Logo
নোটিশ ::
আপনার যেকোনো সৃজনশীল লেখা পাঠিয়ে দিন আমাদের ঠিকানায়।আমাদের ইমেইল: hello.atharb@gmail.com

এস এম আলমাছের একগুচ্ছ কবিতা

অঙ্কন ডেস্ক / ১০৮ বার
আপডেট সময় : বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২০

অপূর্ণ চাওয়া 

চেয়েছিলাম ক্লান্ত বিকেলে, গোধূলি লগ্নে,
বিমুগ্ধ দিন উপহার দিতে।
হয়নি দেওয়া!
চেয়েছিলাম কোনো একদিন চাদনী নিশিতে ‘
ভরা জ্যোৎস্নার আলোয় রুপকথার গল্প বলবো।
হয়নি বলা!
রাস্তার ল্যামপোস্টের রঙ্গিন আলোয়,
দু’হাতের শুভ্র স্পর্শে হাটতে চেয়েছিলাম।
হয়নি হাটা!
চেয়েছিলাম বিস্তীর্ণ কাশবনে, ঘাসের উপর বসতে
দুজন, আর মঞ্জুরি কালো কেশ, স্নিগ্ধ বাতাসে উড়বে।
তা আর হয়নি ওড়া!
চেয়েছিলাম পায়রার তীর,
দুর্বা, অজানা তরু, গুল্ম লতা, সচ্ছ তার নীর,
ভালোবাসার রঙিন খামে রাঙ্গাবো।
হয়নি রঙিন!
হয়নি পূর্ণ আমার চাওয়া।
তোমার নানা বাহানা আর না ধ্বনির স্পর্শে,
চাওয়া আজ অপূর্ণ!


মুজিব চিরঞ্জীব

মুজিব মরে নায়,
মুজিব আছে চিরন্তন শুভ্র আত্মায় মেখে।
বাংলার লোক লোকালয়,
আটষট্টি হাজার গ্রাম নির্বীত বাংলার আলপথ এঁকেবেঁকে।
মুজিব চিরঞ্জীব,
আজ আমার কাল ভোরের শিশুর শিরার রক্তস্রোতে।
তা বহাল থাকিবে উজ্জ্বিব,
জীবন চৈতন্য এ লাগাবে আদর্শ দেশভ্রোতে।
মুজিব আছে জাগ্রত,
জেলে, কৃষক,মজুর আত্মারক্ষার্তে বিদ্রোহী জ্বালামুখে।
এতো মুজিবের শেখানো বুলি,
অশুভ শক্তি হয়ে ভঙ্গুর জননী থাকবে শুখে।
মুজিব আছে প্রতিটা যুদ্ধশিশু, বিরাঙ্গনা
ভয়াল প্রজন্মের মনে,
তবে জাগবে এপাড়ায় ও পাড়ায় জ্বালাময়ী বজ্রকন্ঠে।
তার প্রতিবাদী বয়াল বানী শুনে,
রুদ্র সেনা হবে ক্ষিপ্ত, সত্যি করবে বন্টে।
তাই বলি মুজিব মরে নায়,
মুজিব আছে মন্তে,গ্রন্থে,শব্দ প্রতিচ্ছবি যন্ত্রে।
বিশ্বের সবর্স স্থান ঘিরে,
হিমালয়ের ন্যায় দাঁড়িয়ে আম্লান, মনুষ্য মন মন্ত্রে


অনুপমা

বাসন্তির দিনে মেঘকালো কেশ পানে,
গেঁথেছি জীবন্ত তাজা গোলাপ।
হ্যা এদিনে নীল শাড়িতে মানিয়ে বেশ,
নীল পরীর ন্যায়  গগন হাওয়ায় উড়তে উড়তে হাতেহাত রেখে করেছিলে আলাপ।
মোনালিসা হাসি হেসে আলতো মাখা পা দুটো
সামনে রেখে আমার কাধে রেখেছিলে মাথা।
অপলক  দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলে আমার পানে, আমিও ছিলাম সে কি চায়নি মুগ্ধতা, এখোনো মনের মাঝে গাঁথা।
কাজল কালো চোখের বাঁকে বাঁকে হেটেছি অনেকটা পথে।
সারাজীবন থাকিবো একসাথে ভালোবাসার,
হবে না কোনো বিরাম করেছিলাম শপথ।
মিষ্টি মধুর ঠোঁটের  ফাঁক দিয়ে রুপালী সুরে,
বলেছিলে প্রচন্ড ভালোবাসো আমায়।
আমি বলেছিলাম যতক্ষণে এ দেহে প্রান
আছে নীলাঞ্জনা ততক্ষণে ভালোবাসিবো তোমায়।
জানি এ বছর বাসন্তি হবে না উদযাপন।
তবুও স্বপনিল আলপনায় সাজিয়েছি তোমায় অনুপম


ছকিনার জীবন

তিন তনয়ের পরে।
আসিলো এ ধরে।
জননী জনকের গুছিলো নয়নের পানি।
অপূর্বা আসিলো ধরায় পেলো যেনরাজধানী।
গফুর ফিরিয়া কয়!
আমারি ধনের নাম হইবে কি? জয়।
অতপর নাম রাখিলো তার ছাকিনা।
সারা দিবস ঘুরিয়া ফেরে নেই কোনো খানাপিনা।
গ্রামের এক লোক আসিয়া কয়।
ছাকিনা হইলো বড, সাধি কি দিবা জয়।
ছেলে আছিলো এক মস্থ,
ধনের নেই অভাব।
বোন তোমারি থাকিবে সুখে,
ভালো যে ছেলের স্বভাব।
হইলো সাধি পাকাসাকা দিবস কারসাজি।
দশ বরি দশ পনে,
ছেলের জনক হইলো যে রাজি।
ছাকিনাবিবি দিবস রাএি,
ঘুরিয়াফিরিয়ার পরে।
নানান স্বপ্ন ভেঙ্গে সে,
অন্যর ঘর করে।
বাকী আছিলো কয়েক বরি,
আরো আছিলো পন।
ছেলের জনক মুখফুটিয়ে কয়,
বেয়াই শেষ হইলো যে তার সন।
এই বলিয়া একের পর এক,
বাদ পরিলো সাল।
ছাকিনা বিবির কপাল ভাঙ্গলো,
গাএ হলো যে লাল।
দিবাস রাএি চলিতে থাকে নির্যাতন।
যৌতুকে লাগি হইলোনা  তার জীবনচারন।


সহস্র দেয়াল পেরিয়ে 

আমি যাবো তোমার সঙ্গি হতে,
থাকুক  শতসহস্র দেয়ালময় বাঁধা।
সাত সমুদ্র তেরনদী আসুক না,
পাড়ি দিবো নিমেষে করবোনা কোনো দ্বিধা।
আমি যাবো তোমার সম্মুখ পানে,
হিমালয়ের সমান আবেগে।
হিম শীতল বাতাস পেছনে
ফেলে, ছুটবো আমি ফণির বেগে।
সম্মুখে যদি আসে প্রলয় শিখা,
আগ্নেয়গিরির অগ্নি উৎপাতের শির।
তাও কাটিয়ে আসবো আমি,
হবো শাহজাহানের ন্যায় প্রেমময় বীর।
আসবো অজস্র বাধা পেরিয়ে,
থাকুক না পেছনে নিমরাশি।
তার পরও যাবো তোমার সম্মুখে,
বলতে তোমায়, বড্ড ভালোবাসি।


এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com