপডেট সময় : সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২০

সমাজে কিছু সংখ্যক ব্যাক্তি থাকেন যারা জ্ঞান সাধনায় ব্রত, জ্ঞানের আলো জ্বালেন বলেই তাঁরা দীপ্যমান, জাতির প্রাণ। তেমনই একজন মহান ব্যাক্তি নীরবে নিঃস্বার্থভাবে সমাজের উন্নয়নমূলক কাজ করে গিয়েছেন,  যা ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিখা থাকবে চিরদিন। এই নিঃস্বার্থ সমাজ সেবক ও জ্ঞান সাধকের নাম রমিজ উদ্দিন আহমদ (বীর মুক্তিযোদ্ধা)। তিনি ১৯৫২ সালের ০৮ ই ফেব্রুয়ারী, সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলা কাউকান্দি গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁরা তিন ভাই ও এক বোন। বড় ভাই আসকর আলী একজন কৃষক ছিলেন। ছোট ভাই মো. শামসুদ্দিন আহমদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বরত অবস্থায় অবসর গ্রহণ করোন এবং সবার ছোট বোন রিজিয়া খাতুন একজন গৃহিণী।
তিনি ছোটবেলা থেকেই ধৈর্যশীল, জেদী, সাহসী এবং নির্ভীক ছিলেন। গ্রামের পাঠশাকা থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেহপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং ১৯৭২ সালে সেখান থেকে এসএসসি পাস করেন। ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রাবস্থায় তিনি আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন এবং ছয় দফা আন্দোলন প্রচারে ও ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে নিজ এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে টেকেরঘাট সাব সেক্টরের অধীনে অংশগ্রহণ করেন। তাঁর অদম্য সাহস ও বুদ্ধিমত্তা ছিল প্রখর। তিনি মেজর দীন, মেজর শওকত আলী এবং ৫নং সেক্টরের কমান্ডার মুসলিম উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে মেঘালয় রাজ্যের ইকুয়ানে ট্রেনিং নেন এবং তাঁদের পরিচালক ছিলেন সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত,  আব্দুজ জহুর এমপি ও যুদ্ধকালীন কমান্ডার মুজাহিদ আহমদ ও পরিচালক আ. হান্নান । হারিছ উদ্দিন, শামছু মিয়া,  হাবিবুর রহমান, আলী আমজাদ, জিয়াউল হক, সিরাজ মিয়া, জগৎ জ্যোতি, আশক আলী ও কামাল মিয়া ছিলেন তার সহযোদ্ধা। যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তাঁর সহযোদ্ধা জগৎ জ্যোতি, সিরাজ এবং কাশেম আলী শহিদ হন।
তাঁর প্রথম অপারেশন ছিল দিরাই-শাল্লায়। জামালগঞ্জ সিও অফিস, বেলী- রাধানগর, তাহিরপুর, বিন্নগর, ধুতমা, উত্তর তাহিরপুর, সুলেমানপুর, মারকুলী এবং দিরাই- শাল্লায় ছিল তাঁর উল্লেখযোগ্য অপারেশন। সুলেমানপুর অপারেশনে তাঁর এক সহযোদ্ধা, কাশেম আলী শহিদ হন এবং মারকুলী অপারেশনে শহীন হন অন্য এক সহযোদ্ধা জগৎ জ্যোতি।
মারকুলী অপারেশনে সারারাত যুদ্ধ করে তিনি ক্লান্ত হয়ে শেষ রাতে কান্দার এক গর্তে ঘুমিয়ে যান পড়েন। দিনের আলো যখন ফুটে উঠে, তখন সহযোদ্ধারা নৌকায় করে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে নৌকা ভাসালেন। কিছুক্ষণ পর তাঁকে নৌকায় দেখতে না পেয়ে সহযোদ্ধারা চিন্তায় পড়ে গেলেন। তাঁর সহযোদ্ধারা সিদ্ধান্ত নিলেন নৌকা আবার তীরে লাগাবেন। সবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকা আবার তীরে লাগালেন এবং অনেক খোজাখুজির পর তাঁকে কান্দার গর্তে ঘুমন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
তাঁর আরেকটি অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ এবং সরাসরি অপারেশন ছিল তাহিরপুর অপারেশনটি। এই অপারেশনটিতে শেষ রাতে মুক্তিযোদ্ধারা পিজিশন নেন এবং ফজরের আজানের পর মুক্তিযোদ্ধারা পাকসেনা ও রাজাকারদের উপর আক্রমণ শুরু করেন। পাকসেনা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সরাসরি যুদ্ধ শুরু হয়। তখন বর্ষাকাল, আকাশ মেঘাচ্ছন্ন। পূর্ব আকাশে সূর্য তখনও উঠেনি। মুক্তিযোদ্ধারা হাতে গুনা কয়েকজন মাত্র। পাকসেনাদের তুলনায় অনেক কম কিন্তু তাদের মনোবল ছিল আকাশের মতো বিশাল। মুক্তিযোদ্ধাদের আতর্কিত আক্রমণে পাকসেনা ও রাজাকারেরা দিশেহারা হয়ে পড়ে এবং এদিক ওদিক ছোটাছুটি করতে থাকে। কিছুক্ষণ পর অস্ত্র হাতে রুখে দাঁড়ায় এবং তুমুল যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। মুক্তিযোদ্ধারা দুই দিক থেকে পাকবাহিনীকে আক্রমণ করেছিলেন। যাকে বলে একেবারে সামনাসামনি যুদ্ধ।  পাকবাহিনীও দুই ভাগ হয়ে ইয়া আলী বলে অগ্রসর হচ্ছিল। পাকবাহিনীর হাতে ছিল অত্যাধুনিক অস্ত্র এবং  পর্যাপ্ত গোলাবারুদ। মুক্তিযোদ্ধারা কামানোর গোলা বর্ষণকে ভয় পেতেন, কারণ পাকসেনাদের নিশানা ছিল অন্যন্ত নির্ভুল। এখানেও সে নির্ভুল নিশানার পরিচয় পেয়ে তিনি সহযোদ্ধাদের ঐ অবস্থানে থাকা নিরাপদ মনে করলেন না। সহযোদ্ধাদের পেছনে হটার কথা বলে তিনি মর্টার থেকে পাকসেনাদের দিকে গোলা বর্ষণ করতে করতে পিছনে সরে এলেন। কামানের গোলা তখন এমন অবিশ্রান্ত ধারায় এসে পড়তেছিল যে পিছু হটা ছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের আর কোনো পথ খোলা ছিল না। তিনি ব্যতীত সহযোদ্ধাদের সবাই নৌকায় উঠে পড়লেন। তিনি মর্টারের গোলা অভিরাম ধারায় ছুঁড়তে লাগলেন এবং সহযোদ্ধাদের বললেন, তোমরা নিরাপদ স্থানে চলে যাও। তা না হলে এখানে সবাই মারা যাব। সহযোদ্ধারা নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার পর তিনি পাকসেনাদের সঙ্গে একাই কিছু সময় লড়াই করতে করতে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়লেন এবং ডুব দিয়ে নদী পার হতে লাগলেন। তখনও পাকসেনারা তাঁকে লক্ষ্য করে অভিরাম কামানের গোলা ছুঁড়ছিল।
একসময় কামানের গোলা বন্ধ হয়ে গেল এবং তিনি ডুব দিয়ে ও সাঁতার কেটে নদীর পাড়ে এক বাড়ির ঘাটে অচেতন অবস্থায় পড়ে রইলেন। সেই ঘাটে এক মহিলা পানি নেয়ার জন্য আসলেন এবং ঘাটে এসে দেখলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন৷ সে মহিলা বাড়িতে গিয়ে আরো কয়েকজন মহিলাকে সঙ্গে নিয়ে এসে তাঁকে বাড়িতে নিয়ে গেলেন এবং ঐ মহিলারা আগুনের ছেঁকা দিয়ে শরীর গরম করে তাঁর চেতনা শক্তি ফিরিয়ে আনলেন। তিনি রাতে তাঁর সহযোদ্ধাদের  সাথে মিলিত হলেন। এই অপারেশন চলাকালীন বাড়িতে খবর আসল তাঁর জীবন আশঙ্কাজনক।  তখন তাঁর জেঠা আল্লাহর নামে শপথ করে ওয়াদা করলেন যে প্রাণপ্রিয় জাতিজা যদি অপারেশন থেকে ফিরে আসে তবে একটি গরু জবাই করে এতিম মিসকিনকে খাওয়াবেন। তাঁর জেঠা জনাব ইব্রাহিম আলী তা পালনও করেছিলেন।
তিনি স্বাধীনতার পর কাউকান্দি বাজারের পাশে একটি উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপন করেন এবং বিদ্যালয়টির নামকরণ করেন বাংলাদেশ উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টির নামকরণেই বুঝা যায় যে তিনি কতটুক দেশপ্রেমিক ছিলেন।
১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট কালরাতে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ পরিবারের প্রায় সকল সদস্যকে হত্যার পর খন্দকার মোস্তাক আহমদ গদি দখল করে এবং  ক্ষমতা রক্ষার স্বার্থে দেশ প্রেমিকদের নামে এক মিথ্যা ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করে। এই মিথ্যা ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় তাঁকেও আসামি করা হয়। ফলপ্রসূ  বাংলাদেশ উচ্চ বিদ্যালয়টি চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়। এই মিথ্যা যড়যন্ত্রমূলক মামলা হতে অব্যহতির পর এলাকায় এসে তিনি সমাজ সেবায় আত্মনিয়োগ করেন। কাউকান্দি বাজার জামেয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসা, সমাজ কল্যাণ অফিস, বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ অফিস,  কাউকান্দি বাজার ডাকঘর ও কাউকান্দি বাজারে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
১৯৯৬ সালে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে তিনি কাউকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়টি স্থাপন করেন। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যে জনাব নূরুল হক স্যার, আব্দুস সোবাহান স্যার, আব্দুল হান্নান, আব্দুল মালেক (সাবেক চেয়ারম্যান),  কালা মিয়া, আব্দুল জলিল, আলী জয়দর (বদর উদ্দিন), সিরাজুল হক, আব্দুর রাজ্জাক চৌধুরী, লন্ডন প্রবাসী  নূরুল ইসলাম, গোলে হরমুজ, জহুরুল হক, শাহানুর মিয়া, আব্দুুল আহাদ ও প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান শিক্ষক ওবায়দূর রহমান ছিলেন উল্লেখযোগ্য। তিনি কাউকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের একমাত্র প্রতিষ্ঠাতা এবং অত্র বিদ্যালয়ের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৯৯৬ সাল থেকে ২৭/১২/২০০৫ইং পর্যন্ত ও ০৩/০১/২০০৮ ইং সাল থেকে ১০/০৩/২০১২ ইং পর্যন্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি নিজ এলাকায় নানাবিদ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে শিক্ষার উন্নয়নে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায়, ন্যায় বিচার ও গরীব মানুষের প্রতি তিনি আন্তরিক ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক, সত্য ও ন্যায়ের পূজারী।
 তিনি ১৯৭৪ সালে নরসিংদী জেলার মাধবদী কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে পাশ করেন। জীবিকার তাগিদে তিনি ১৯৭৭ সালের ০৮ জানুয়ারি বাংলাদেশ সরকারের পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে ইউনিয়ন পরিদর্শক পদে চাকরিতে যোগদান করেন। চাকুরীকালে তিনি যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেন। সবার সাথে তার অত্যন্ত সখ্য ছিল। কারো সাথে কখনো বিবাদ করেননি৷ রাগ করার মতো কোনো ঘটনা দেখা দিলে তিনি হাসিমুখে ধৈর্যের সাথে মোকাবেলা করতেন। ফলে তাঁকে সবাই ভালোবাসতেন। সততা ও নিষ্টার সাথে চাকুরী জীবন সমাপ্ত করেন।
ছেলে-মেয়েদের লেখা পড়ার সুবিধার্থে তিনি সুনামগঞ্জ জেলা শহরের মুহাম্মদপুর এলাকায় বাসা করেন এবং পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করতে থাকেন। তিনি চার কন্যা এবং এক পুত্রের জনক। বড় মেয়ে মাফতুহা রমিজ, ২য় মেয়ে তানজিলা আক্তার লাকী এবং তৃতীয় মেয়ে মাহমুদা নৌরিন মুক্তা; তিনজনই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। ছোট মেয়ে সাঈদা মৌরিন সাকী পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটিতে লেখাপড়া করছে। সবার ছোট এবং একমাত্র ছেলে সাইফুদ্দিন আহমদ কাউসার সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে সম্মান (অনার্স) শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। মুহাম্মদপুর এলাকার প্রতিবেশীদের সাথে তাঁর আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠে। এককথায় তিনি ছিলেন একজন বন্ধু সূলভ ও সামাজিক মানুষ। তাঁর চলাফেরা ও আচার আচরণে এলাকায় সবাই সন্তুষ্ট।  তাঁর চরিত্রের নৈতিকতা, আন্তরিকতা, পরোপকারিতা ও সহমর্মিতার কারণে উপজেলার সকল মুক্তিযোদ্ধাগণ তাঁর প্রতি অনুরক্ত ছিলেন। সবাই তাঁকে পছন্দ করতেন। তিনি সুনামগঞ্জ এসে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্যগণের সাথে যোগাযোগ ও যাতায়াত শুরু করেন এবং মাঝেমাঝে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের দায়িত্ব পালন করেন,  পরামর্শ দেন। ফলে ধীরে ধীরে তিনি সকলের সাথে আন্তরিক হয়ে উঠেন। এমতাবস্থায় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সুনামগঞ্জ জেলা ইউনিট কমান্ডের নির্বাচনে তিনি সংস্কৃতি ও সাহিত্য পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে সহাকারি কমান্ডার হন। উল্লেখ্য,তাঁর শেষবারের নির্বাচনে তিনি উক্ত পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে সহকারি কমান্ডার ছিলেন। তিনি প্রায় ৫/৭ বছর জেলা ইউনিটের সাথে অত্যন্ত নিষ্টা, দক্ষতা ও সততার সাথে কাজ করেছেন। মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় দীর্ঘ সময় ঘাতক ব্যাধির সাথে যুদ্ধ করে পরিশেষে ০২ জুলাই ২০১৫ ইং (১৪ ই রমজান) রোজ বৃহস্পতিবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। (ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তিনি ৪ মেয়ে, ১ ছেলপ,স্ত্রী, আত্মীয়স্বজন ও অনেক গুণগ্রাহী রেখে যান। তাঁর সহধর্মিণী মোছা. রহমতা আক্তার একজন আদর্শ গৃহিণী।
তিনি অত্যন্ত পরিশ্রমী ও লোক ছিলেন। সবাই তাঁকে এক নামে জানত ও চিনত। এককথায় তিনি ছিলেন সামাজিক ও রাজনৈতিক যোদ্ধা। স্বাধীন ধর্ম নিরপেক্ষ ও অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মানে তাঁর ছিল চির অকুতোভয় সাহসী ভূমিকা। বর্তমানে যে সন্ত্রাস জঙ্গিবাদের প্রসার ঘটেছে এর বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন সোচ্চার। স্বাধীনতায় বিশ্বাসী এই সৈনিক একাত্তরের চেতনাকে শানিত করার প্রচেষ্টায় ছিলেন এক উজ্জীবিত সাহসী বীর। দেশে মানবতা বিরোধী কর্মকাণ্ডে যারা একাত্তরে জড়িত ছিল, আজ এদের বিচার হচ্ছে। এ ব্যাপারে তিনি ছিলেন একজন আপোষহীন যোদ্ধা।  তিনি স্পষ্ট বলতেন যে ১৯৭১ সালে যারা আমাদের মা-বোনদের সম্ভ্রম নষ্ট করছে বা হত্যা করেছে এবং জ্ঞানীগুণী, বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে তাদের শাস্তি হওয়া একান্ত জরুরি। এমনকি যারা দেশের নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে তাদের সাথে কলনো আপোষ নাই। তাদের উপযুক্ত বিচার বিচার করা স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসী সরকারের দায়িত্ব ও কর্তব্য।  মুক্তিযোদ্ধাদের প্রত্যেকটি ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনে তিনি ছিলেন অগ্রসৈনিক। স্বাধীনতার চেতনাকে বিকশিত করার কাজে তিনি ছিলেন সদা জাগ্রত। তাঁর মৃত্যুতে দেশ হারিয়েছে সময়ের একজন সাহসী যোদ্ধাকে। সহযোদ্ধারা হারিয়েছেন স্বাধীনতা সংগ্রামের অকুতোভয় সৈনিককে আর আমরা হারিয়েছি একান্ত আপনজনকে। তিনি আত্মীয়স্বজনের বিপদে সবার আগে ঝাঁপিয়ে পড়তেন। তাঁকে হারিয়ে আজ আত্মীয়স্বজন ম্রিয়মান এবং অভিভাবক শূন্য।
পরিশেষে তাঁর আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা  জানাই, তাঁর আত্মার মাগফেরাত ও শান্তি কামনা করছি।
  • রচনাও তথ্য সংগ্রহে: নুর মোহাম্মদ রিপন


এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com