Logo
নোটিশ ::
আপনার যেকোনো সৃজনশীল লেখা পাঠিয়ে দিন আমাদের ঠিকানায়।আমাদের ইমেইল: hello.atharb@gmail.com

তাহমিনা ইসলাম তিথীর গল্প নিরুত্তর শব্দ

অঙ্কন ডেস্ক / ৮২ বার
আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০

 

 

বসার ঘরের এক কোনায় বেশ গুটিসুটি হয়ে বসে আছে তিলোত্তমা। ও কেবলই সায়ান এর কথা ভেবে যাচ্ছে। সায়ানের সাথে ওর সম্পর্কটা বেশ অনেক দূর এগিয়েও গিয়েছে। এই সময়ে অন্য কাউকে বিয়ে করে ও নিজের মনের বিরুদ্ধে যেতে চায় না। কিন্তু আজ পরিস্থিতি পুরোটাই ওর হাতের বাইরে।আজ দেখতে এসেছে বিয়ের জন্য। কিন্তু মানসিকভাবে একদমই প্রস্তুত ছিল না তিলোত্তমা।

 

মুখ তুলে তাকাতেই ওর চোখ পড়ল সামনের বসে থাকা মানুষগুলোর দিকে। সেখানে কয়েকজন বেশ উৎসুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ওর দিকে। এদের মধ্যে একজন তিলোত্তমাকে সম্বোধন করে ওর পড়াশোনা সম্পর্কে জানতে চাইল। ছেলেটা সুঠাম দেহের অধিকারী, গায়ের রং কিছুটা শ্যামলা, দেখতে বেশ লম্বাই মনে হচ্ছে যদিও বসে আছে। ব্লেজার পরিহিত ছেলেটার দিকে এক পলক তাকিয়েই তিলোত্তমা বুঝে নিল এই সে যার সাথে বিয়ে ঠিক হতে চলেছে ওর।
বেশ নম্র ভাবে তিলু তার পড়াশোনা সম্পর্কে জানিয়ে দিল।
পরক্ষণেই তিলোত্তমা বেশ সাহস নিয়ে উল্টা প্রশ্নটা করে বসল- “আপনার এডুকেশনাল ব্যাকগ্রাউন্ড?”
তাতে সামনে বসা থাকা ছেলেটা মনে মনে বেশ বিস্মিতই হল..!
হঠাৎ বিপরীত দিক থেকে কেউ যেন বলছে, “কি তিমির, এবার বল নিজের সম্পর্কে।”
তিলোত্তমা বুঝে নিল ছেলেটার নাম তিমির।
সকলের কোলাহলে সময়টা পেরিয়ে গেল।

 

সন্ধ্যায় তিলোত্তমা চুল এলো করে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। আনমনে ভেবে চলেছে সায়ানের কথা। পাশেই গান বেজে চলেছে-

এই সুন্দর স্বর্ণালী সন্ধ্যায়,
এ কি বন্ধনে জড়ালে গো বন্ধু।।
কোন রক্তিম পলাশের স্বপ্ন,
মোর অন্তরে ছড়ালে গো বন্ধু…….

এমন সময় যদি সায়ান কতগুলো লাল আর সাদা গোলাপ হাতে ওর বাসার সামনে এসে ফোন দিয়ে বলত, তিলু একবার বারান্দায় এসো..! তাহলে হয়ত কিছু প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর পেয়ে যেত তিলোত্তমা। কেউই কারো সাথে কখনো কমিটমেন্টে যায় নি ওরা; অথচ একে অন্যকে যে ষোল আনাই পাশে পেতে চায় তা দু’জনেই জানে। কিছু অপ্রকাশিত কথা, মিশ্র কিছু আবেগ, একে অন্যের প্রতি মুগ্ধতায় বেশ চলছিল ওদের সম্পর্কটা..!
এমন সময় ফোনের রিংটোনের শব্দে তিলোত্তমার আবছা ঘোর টা কাটল।
সায়ান ফোন দিয়েছে, ওপাশ থেকে ভেসে এলো- “তিলু, আজ সারাদিন একবারও তোমার ফোন, মেসেজ কিছুই পেলাম ! কোনো প্রব্লেম?”
প্রশ্নোত্তরে তিলোত্তমা বলল- ” কই তুমিও তো মনে কর নি! তবে আমি আসলেই একটা প্রব্লেম এর মধ্যে আছি সায়ান।”
সায়ানঃ মনে হচ্ছে সিরিয়াসলি কিছু বলতে চাইছো। বেশ তো শুনছি…
তিলোত্তমাঃ সায়ান, বাসায় আমার বিয়ের কথাবার্তা চলছে, আজ দেখতেও এসেছিল। সব আমার হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে। আমাদের এই সম্পর্কটার একটা নাম দেওয়ার সময় এসে গিয়েছি। তুমি তোমার বাড়িতে জানিয়ে দাও। আমিও কথা বলি…
সায়ানঃ এত তাড়াহুড়ো কেন তোমার ফ্যামিলির তোমাকে নিয়ে! আমি তো এই মুহূর্তে সবটা আমার ফ্যামিলিতে জানাতে পারব না, সিরিয়াসলি আমি হেল্পলেস অবস্থায় আছি এখন তিলু। তোমার ফ্যামিলিকে ম্যানেজ করো যেভাবেই হোক।
তিলোত্তমাঃ বেশ তো তুমি তো তোমার উত্তর জানিয়েই দিলে। রাখছি…
এপাশ থেকে ফোনটা কেটে দিল তিলোত্তমা।
হাত দুটো দিয়ে মুখটা ঢেকে কান্নায় ফেটে পড়ল, ভাবতে লাগল সব দায়িত্ব কি শুধু ওরই ছিল এই সম্পর্ক টা টিকিয়ে রাখতে! সায়ানের কি সত্যিই কিছু করার ছিল না, এতটা সহজভাবে কিভাবে বলতে পারল সায়ান!

 

 

পরদিন সকালে তিলোত্তমা জানতে পারল আজই ওর বিয়ে ঠিক করা হয়েছে তিমিরের সাথে। ঠিক কি বলবে কিছু বুঝে উঠার আগেই বিয়েটা হয়ে গেল ওর। নির্বাক মেয়েটা বুঝেছিল কিছু একটা হতে যাচ্ছে, কিন্তু যা হচ্ছে তা কতটা যৌক্তিক তা বোঝার চেষ্টা সেদিন আর ও করেনি। কার জন্যই বা করবে! সায়ানের থেকে তো তিলোত্তমা সুস্পষ্ট কোনো উত্তরই কোনোদিন পায় নি।
আজ বউ’য়ের সাজে বসে আছে তিলোত্তমা। নতুন এই পরিস্থিতির সাথে কতটা মানিয়ে নিতে পারবে তা হয়ত সত্যিই ও জানে না। তবে স্রোত বয়ে যাবে স্রোতের মত। পাড়ি দিবে মহাকাল। জীবনের গতি চলবে জীবনের নিমিত্তে। কিছু নিরূত্তর শব্দ হয়ত রয়ে যাবে তিলোত্তমার হৃদকুঠুরিতে…

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com