Logo
নোটিশ ::
আপনার যেকোনো সৃজনশীল লেখা পাঠিয়ে দিন আমাদের ঠিকানায়।আমাদের ইমেইল: hello.atharb@gmail.com

নমিতা সরকারের একগুচ্ছ কবিতা

অঙ্কন ডেস্ক / ১৩৫ বার
আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

প্রিয় স্বদেশ আমার 

কেউ কেউ বলে কি আছে এই দেশে?
দূষণ আর দূর্নীতি,
সরু রাস্তায় ট্রাফিক জ্যাম,
আর খোঁড়া এক অর্থনীতি।
ভেজাল ছাড়া হবে না খাদ্য,
এই যেন ব্যবসায়ীদের নীতি।

কিন্তু আমার মন বলে অন্য কথা,
কি পরিচয় হতো  আমাদের?
তুমি বিনা হে দেশমাতা!
তোমারই আলো হাওয়া ফুল ফল জল,
মিটায় যে মোদের ক্ষুধা তৃষ্ণা,
জোটায় যে মোদের বল।
যা কিছু অন্যায় জুলুম নির্যাতন আর অপমান ,
আসলে কি আছে তাতে
দেশমাতৃকার কোন অবদান?
সোনাফলা এই দেশে বিষবৃক্ষ যারা,
বুক ফুলিয়ে বেড়ায় ঘুরে,
পড়ে না হাতে হাতকড়া।
মিথ্যার বেসাতি আর পরের ধনে পোদ্দারি,
কোন ব্যাপারই না আজকাল,
চলছে কালোটাকার কাড়াকাড়ি।
যে সোনার বাংলা আজ হতে পারতো
ফুল ফসল আর সম্পদের খনি,
জানি না কি তাঁর ললাট লিখন,
কি আছে কপালে বৃহস্পতি নাকি শনি।

তাই তো দেশমাতা, আজ তোমারে করি বন্দনা,
এ মনে শুধু তোমারই স্থান,
নেই তাতে কোন কৃত্রিমতা,নেই একফোঁটা ছলনা।
তুমি আছো  জুড়ে সকল ভাবনায়,
আছো তুমি হৃদয়ের অন্তঃপুরে,
আছো সকল চিন্তা চেতনায়।
লাল সবুজের দেশ আমার,
সবুজ যে আমার বড় প্রিয়,
তোমার কাছে তাই তো মিনতি করি,
তোমার বুকেই স্থান দিয়ো।
তুমিই যে আমার একমাত্র ঠিকানা,
তোমারেই যে তাই স্মরি সারাক্ষণ,
পথভ্রষ্ট হয়ে যেন কভু না হারাই নিশানা।
স্বদেশের তরে নেই মতি যার,
করে যারা তাঁর সর্বনাশ,
ধিক্ তাদের শতকোটি বার,
কেন যে হয় তাদের বুদ্ধি নাশ।
(১২ আগষ্ট, ২০২০)

এই শহরের ভোর
                         

সকাল দেখবে বলে বারান্দার মানিপ্ল্যন্টের ডগাটা গ্রীলের ফাঁক দিয়ে উঁকি মারে,
ছাদের পায়রাগুলি গুটিশুটি মেরে চোখ পিটপিট করে,
পাইপের ফাঁকে খড়কুটোর বাসায় চড়ুইপাখির বাচ্চাগুলি কিচির মিচির করা শুরু করে
রাস্তার গাছগুলি আডমোরা দিয়ে জেগে ওঠে
পূবের আকাশে কি লাল আভা দেখা যায়?
আর পশ্চিম আকাশে চাঁদ যে তখন পৃথিবীর অপর প্রান্তে পা বাড়ায়!
দূরের রাস্তায় সোডিয়াম বাতির আলোও নিস্প্রভ প্রায়।

তপ্ত এ নগরীর সুপ্ত সংসার অকস্মাৎ যেন
প্রান ফিরে পায়,
রেলস্টেশনের জীর্ন শীর্ন ক্লান্ত ভাসমান মানুষগুলোও চোখ মেলে তাকায়,
আরও একটি সংগ্রামী দিনের আশায়।
জুরাইনের কলতলায় ততক্ষনে লম্বা লাইন,
একটু যদি পানি পাওয়া যায়!
ওদিকে সোহাগীর মা লাইন পড়ার আগেই
ঊনুনে ভাত চাপায়,
রোজ যে সে পাঁচ পাঁচ জন সাহেবের বাসায় কাজে যায়,
তার স্বামী আবার সন্তানসম রিকশাটাকে মুছেই চলে বারবার আর হাত বুলায় গায়,
মেয়েটার পরীক্ষার ফি যে লুকিয়ে আছে
এই রিকশারই চাকায়,
বিশ্বাস যে তাকে রাখতেই হবে ভাগ্য বিধাতায়
এভাবেই দিন আসে দিন যায়,
এই আজব শহর ঢাকায়।

(৩০ মে,২০১৯)

 ঘুণপোকা

ঘুণপোকা খাচ্ছে কাঠ কুরে কুরে,
কচ্ কচ্ কচ্ খচ্ খচ্ খচ্।
সমাজের ঘুণপোকারা পরছে কি কারো নজরে?
তারা খেয়ে নিচ্ছে এ সমাজটাকে,
মানুষের মাথার মগজটাকে,
তারা খেয়ে নিচ্ছে মানুষের আত্মাকে,
খেয়ে নিচ্ছে মানুষের মনুষ্যত্বকে,
চিন্তা কি আছে কারোর এদিকে?

হিতাহিত জ্ঞান শূন্য,
নিজ নিজ স্বার্থে মগ্ন,
ঘুণপোকারা কিভাবে করবে পরোপকার?
কিভাবে করবে তারা এ মানব সমাজকে উদ্ধার?
কিভাবে দূর হবে চারিদিকের অন্ধকার?
ঘুণপোকারা যে আজ সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে পরিষ্কার,
কচ্ কচ্ কচ্ খচ্ খচ্ খচ্,
চলছে শব্দ নিরন্তর।

মনের কালিমা দূর হোক,
ঘুচে যাক যত অন্ধকার,
ঘুণপোকারা উচ্ছনে যাক,
ফুটে উঠুক আলো আশার।

(৮ মার্চ, ২০২০)

বই

বাস্তবতার তোড়ে,
কর্ম ব্যস্ততার ভীড়ে,
আজ আমরা বই থেকে অনেকটাই দূরে।
কিন্তু এ প্রান যেন কাকে খুঁজে ফিরে,
আটপৌরে জীবন থেকে মুখ লুকাতে বারে বারে।

খুঁজে পেতে পথের দিশা,
আর ঘুচাতে সব অমানিশা,
বইয়ের প্রতি ভালোবাসা,
মিটায় যেন সব মনের আশা।

বই-ই যে সকল আশা ভরসার স্হান,
দূর্যোগে পাশে পাই,এগিয়ে আসে করতে মোদের ত্রাণ,
সূতরাং বই ছাড়া যে নেইকো পরিত্রাণ,
বই ই যে মেটায় মনের ক্ষুধা, তৃপ্ত করে তৃষিত  প্রান।

নব নব ধ্যান ধারণা,
কত শত গবেষণা,
বইয়েই  যে পায় সম্মাননা,
নতুবা তাদের যেতোনা জানা।

মহা মনীষী, জ্ঞানী -বিজ্ঞানী সবাই যে আছে বইয়ের পাতায়,
বই ছাড়া আর কেই বা সঙ্গী, সবই যে শুন্য হিসাবের খাতায়।
নিকষ অন্ধকার দূর করে বই যে আলোর মশাল জ্বালায়,
নবীন প্রজন্ম এগিয়ে যাবে বইয়েরই ছায়ায়, বইয়েরই কাছে ,পৃথিবীতে বাঁচার আশায়।

(২৮ ফেব্রুয়ারি,২০২০)

আগমনী বসন্ত 

উপরে সবুজ পাতা, নিচে ধূসর
পৃথিবীতে দুই রুপ নতুন আর পুরাতন
পুরাতন করে নতুনেরে আবাহন
ধুয়ে মুছে দিতে সকল জরাজীর্ণের আবাসন।

সহে তাপ,সহে পাপ,ক্লান্ত এ পৃথিবী,
নতুনের ছোঁয়ায় আশা ফিরে পায়
যেন মা ফিরে পায়  হারানো নাকছাবি,
সবই যে মেকি,এ পৃথিবীর ভরসা যে শুধু তায়।
প্রকৃতিতে শুধু যেন প্রানেরই মেলা উছলিয়া ওঠে হায়!
কিন্তু পুরাতন সেও যে পিছু ধায়,
পুরাতনরে ফেলে নতুন কিভাবেই বা এগিয়ে যায়!

নতুন আর পুরাতনের এই মহান মেলবন্ধন,
সৃষ্টি করে চলে বিশেষ্যের বিশেষণ,
করে চলে এক নতুন জগতের অন্বেষণ,
এবং অবশেষে সফল হয় তাদের সকল সংস্করণ।

এভাবেই এগিয়ে চলেছে পৃথিবী,
সৃষ্টির আদি থেকে অন্ত,
এভাবেই এগিয়ে যাবে
করবে জয় সকল বাধা বিপত্তি
আর কুড়াবে অভিবাদন।

(১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২০)


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com