Logo
নোটিশ ::
আপনার যেকোনো সৃজনশীল লেখা পাঠিয়ে দিন আমাদের ঠিকানায়।আমাদের ইমেইল: hello.atharb@gmail.com

পথশিশুদের জন্য একটি আবাসিক স্কুল করবো : আলিফ আহমাদ

অঙ্কন ডেস্ক / ২৬৮ বার
আপডেট সময় : বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

আলিফ আহমাদ একজন তরুণ সম্ভবনাময় লেখক এবং প্রকাশকের নাম। তার কিছু অনিন্দ্য সুন্দর স্বপ্নের কথা নিয়ে কথা বলেছেন অঙ্কন পরিবারের সাথে।অঙ্কন পরিবার : আলিফ আহমাদ ভাই, কেমন আছেন?উত্তর : আলহামদুলিল্লাহ! ভালো আছি ভাইয়া।অঙ্কন পরিবার : করোনাকাল কি করে কাটাচ্ছেন?উত্তর : ‘কাটাচ্ছেন’ এর উত্তর হচ্ছে কাটিয়েছি। ক্ষুধার যন্ত্রণায় সবার দেখাদেখি আমিও আমার কর্মক্ষেত্রে আগের মতো ফিরেছি। মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৬ মাস ঘরবন্দী ছিলাম। এ সময় পেশাদার লেখকদের মতো লেখালেখি করেই কাটিয়েছি।অঙ্কন পরিবার : আপনি একজন নবীন প্রকাশক হিসেবে নতুন লেখকদের কেমন ভাবে দেখেন?
উত্তর : একটি দু’বছরের শিশু আনন্দে আগুনে হাত দিবে। এরপর পোড়া হাতের যন্ত্রণায় অনেকদিন কান্না করবে। আমি নবীন লেখকদের ঠিক এই অবুঝ শিশুটির মতো দেখি। কেননা, যে এখনো নতুন। সাহিত্যের শীকর দেখেনি এখনো। যার লেখা পাঠক এড়িয়ে যায়। সেও এক বান্ডিল টাকা নিয়ে আসে বই প্রকাশ করে সেলিব্রিটি হওয়ার জন্য। বই বের হয়। বইমেলা শেষে হয়। অথচ তার ৫ কপি বইও বিক্রি হয় না। তখন তার মন পুড়ে যায়। এরপর পোড়া মনের দুঃখে অনেকদিন কাঁদে।
নবীনদের মধ্যে কেউ কেউ আছে অনেক বই পড়ে। সাহিত্যের শীকর খোঁজার চেষ্টা করে। জনপ্রিয় বইগুলো জনপ্রিয় হওয়ার কারণ খুঁজে এবং খুঁজে পায়। সেখান থেকে শিক্ষা নেয়। এরপর লেখে। তাদের লেখা মানসম্মত হয়। তাদের ভবিষ্যত উজ্জ্বল। তাদেরকে প্রকাশকরা খুঁজে।

অঙ্কন পরিবার : তরুণরা সুযোগ সুবিধা পায় না। তার দ্বায়ভার বলতে শুনি প্রকাশকদের। আপনার কী মনে হয়?
উত্তর : উপরেই বলে আসলাম। নবীনদের মধ্যে যারা ভালো লিখে। তাদেরকে প্রকাশকরা খুঁজে।
নবীনরা সুযোগ সুবিধা পায় না এটা তাদের নিজ ব্যর্থতার অভিযোগ। জাতীয় মানের পুরস্কার প্রাপ্ত লেখকের চেয়ে নবীনদের বেশি সুযোগ সুবিধার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তাদের অনেকের পাণ্ডুলিপি আমরা পাই না। আজকেও কৃপা বসু দিদির কাছে পাণ্ডুলিপি চাইলাম। তিনি কবি রুদ্র গোস্বামী দাদার সাথে আলাপ করে জানাবে বলেছে। মানে পাব কি পাব না শিউর না। বলতে গেলে কৃপা বসু একটা পিচ্চি মেয়ে। অথচ তার লেখা দেখুন। লেখার মান যাচাই করুন। পরিচিতি দেখুন। এমন অবস্থানে যান। তারপর প্রকাশকদের দোষারোপ করুন।
চলতি সপ্তাহে অনেকেই বই করার জন্য আমার সাথে আলাপ করেছে। তার মধ্যে ৪ জনকে বলেছি আগামী ২/৩ বছরের মধ্যে বই করবেন না। আরো লিখুন, লেখা আরো মানসম্মত হোক। আপনারও কিছু পাঠক তৈরি হোক। এরপর বই করুন। এখন আমি যদি তাদের বই প্রকাশে নিষেধ না করে টাকা পেয়ে বই করে দিতাম। কিছুদিন পর বই খাটের নিচে পড়ে থাকার দায়ভার আমাকে দিতো। অনেকে আবার বলেন প্রকাশকরা প্রচার করে না। প্রচার করলে বিক্রি হতো। ভাই! মানহীন লেখা প্রচার করে পাঠকের হাতে তুলে দিয়ে প্রকাশক কি জেনে শুনে বকা খেতে যাবে? কখনোই যাবে না। সে তার পেট চালানোর জন্য টাকা পেয়ে আপনার বই ছেপে দিয়েছে। ব্যাস্!অঙ্কন পরিবার : জীবিকানির্বাহের তো আরো অনেক পথ আছে। প্রকাশনাটাকেই কেন বেছে নিলেন?
উত্তর : আমি নারায়ণগঞ্জ জেলা লোকাল পত্রিকার সাংবাদিক ছিলাম। ২০১৮ বইমেলায় শব্দমালা প্রকাশনীর প্রকাশক এইচ লেলিন অনেক লেখকদের টাকা নিয়ে লেখকদের ঠকিয়ে পালিয়েছে। সেই ঠকে যাওয়া লেখকদের মধ্যে আমার পত্রিকার সম্পাদকও ছিলেন। আমি সাক্ষী। তিনি আমাকে সাথে নিয়ে তার কানের সোনার ঝুমকা স্বর্ণকারের কাছে বন্ধক রেখে লেলিনকে বই করার জন্য টাকা দিয়েছিলো। অথচ…
সেদিন থেকেই শপথ করি। আমি প্রকাশক হবো এবং নবীনদের বই প্রকাশের মাধ্যমকে সহজ করে দেব। নবীনরা যেন প্রতারিত না হয়। তাদের পাশে যেন দাঁড়াতে পারি। তাই জীবিকা নির্বাহের জন্য প্রকাশনাটাকে বেছে নিয়েছি।অঙ্কন পরিবার : নবীনদের নিয়ে আপনার ভাবনা জানতে চাই। প্রকাশকদের তথাকথিত দোষগুলো কতটুকু মুছে দিতে পারবেন বলে মনে হয়?
উত্তর : নবীনদের নিয়ে আমি আশাবাদী। তবে প্রকাশকদের তথাকথিত দোষগুলো কখনোই মুছবে না। নবীনদের মধ্যে আবেগ কাজ করে। আবেগের বসে তারা বই প্রকাশে আগ্রহী হয়। আর নতুন প্রকাশকদের সম্পর্কে জেনে দেখুন। এর আগে তারা বেকার ছিলো। বেকারত্ব দূর করার জন্য প্রকাশনাকে তারা ব্যবসা বা কর্ম হিসেবে বেছে নিয়েছে। তাই তারা টাকা পেলেই বই ছাপিয়ে দেয়। লেখার মান যাচাই করে না।অঙ্কন পরিবার : প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানটিকে কি ভাবছেন? নকশাটুকু জানতে চাই।উত্তর : অবশ্যই প্রকাশনা একটি শিল্প। ব্যবসা বা কর্মস্থান। নকশাটুকু বলতে গেলে, আমার “পাণ্ডুলিপি প্রকাশ” একটা শক্ত অবস্থানে যাওয়ার পর। সম্ভবত ২০২৪ সনের দিকে সত্ত্বাধিকারী পরিবর্তন করবো।
আমি মনে করি প্রকাশক হওয়ার প্রথম শর্ত ব্যক্তিকে সাহিত্যমনা হতে হবে। হওয়াটা বাধ্যতামূলক। তাই আমার পরিবর্তে আমার স্ত্রীকে প্রকাশনার দায়িত্ব দেব। সে সাহিত্যিক।অঙ্কন পরিবার : ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?উত্তর : সব ছেড়ে লেখালেখি আর গবেষণা নিয়ে পড়ে থাকবো। বেঁচে থাকলে বাংলা সাহিত্যকে ভালো কিছু কবিতা ও উপন্যাসের বই উপহার দেব।
নারী ও গাছের উপর গবেষণা করছি। আলহামদুলিল্লাহ! বেঁচে থাকলে আর আল্লাহ সহায় হলে ২/৪ বছর পর গাছ সম্পর্কে বিশ্বকে বিস্ময়কর তথ্য দিতে পারবো। রেজাল্ট পেয়ে গেছি। এখন শুধু ধাপে ধাপে পরীক্ষা মূলক কাজটা বাকি।
“নারী দর্শন” নামে নারীদের পক্ষে ১৮ সন থেকে বই লিখছি। সম্ভবত আর ২/৩ বছর পর “নারী দর্শন”টাও সম্পূর্ণ হবে।
এরপর টাকাওয়ালা হলে আমার কৃষক বাবাকে জমিদার স্টাইলে ঘোরাবো। মাকে দোলনায় শোয়াবো। পথশিশুদের জন্য একটি আবাসিক স্কুল করবো। ভবিষ্যত পরিকল্পনা আপাতত এই পর্যন্তই। সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তন হবে হয়তো।অঙ্কন পরিবার : অঙ্কন পরিবারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা এবং আপনার উজ্জ্বল ভবিষ্যত কামনা করছি।আলিফ আহমাদঃ আমি পৃথিবীর মানুষের কাছে তিনটা জিনিস চাচ্ছি।
১| দোয়া
২| দোয়া এবং
৩| দোয়া।


এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com