Logo
নোটিশ ::
আপনার যেকোনো সৃজনশীল লেখা পাঠিয়ে দিন আমাদের ঠিকানায়।আমাদের ইমেইল: hello.atharb@gmail.com

ইমরান ইসলাম ইমন—এর একগুচ্ছ কবিতা

অঙ্কন ডেস্ক / ৩৮ বার
আপডেট সময় : সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২০

ধূসর কালি

মহাকাল এর শিকলের বেড়ায় ধরেছে জং
তার মস্তিষ্ক পাচ্ছেনা পথ,
তাকে আবরণ করা ক্ষেত্র সেরে উঠছে বড্ড একা একাই,
তাদের আর ঔষুধের প্রয়োজন পড়েনাই।

ওদিকে ক্রমশ আকুলতার তীব্রতা করছে গ্রাস।
ভূল জন্মে পাচ্ছেনা পথ, হারাচ্ছে রাস্তা।
একটিই চাওয়া ছিলো দুটি – মানচিত্রের।
বোঝাপড়া নিপাত গিয়ে নতুন সূর্যোদয়ের প্রয়োজন ছিলো।

সেই ‘ক্ষেত্র’ আজ কাঁদে আর বলে :
“এই জং কি করে তোমাদের ক্ষতি করতে পারে?
কে-ই বা নিজে নিজেকেই ক্ষতি করতে পারে!
তোমরা বেচে আছো আজও একে অপরের এপাড়ে – ওপাড়ে।”

বিষের রং তো শুধু নীল নয়,
বেদনার রংও কিন্তু নীল হয়।
তবে আকাশটা?


কুমড়া ও হিউম্যান মাদারবোর্ড এর গল্প

হজমে আমরা বাঙ্গালি বড়ই আইলস্যা রীতিমত,
আসলে রীতি টাই বানাইসি নীতির বিরুদ্ধে
নীতিরে আবার মালা পরাইসি তার প্রার্থনা করতে,
আফসোস লাগে আমাদেরই কলের কাঠি নাইড়া রেসিপি বানাইতে!

আমাদের এই গোল কুমড়া চলে তার ইচ্ছামতোন, গারবেজ ছাড়া ঢুকাইনা কিছু।
তার সাথে হিউম্যান মাদারবোর্ড এর কোনো সংযোগ থাকাটা অস্বাভাবিক ধরেই রাখসি।

ব্যবসায় এর ভাষায় যখন কুমড়া তার আকাঙ্খা, প্রয়োজন, চাহিদা আমাদের বাইনোকুলার দিয়েও খোজার মতোন কর্মশক্তি অপব্যয় করতে নারাজ,
তখন কুমড়াগাছ আর ওই মাদারবোর্ডের প্রোসেসর কান্ধে হাত দিতে দিতে বলে : ”এ কি খেলা,
চারিদিকে অবহেলা
কসাই পেটায় মাংস,
আমরা পেটাই গোপনাংশ
আহা কি ব্লু ব্লাড এর দম্ভ যে আছে,
এই বাঙ্গালির।”

আমদের এই কুমড়া ফুলায়া কোমর দুলায়া যা পারি জ্ঞ্যানের কথা বলতে নারি নাই।
গুরুজনরে টপকাইয়া ছাদের উপরে উইঠা আমাদের মাদারবোর্ড ভাইঙ্গা শূন্যের গুরু হওয়ারও জুড়ি নাই।
আমাদের প্রেম কুমড়া শুখায় গেলে বাঙালিয়ানা থেইকা বাঙালিতে রূপ নেয়, আমাদের প্রকৃতিতে প্রেম আর ভালবাসার পার্থক্য পাইতে না পাইতেই ডিভোর্স হইয়া যায়।

ওইদিকে আবার ইন্টারনেট এর নেশায় বুদ হইয়া বাচ্চা-কাচ্চা মানুষ হইতে দ্বিধাই করেনা,
এরা আবার স্বপ্নেও দেখে কীর্তিওয়ালা মূর্তিমান হইয়া গেলাম রে গেলাম!

কিন্তু এই কুমড়াগাছ আর প্রোসেসর এর খুশির অন্ত ছিলোনা, নাইও!

“চলতেসে দিব্যি, চলুক কলের কাঠি
হোক রেসিপি, সার্কাজম এই গল্প হজমে,
আরো ‘জম’ ওয়ালা কতকিছু হয়ে যাইতেসে!”

কিন্তু আফসোস হয়,
বাঙালিয়ানা আজকে বাঙাল হইসে তো কি হইসে,
বাঙালিয়ানাটা নাহয় থাকতো!

পোকাওয়ালা কুমড়া, আর ভাইরাস সহ মাদারবোর্ড যদি থাকে,
তাতে কীটনাশক আর এন্টিভাইরাস হজম করার শক্তি যদি না জন্মায় ;
তাইলে দুই পা, দুই নৌকা নিয়া যাইতেছেনা এখন যেমন?
তেমনি কইরা দেখা যাবে পেটটা ফাইটা গেসে নাইলে মাথায় আগুন জ্বইলা গেসে!


তারা আমাকে নিয়ে যাচ্ছে
আকাশটা বড্ড মায়াময়রূপের সৌন্দর্য ধারণ করেছে।
এমন সৌন্দর্যে পাখি ওড়ে কিচিরমিচির স্বরে,
বালিকারা সেজেগুজে খেলে, সাইকেল দৌড়ায়,
বালকেরা ডেঙ্গা-লাঠি নিয়ে মাঠে।

অথচ আমি দেখছি মেঘে মেঘে ভেসে যাওয়া লাশ,
কাফনের কাপড়, শুকনো পাতা, পাখিদের শোকসভা।

কি অপরূপা ”তার” ঘুমন্ত চেহারা!
হাজারবছর চেয়ে থাকার মতোন।

সৌন্দর্য আমাকে কাদায়, বারেবারে দুম করে ছুঁড়ে মারে তাচ্ছিল্য।
তবুও, কেন যে নির্লজ্জের মতোন আবার যাই!

”তার” এমন রূপে গুণেই শুধু মাতাল করার ক্ষমতা বললে অপূর্ণ থাকবে।
বরং, তার উল্টো যে অবয়ব, উল্টো যে রূপ, উল্টো যে রং আর
তার প্রস্থানও কিভাবে যেন ভাবায় আর দুঃখের আনন্দে আত্মহারা করে দেয়।

এমনসময় আসে ঝড়,
উড়ে যায় চুল,
বেধে যায় বুকের বাঁ-পাশে বুলেটের মতোন।

প্রতিকূলে হাটার এই উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা,
এই উদ্দীপনা যেন কোনোদিন শেষাংশের সৌন্দর্য দেখেনি।

তবুও যেতে হয়, বারবার।
লুকোচুরিতে,
বারবার লাশের সেই স্যাঁতস্যাঁতে সোদা গন্ধে,
সেই গোধুলি সন্ধ্যায় – দুঃসাহসিক দৃষ্টিতে।


The Reader 

Where were ”we”
When it was Dark.
When there was Light,
When there was Hope,
When there was Bright!

Where were ”we”
When there was The Season.
When there was No Reason,
When there were War,
When there were Bloods!

Where were ”we”
When we achieved Victory,
When cottons were Blooming,
When clouds were Flying,
And again we were Dying!

”We” were there.
It was a Big Mystery,
We were making History.
They showed up like Roses,
Just hidden was the Thorn.
And again, the Dark was born!


চন্দ্রমুখী পূর্ণিমা

আজ আমার আকাশের চাঁদ ঘুমিয়ে ছিল।
আমি দেখেছিলাম মেঘ আর তাঁরারা মিলে আমার চাঁদকে খুঁজেছিল।

তাঁরাগুলো লুকোচুরি খেলে মেঘেদের সাথে।
আসলে কি মেঘকে চাঁদ মায়ার মোহতে ভাসিয়ে দিয়েছিল?
নাকি চাঁদ ঘুমানোর সময় তাঁরাদের সাক্ষী রেখে মোহময় মেঘে আমাকে
মিশিয়ে দিয়ে গিয়েছিল।

চাঁদ! তুই কি বলতে পারিস?
কোনোদিন কি পারবি কবার আজকের সেই স্তব্ধ, নিরিবিলি, ঝিঝিঁপোকার ডাকাডাকি, শিশির ভেজা ঘাসের স্নিগ্ধতা,
সোডিয়াম আর ফ্লোরেসেন্ট ল্যাম্পপোস্ট এর
আলোকে সাক্ষী রেখে রাতটা আমায় ফিরিয়ে দিতে?

কোথায় পালিয়ে যাস এভাবে প্রতিরাতে?
আমি তো খুঁজে বেড়াই তোর স্নিগ্ধ কোমল উষ্ণতা।

চাঁদ! তুইও কি খুঁজতে পারিস আমার মতোন করে?

এ আমার কি হলো?
আজ তো আমার আকাশের চাঁদ ঘুমিয়ে ছিল!


এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com