Logo
নোটিশ ::
আপনার যেকোনো সৃজনশীল লেখা পাঠিয়ে দিন আমাদের ঠিকানায়।আমাদের ইমেইল: hello.atharb@gmail.com

শাহ্ আলম সজীব-এর একগুচ্ছ কবিতা

অঙ্কন ডেস্ক / ২০৪ বার
আপডেট সময় : শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২০

ইস্তফা
যত পার ব্যথা দাও; সয়ে যাব সব,
উফটাও করব না, থাকব নীরব!
কাঁদলেও বেরোবে না চোখ হতে জল,
হৃদয়ের গহীনে তা থাকবে অটল!
চাইব না কোনদিনই কোন প্রতিশোধ,
করব না বিক্ষোভ কিবা অবরোধ!
সব অধিকার হতে ইস্তফা দেব,
রাগ-ক্ষোভ, অভিযোগ তুলে তুলে নেব!
মুক্ত-স্বাধীন মনে যেও যথাতথা,
স্মরণে রাখিও শুধু শেষমেশ কথা;
“প্রয়োজনে প্রিয়জন অনেকেই হয়,
প্রয়োজন শেষ হলে কেহ কারো নয়!
পৃথিবীতে টাকাকড়ি নয় সবকিছু,
তা দিয়ে মেপো না কভু উঁচু আর নিচু!
ভালোমন, ভালোবাসা সবথেকে বড়,
উপড়াতে পারে না তা টর্নেডো- ঝড়ও”!

চাহিদা

আমাদের চাহিদার নেই কোন শেষ,
ঘর পেলে গ্রাম চাই গ্রাম পেলে দেশ!
জল পেলে চাই পেতে কুয়া- নলকূপ,
ফল পেয়ে চেয়ে বসি গাছেদের ঝুপ!
এক পেলে দুই চাই দুই পেলে তিন,
এভাবেই চাহিদার কাটে নিশিদিন।
চাই শুধু পৃথিবীতে সুখ আর সুখ,
দুখ পেলে কিঞ্চিৎ কালো করি মুখ!
চেহারায় নূর চাই দেহে চাই বল,
জ্ঞান চাই, গুণ চাই, চাই কৌশল!
বউ চাই স্বামী চাই, চাই ছেলে-মেয়ে,
জীবন কাটাতে চাই হেসে-খেলে, গেয়ে!
চাই শুধু ইহকালে সব নাম-ডাক,
উপভোগ করে চাই যৌবন যাক!
পরকাল আমাদের সুখময় হোক,
এই চাহিদাকে নেই চাহিবার লোক!
তাই সব চাহিদাও করে অভিমান,
অপূরণ রয়ে গায় বিষাদের গান!

সেবা

হাশরের দিনে বলবেন রবে হে আদম সন্তান,
পিপাসায় আমি কাতর ছিলাম করাওনি জল পান।
ক্ষুধার কষ্ট বুকে চেপে রেখে গিয়েছি তোমার দ্বারে,
একটুও ফিরে তাকাওনি তুমি তাড়িয়েছ বারে বারে।
ধুঁকে ধুঁকে কত কেঁদেছি যে আমি অসহ্য ব্যথা- জ্বরে,
একটুও সেবা করনি আমায় পালিয়েছ ঘৃণা করে!
বিপদে পড়েও সাহায্য চেয়েছিলাম তোমার কাছে,
তখনও তুমি সহায় হওনি থেকেছ রঙ্গ-নাচে!
এসব তখন শুনে মানুষেরা, ‘বলবে মহান প্রভু
আমাদের কাছে আপনাকে যেতে দেখিনি আমরা কভু’!
বলবেন প্রভু তখন তাঁদের শোন হে বান্দাসব,
পিপাসিতদের পান করালেই করতাম আমি রব!
ক্ষুধার্তদের মুখে যদি দিতে একটু খাবার তুলে,
আমাকেই তবে খাওয়ানো হত দুঃখ যেতাম ভুলে!
অসুস্থদের সেবাশুশ্রূষা করতে তোমরা যদি,
আমাকেই তবে সেবিতে তোমরা রাতদিন নিরবধি!
বিপদের মাঝে পতিত লোকের সাহায্যে হাতটাকে;
বাড়ালে তখনই সাহায্য তবে করতে এই আমাকে!
দুনিয়ার লোভে নিপতিত হয়ে; হয়েছ ঈমানহারা–
মত্ত থেকেছ আরাম-আয়েশে,এখন পাবে না ছাড়া!
নাজাতের কাজ করনি তোমরা করেছ শুধুই পাপ,
জুলুম করেছ অসহায়দের কতই না ধাপে-ধাপ!
তোমাদের স্থান নরকে যে তাই সেখানেই চলে যাও,
অনলের তাপে জ্বলে-পুড়ে সব পাপের শাস্তি পাও।

হে রণবীর

বিশ্বজুড়ে রক্ত ঝরে মুমিন-মুসলমানের,
নির্যাতনে পিষ্ট হয়ে ইহুদি – খ্রিস্টানের!
হে রণবীর আওয়াজ তুলো,
স্বপ্নে বিভোর নিদ্রা ভুলো,
শোন! শোন! আহাজারি লক্ষ-কোটি প্রাণের!
ওমর, আলী, বীর খালীদের;
নাঙ্গা করো তরবারি ফের–
হুংকার হাঁকো বদর জয়ী সেই সে অভিযানের।
কিংবা ফোরাত, দজলা তীরের
সেই লড়াকু কাসেম বীরের–
চেতনার উন্মেষ ঘটাও আজ কারবালা ময়দানের।
দেখো দেখো তোমার ঘাড়ে,
বিড়াল বসে লেঙুড় নাড়ে,
করে কত খেলা!
বীর কেশরী! শির নাড়া দাও,
তাগুত নীড়ে ফের তাড়া দাও,
আর করো না হেলা।
রক্তে ভেঁজা কাশ্মীরে ও উইঘুর গিরিখাদে,
দেখো হে বীর তোমার মা-বোন অহর্নিশি কাঁদে!
আর থেকো না নিগূঢ় ঘুমে;
লেপতোশকের মেকি উমে!
তাকাও আরাকানে,
সিরিয়া, জর্ডানে;
দেখ কত নিশি পোহায় কত না বিষাদে!
কত বোমা-বারুদ ফাঁটে বসনিয়ার ছাদে!
বখতিয়ারের ঘোড়া হয়ে,
অসীম সাহস বক্ষে লয়ে,
ছড়িয়ে পড়ো বিশ্বময়ে,
শোষকেরা পালাক ভয়ে!
স্বপ্ন দেখুক একটু বাঁচার স্বপ্নহারা লোকে,
থাকুক না আর শঙ্কিত কেউ কিংবা বিমূঢ় শোকে।

নেক সন্তান

ছোট্ট খোকা অযু করে মাথায় দিয়ে টুপি,
বাবার সাথে নামাজ পড়ে সেও চুপিচুপি!
কান্না শুনে মোনাজাতে তাকায় বাবার দিকে,
কাঁদোকাঁদো ভাব এসে যায় তারও মানসিকে!
প্রশ্ন করে বাবার কাছে হয়ে খোকা জড়ো,
আচ্ছা বাবা, বলবে আমায় অযু কেন করো?
মুচকি হেসে বলেন বাবা, অযুর ঝরা পানি
অঙ্গ থেকে দেয় ঝরিয়ে পাপের বোঝা খানি!
যতোই তুমি করবে অযু ঝরবে ততো পাপও
কলব থেকে পালিয়ে যাবে আযাযিলের চাপও!
হাশর মাঠে নূর বেরোবে অযুর স্থানে স্থানে,
শান্তি পাবে পরপারে স্বর্গ সুধা পানে।
অবাক চোখে তাকিয়ে খোকা ফের বাবাকে বলে,
মোনাজাতে তোমার কেন চোখ ভিজে যায় জলে?
রব কি দেখেন অযু, নামাজ, সেজদা কিবা রুকু?
অশ্রু ঝরা মোনাজাতের ছাওয়াব কতটুকু?
খোকার বাবা একটুখানি মুচকি হাসি দিয়ে ,
বলেন খোকা, কান্না আসে থাকলে নরম হিয়ে!
মোমের মতো হৃদয় যখন গলবে প্রভুর ভয়ে,
ঝরবে তখন পাপ-কালিমা অশ্রু ফোঁটা হয়ে!
হৃদয় দিয়ে রবকে যদি একটু তুমি ডাকো
রব তখনি দেবেন সাড়া যতোই দূরে থাকো!
তার ইবাদত- বন্দেগিতে ছাওয়াব শত শত
তোমায় ঘিরে ঝরবে খোকা আশিস অবিরত!
তখন খোকা বললো বাবা, তাইলে এখন থেকে
আমার জীবন কাটিয়ে দেবো রবকে ডেকে ডেকে!
করবো দু’আ দু’হাত তুলে বলবো ওগো প্রভু,
তোমার পথে থাকতে দিয়ো মরণ এলেও তবু!


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com