Logo
নোটিশ ::
আপনার যেকোনো সৃজনশীল লেখা পাঠিয়ে দিন আমাদের ঠিকানায়।আমাদের ইমেইল: hello.atharb@gmail.com

গল্প: জীন রাজ্য ভ্রমণ সিরিজ-২ // আজিজুল ইসলাম (পর্ব:০৩)

অঙ্কন ডেস্ক / ৬০ বার
আপডেট সময় : সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২০

আমি:তোর নাম কি?কথায় মেরেছি তোকে।
আত্মা:আমার নাম ইভা।কি মনে পরেছে কোথায় মেরেছিলি আমাকে?
আমি:আমি তোমাকে মারিনি। তোমাকে মেরেছে ওই আফরোজা।
ইভার আত্মা বলল আফরোজা ছিলো তোর ভালবাসার মানুষ।তোরা দুই জন মিলে আমাকে মেরেছিস।আফরোজাকে অনেক খুঁজেছি কিন্তু পাইনি।
আমি:এবার আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি আমাকে ক্ষমা করে দাও।
ইভার আত্মা হেসে বলল আমি কাউকে ক্ষমা করি না।আমি যা বলি সেটাই করি।আস্তে আস্তে উধাও হয়ে গেলো।

মোহনা তাড়াতাড়ি আমাদের বাসায় যেতে হবে।না হলে কিছু করে ফেলতে পারে ওই আত্মাটা।
ওকে চলেন।
বাসায় এসে দেখি ঝুমাকে কে যেনো টুকরাটুকরা করে মেঝেতে ফেলে রেখেছে।যা দেখে আমার শরীর শিউরে ওঠে।গায়ের লোম গুলো দাড়িয়ে যায়।
ও সত্যিই বলেছে, ও যা বলে তাই করে।জানি না এভাবে কয় জনকে হারাতে হবে।নিজেকে ফাঁসির আসামি মনে হচ্ছে।আমার জন্য বেচারি ঝুমা বেঁচে থাকতে পারল না।ঝুমাকে দাফন করে বাসায় ফেরার পথে ইভার আত্মা আমার সামনে এসে বলল কি এবার কেমন লাগে বোঝ।
আমার এর চেয়েও কষ্ট হয়েছে যখন আমার ভালবাসার মানুষটাকে ছেরে বিদায় নিতে হয়ে ছিল।তোকেও ঠিক এমন ভাবেই কষ্ট দেবো যতটা আমি পাচ্ছি তোর ভালবাসার মানুষটিকে মেরে।
আমি:দেখ তোমাকে আমি মারিনি মেরেছে ওই আফরোজা।তোমার খুনি আমি না।তোমার খুনি আফরোজা।পতিশোধ নিতে চাইলে তার থেকে নাও।আমার রাস্থা ছেড়ে দাও।
ইভা:কেবল তো শুরু।আর কতো কি দেখবি অপেক্ষা কর।উধাও হয়ে গেলো।

বাসায় মন মরা গয়ে বসে আছি।শুধু আমি না সবার মন খারাপ।ঝুমা ছিলো সবার নয়নের মনি।বাবার আদরের দুলালি।সবাই ঝুমাকে ভালবাসতো।এমন মেয়ে চোখের সামনে টুকরোটুকরো হয়ে গেলো কেউ বুঝতেও পারেনি।দেখলে হয়তো সবাই জীবন দিয়ে হলেও ঝুমাকে বাঁচাতো বা বাঁচানোর চেষ্টা করতো।
এমন সময় মোহনা এসে বলল চিন্তা করলে কি সব সমাধান হবে?
আমি:এখন কি করতে পারি?ওর তো অনেক শক্তি।
মোহনা:আমি আছি না।আমাকে বিশ্বাস করেন। আমি ওকে রুখার ক্ষমতা রাখি।
আমি:আপনি কে?আপনি তো কোনো সাধারণ মেয়ে না।আপনার মধ্যে কোন শক্তি বিরাজমান? আমি সেই শক্তি চাঁই।
মোহনা:পাবেন।তার আগে আপনাকে শক্ত হতে হবে আর আপনি জঙ্গলে কেন গিয়েছিলেন?আমাকে সত্য বলবেন?
তার পরে আমি সকল ঘটনা খুলে বলি মোহনাকে।মোহনা একটু মুচকি হাসি দিয়ে বলল আমি আপনার সেই লাঠি দন্ড খুঁজে দেবো।আপনি আমাকে কি দিবেন?
আমি:যদি খুঁজে দিতে পারেন তাহলে আমি আপনাকে একটা জিনিস দেবো যা পেয়ে আপনি অনেক খুশি হইবেন।
মোহনা:তাহলে দেরি কিসের চলেন জঙ্গলে।

আমরা আবার সেই জঙ্গলে চলে আসলাম। তবে আসার আগে আমার নানা বাড়ি মন্ত্র দিয়ে বন্ধ করে এসেছি। যেনো ইভার আত্মা বাড়িতে প্রবেশ করতে না পারে।
মোহনা:আচ্ছা আমরা সেই লাঠিটা খুঁজে পাবো কি?
আমি:আল্লাহ ভালো জানেন।লাঠিটা কেউ নিয়ে যায়নি তো?
মোহনা:এই জঙ্গলে কে আসবে আর লাঠিটা নিয়ে যাবে।
আমি:আচ্ছা আপনার এমন কোনো শক্তি নেই যে শক্তি দিয়ে আমার লাঠি খুঁজে দিতে পারবেন।
মোহনা:আমার তেমন কোনো শক্তি নেই।
আমি:ওহ আচ্ছা।
সারা জঙ্গল তন্নতন্ন করে খুঁজরাম।কিন্তু কোনো লাভ হলো না।
এমন সময় মোহনা বলল এই তো আপনার লাঠি দন্ড।
কিহ্! কৈ আমার লাঠি দন্ড দিন আমার হাতে দিন।
লঠিটা হাতে পেয়ে লাঠিকে তিনটা চুমু দিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরলাম।

লাঠি পাওয়ার পরে আমার সকল মন্ত্র শক্তি কাজ করতে লাগলো।
এবার কোথায় পালাবে সেই আত্মা?ওকে আজ মরতেই হবে।
ও আমাদের কাছ থাকে ঝুমাকে কেরে নিয়েছে।আমার ভাইয়ের শরীরে ঢুকে অনেক জালাতন করেছে।সব গুনে গুনে প্রতিশোধ নেবো।এবার দেখবো ওই আত্মাকে কে বাঁচায়।

মোহনা:আপনার জিনিস পেয়েছেন।এবার আমাকে কি দিবেন?
আমি:আপনাকে পরীদের পাখনা দেবো।
মোহনা:পরীদের পাখনা দিয়ে আমি কি করব।তারপরেও দিতে চাইছে ওকে দিয়েন।
আমি:এবার চলেন বাড়িতে।
আমরা বাড়ি চলে আসলাম। বাড়িতে এসে যা দেখলাম সেটা দেখে আমি হতভম্বি খেয়ে গেলাম।কারণ বাড়ি এসে দেখি ছোট ভাই উড়ছে।
এমন হওয়ার তো কথা নেই।আমি যাওয়ার আগে বাড়ি বন্ধ করেছি আর রাজের শরীর তো আগে থেকেই বন্ধ ছিলো।তার পরেও কেন এমন হলো?সব কিছু আমার ভাবনার বাইরে।জানি না কেন এমনটা হচ্ছে।
এখন আমার কাছে লাঠি দন্ডটি আছে কোনো চিন্তা নাই।
আমি লাঠি দন্ড দিয়ি ইশারা করলাম রাজ যেনো মাটিতে নেমে আসে।কিন্তু আমার হুকুম না মেনে উড়ে চলে যেতে লাগলো।আমি পিঁছু পিঁছু ছুটতে লাগলাম।কিন্তু রাজকে কোথায় নিয়ে গেলো দেখতে পারলাম না।

চলে আসলাম বাড়িতে,মা কান্না করতে করতে বলল রাজ কৈ?ওকে না পেলে আমি পাগল হয়ে যাবো।আমার মানিককে আমার কোলে এনে দে।
মোহনা:আন্টি আপনি চিন্তা করবেন না।আমরা রাজকে খুঁজে ঠিকি বের করব।আর ওই আত্মা রাজের কোনো ক্ষতি করবে না।
মা:মোহনা তুমি বাড়িতেই থাকো।ওই আত্মা তোমার ক্ষতি করতে পারে।
মোহনা:আমার কিছুই করতে পারবে না।কারণ আমার সাথে আপনার ছেলে আছে।
আমি:চলেন খুঁজতে।
মোহনা:আমাকে কি যেনো দিতে জাইছিলেন?
আমি:চলেন সেটা জঙ্গলেই আছে।
মোহনা:চলেন তাহলে।

আমরা চলে আসলাম জঙ্গলে।মোহনাকে বললাম আপনি উড়তে পারেন কি?মোহনা বলল কেমনে পারব আমার তো পাখনা নাই।যদি পাখনা থাকতো তাহলে হয়তো উড়তে পারতাম।
ওকে তাহলে আপনি এখানে থাকেন আমি উড়ে দেখি রাজকে কোথায় নিয়েছে।আর আপনাকে যে জিনিস টা দিতে চেয়েছিলাম সেটাও।
মোহনা:লাভ ইউ আজিজ।
আমি:লাভ পরে কইরেন আগে আমার ভাইকে খুঁজতে হবে।

আমি উড়ে উড়ে জঙ্গলের সব জায়গা খুঁজলাম কিন্তু পেলাম না।
ফিরে আসলাম মোহনার কাছে।সেই পরীর পাখনা দিয়ে দিলাম মোহনাকে মোহনা অনেক খুশি।লেখে বলতে পারব না কেমন খুশি হয়েছিল আমাকে জড়য়ে ধরে আট নয়টা চুমু দিয়েছে গালে।আমার গাল পুরাই লাল হয়ে গেছে।
মোহনা:ধন্যবাদ আপনাকে।
আমি:এতো খুশি হওয়ার কি আছে।যেনো আপনার হারানো কোনো জিনিস ফিরে পেয়েছেন।
মোহনা:তার চেয়েও বেশি।
আমি:রাজকে তো কোথায় পেলাম না।
মোহনা:চলেন বাড়িতে।হয়তো বাড়িতে নিয়ে গেছে।
আমি:ওকে, আপনি আমার হাত ধরেন আমি উড়িয়ে নিয়ে যাই।
মোহনা:আমি উড়বো?ইস অনেক মজা হবে।নিয়ে চলুন আমাকে।

বাড়িতে এসে দেখি। বাড়ির উঠানে অনেক রক্ত।আর উঠানের এক পাশে পড়ে আছে নানির লাশ।অন্য পাশে তাকিয়ে দেখি রাজ নানার বুকের উপর বসে নানার নাড়িভুঁড়ি চিবিয়ে চিবিয়ে খাচ্ছে।ওকে দেখে মনে হচ্ছে ও অকেন আনন্দে আছে আর রাক্ষসের মতো খাচ্ছে যেনো ও ভাত খাইতেছে।
আমি মন্ত্র দিয়ে আত্মা সহ রাজকে বন্ধি করি।কিন্তু রাজের শরীর থেকে আফরোজার আত্মাকে বের করতে পারছি না।বের করতে চাইলে রাজককে আঘাত করতে হবে।যা আমার দারায় সম্ভব না।
বন্ধি অবস্থায় আত্মা বলছে তুই আমাকে কিছুই করতে পারবি না।শুধু বুঝতে পারবি আপন জনদের হারানোর জ্বালা।

অনেক শুনেছি তোর বকবক এবার তুই শেষ।আগুনের একটা ফুলকি মুখের সামনে নিয়ে বললাম শরীর ত্যাগ করবি নাকি পুড়াইয়া দিবো?
আত্মা:তুই যা ইচ্ছে কর আমি শরীর ত্যাগ করে তোর হাতে মরতে চাই না।আর আমি জানি তুই তোর ভাইকে এতোটা ভালবাসিস যে আঘাত করতে পারবি না।
আমাকে বাধ্য হয়ে ছোট ভাইয়ের শরীরে আঘাত করতে হচ্ছে।নয়তো আর কতো জীবন নিবে এই আত্মা।আঘাত করার পরে ইভার আত্মা বের হয়ে আসলো।এবং আমার চোখ কে ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যায়।সাথে মোহনা ও চলে যায়।আমি আর ওদের পিঁছু নিলাম না কারণ মোহনা আত্মার পিঁছু নিয়েছে আমার যাওয়ার আর দরকার নেই।আমি আমার ভাইকে মানে রাজকে ঘরে নিয়ে আসলাম আর মাকে বললাম রাজের মাথায় জল দাও।রাজের জ্ঞান আসার পরে খুব ভয় পায় আর দৌড়ে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দেয়।

আমি বললাম তোমার কিছুই হবে না এই দেখ আমি আছি।
ভাই আমার শরীরে এগুলো কি?আর আমার বমি বমি পাচ্ছে কেনো?
ওগুলো কিছুই না।রাজ তোমাকে তো আমি একটা তাবিজ দিয়েছিলাম সেটা কোথায়?
সেটাতো

◾পাঠক গন মোহনা কি সত্যিই সাধারণ কোনো মেয়ে?নাকি সে তার মধ্যেও কোনো চেনা মুখ লুকিয়ে আছে।আর প্রথম পর্বে যখন আজিজ আর মোহনার দেখা হয়েছিলো তখন মোহনা বলেছিলো আরে আপনি!
সাধারণত কাউকে অনেক দিন পরে দেখলে বা দেখা হলে এমনটি বলি।তাহলে কি মোহনা আগে থেকে আজিজকে চিনতো?


এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com