Logo
নোটিশ ::
আপনার যেকোনো সৃজনশীল লেখা পাঠিয়ে দিন আমাদের ঠিকানায়।আমাদের ইমেইল: hello.atharb@gmail.com

এইচ এম মনির—এর একগুচ্ছ কবিতা

অঙ্কন ডেস্ক / ২৮ বার
আপডেট সময় : শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২০

মানবতার খোঁজ 

পৃথিবীতে কেউ আছেন?
একটু মানবতা কোথায় পাব বলবেন?
__মানবতা?সে আবার কী?
সে কী,আপনি জানেন না?
__না তো!তবে এ পাড়ার সুন্দরী তরুণীটির কথা জানি,বড্ড ভালো ছিল,সবসময় হাসতো,
কিছুদিন আগে অজ্ঞাত কারণে জীবনটাই দিয়ে দিল!ফ্যানের সিলিঙে যখন তার দেহটা ঝুলছিল, তখনো মুখে হাসিটা অটুট ছিল,
আচ্ছা,ঝুলে থাকা সেই নিথর দেহটাই কি মানবতা?
না না,তা নয়! তবে কেউ-ই কি জানেন না মানবতা কোথায় পাব?
__মশাই,আমি সন্ধান দিতে পারি!
জানেন?জানেন আপনি?তাহলে বলুন কোথায়?
__ঐ যে দেখছেন ঝোপঝাড়টা,কিছুদিন আগে সেখানে একটি নারীর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ পড়েছিল,কারা যেন ধর্ষণ করে লাশ বানিয়ে তাকে পরম যত্নে লুকিয়ে রেখেছিল,যেন পৃথিবীর কোনো কলঙ্ক তাকে ছুঁতে না পারে,
সেখানে খুঁজ করুন,হয়তো সেখানে আজও রয়ে গেছে মানবতার দাগ!
কী বলছেন এসব?এ দেখছি বর্বর মানবতা!
নাহ!এইখানে মানবতা পাব না,আমি বরং প্রস্তান করি!
__এই যে মশাই,যাচ্ছেন কোথায়? নিয়ে যান মানবতার খুঁজ?
আপনি জানেন?বলুন তাহলে!
__ঐ যে শহরের উত্তরের মরা নদীটা,তার তীর-ঘেষা বিশাল ময়লার স্তুপ,
প্রতিদিন কয়েকটি কুকুর আর বস্তির বাচ্ছাগুলো একসাথে উচ্ছিষ্ট খায়,কোনো হিংসে নেই তাদের মধ্যে,
সবচেয়ে সুন্দর মানবতা আপনি সেখানেই পেতে পারেন।
ছিঃ!কী সব বলছেন?এমন জঘন্য মানবতা কি কারো প্রাপ্য?
__মশাই,এলাকার সবচেয়ে মেধাবী ছেলেটির কথা মনে আছে?উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পিছনে ছুটতে গিয়ে অর্থাভাবে হুমড়ি খেয়ে পড়া সেই দরিদ্র ছেলেটি?
প্রতি রাতে তাকে দেখতে পাবেন জমিদার বাড়ির কোনো এক পুরোনো পরিত্যক্ত কক্ষে,
হাতে আগুনের ফুলকা, মুখে দুর্গন্ধ ধোয়া বের হচ্ছে,চোখগুলো বিশ্রী লাল,দেখে ভয় পাবেন না যেন!
শুনেছি তার সাথে মিশেছে আরও কিছু  বঞ্চিত!
চাইলে আপনিও যোগ দিতে পারেন।শুনেছি তাদের কাছে ভালো মানবতা আছে!
না মশাই,এমন ভয়ঙ্কর মানবতা আমার চাই না!আমি বরং অন্য পৃথিবীতে খুঁজে দেখি!
__আরে শুনে যান না শেষ কথাটা!
জ্বী,তাড়াতাড়ি বলুন।আমাকে পৃথিবী ছাড়তে হবে!
__হসপিটালের মর্গের বেওয়ারিশ লাশগুলো দেখেছেন?
পৃথিবীর কোনো কিছুতেই তাদের মাথাব্যথা নেই,কী পরম নিশ্চিন্তে শুয়ে আছে!
ঐখানে বোধহয় অনেক মানবতা,না হলে এমন শান্তির নিদ্রা কেউ দিতে পারে?
আপনি বরং বেওয়ারিশ লাশ হয়ে যান,হয়তো লাশ হয়ে পেতে পারেন কিছুটা মানবতা!
হায় আল্লাহ!এরা কী সব যা তা বকছে?
পৃথিবীর মানুষগুলোর কাণ্ডজ্ঞান নেই,মানবতার বড্ড অভাব কিনা!
আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে,এখানে আর থাকা যাবে না,
শূন্য হস্তে,শূন্য চিত্তে, শূন্য বাধন ছিঁড়ে,
অবশেষে আমাকে পৃথিবী ছাড়তেই হচ্ছে___
একটুখানি মানবতার খুঁজে!

আমি ধর্ষক,আমাকে শিক্ষা দিন

আমি ধর্ষক,আমাকে শিক্ষা দিন!
আমি তথাকথিত শিক্ষিত হতে চাই না,একটুখানি শিক্ষা চাই,যে শিক্ষায় আমার ধর্ষক সত্ত্বার মৃত্যু হবে!
আমাকে শিক্ষা দিন মানবতা,মানবিকতা।
আমি ধর্ষক,আমাকে শিক্ষা দিন!
আমার মা,আমার বোন,আমার অর্ধাঙ্গিনী, সর্বোপরি নারী জাতিকে সম্মান প্রদর্শনের শিক্ষা দিন।
আমাকে শিক্ষা দিন দৃষ্টি অবনত করার,কামনা-বাসনা পরিত্যাগ করার,উপহার দিন স্নেহাতুর দৃষ্টি,সামান্য একটু আলো,
যদি না পারেন, তাহলে চিরতরে অন্ধ করে দিন!
কলুষিত হৃদয় পবিত্র করার শিক্ষা দিন,যদি হৃদয়ের আবর্জনা পরিচ্ছন্ন না হয়,যদি ভিতরের রাক্ষসটার পতন না হয়,তাহলে এ হৃদয়টাকে খুন করুন!শাস্তি দিন!
আমি ধর্ষক,আমাকে শিক্ষা দিন!
আমি আধুনিকতার বিরুদ্ধে,আদিম বর্বরতাকেও মানতে চাই না,
আমি চাই একটু লজ্জা,আত্ম-সংযম,একটু শালীনতা,
আমাকে অশ্লীল সভ্যতা পরিহার করার শিক্ষা দিন,কিন্তু অসভ্য করে তুলবেন না।
আমি সভ্যতার বিরুদ্ধে,তাই বলে অসভ্য হতে চাই না!
আমি ধর্ষক,আমাকে শিক্ষা দিন!
ধর্ষণ না করার শিক্ষা দিন,ধর্ষণকে না বলার শক্তি দিন!
আমি অগণিত নারীর স্বপ্ন গ্রাস করেছি,হত্যা করেছি তাজা চঞ্চল প্রাণ,সতিত্ব হরণ করে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত!
আমাকে শিক্ষা দিন স্বপ্ন দেখার,স্বপ্ন গড়ার,স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার!
আমাকে শিক্ষা দিন মানবতা,মানবিকতা,
নব যৌবনের উত্তাল তরঙ্গের কলঙ্কিত দাগ মুছে ফেলার সুযোগ দিন,
আপন সত্ত্বাকে ঘৃণা করার অবকাশ দিন,ভালোবাসতে উৎসাহিত করুন!
আমাকে শিক্ষা দিন সম্মান প্রদর্শনের,একটু নত হওয়ার।
সুস্থ চেতনাগুলো ফিরিয়ে দিন,না হয় সকল চেতনা কেড়ে নিন,হত্যা করুন আমায়!
আমাকে শিক্ষা দিন ধর্ষিতদের অভিশাপ অনুভব করার,
চোখের জলে তন্দ্রায় যাওয়া,আর্তনাদ আর হাহাকারে জেগে উঠার অসহনীয় অনুভুতি বুঝতে আমাকে শিক্ষা দিন!শিক্ষা দিন আমার বিকৃত মস্তিষ্ককে!
আপনাদের কাছে প্রাণপণ আবেদন,
আমাকে শিক্ষা দিন মানবতা,মানবিকতা!
ভালোবাসার সুযোগ দিন,যৌবনকে পবিত্র করার পথ দেখান,
যদি না পারেন,এ যৌবন কেড়ে নিন।আমাকে হত্যা করুন।শাস্তি দিন!
আমি ধর্ষক,আমাকে শিক্ষা দিন! শিক্ষা দিন!

তোমাকে ভালোবাসার বিনিময়ে
সেই সময়টা ছিল সাহিত্য রচনার শ্রেষ্ঠ সময়,যখন তোমায় রোজ দেখতে পেতাম।
তোমার আকস্মিক দর্শনে হয়ে যেতাম কবি,অতঃপর __
তোমাকে ভালোবাসার বিনিময়ে পেয়েছি কবিতা,
সৃষ্টি করেছি কবিতার একেকটি শ্রেষ্ঠ চরণ।
পৃথিবীর সবচেয়ে অনবদ্য প্রেমময় শব্দগুলো পেয়েছি তোমাকে ভালোবাসার বিনিময়ে।
ভোরের শিশির যতোটা সহজে ঘাস থেকে ঝড়ে পড়ে,তারও বেশি সহজে নিশিতে অশ্রু ঝড়ার অসহনীয় অনুভূতি,
যাকে আপন করতে হয় প্রতি রাতে,
শুধু তোমাকে ভালোবাসার বিনিময়ে!
মহাকাশের শেষ বস্তুটির চেয়ে অসহায় কী হতে পারে?
যার কাছে কেউ যেতে পারে না,তার চিৎকার ধ্বনি-প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরে আসে;কেউ শুনতে পায় না।
অথচ আমি স্পষ্ট অনুভব করি সেই অসহায়ত্ব, শুনতে পাই নীরব হাহাকার,
কারন-সে আমার প্রতিচ্ছবি, আমার সকল অপ্রাপ্তি তার অভয়বে,
বিশ্বাস করো,এসব তোমাকে ভালোবাসার বিনিময়ে!
তপ্ত মরুতে এক ফোঁটা জলের প্রত্যাশায় থাকা বেদুইনের ন্যায় অনেক বছর ধরে আমি প্রতীক্ষিত,পুড়ছি নির্মম প্রেমানলে,
তোমাকে পাবার শেষ প্রয়াসটাও গেছে ফুরিয়ে,
শুধুমাত্র তোমাকে ভালোবাসার বিনিময়ে!
তোমাকে ভালোবাসার বিনিময়ে হৃদয়ে সৃষ্টি হয়েছে ট্রয় উপাখ্যানের পরবর্তী আখ্যান,
সেখানে আজও রয়ে গেছে তোমাকে ভালোবাসার দাগ!
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যেভাবে বিধ্বস্ত পৃথিবী দাড়িয়েছিল নিজেকে গুছাতে,সকল প্রাপ্তি এসেছিল সবকিছু হারানোর পরে।
আমার সবকিছু হারানো কবেই হয়েছে গত,অতঃপর__
এ মায়া কাটিয়ে, সকল অপূর্ণতাকে পূর্ণ করে হব সমৃদ্ধ!
জানি না আর কতো কি পাব অনাদরে,
এক জীবনে তোমাকে ভালোবাসার বিনিময়ে!

আত্ম সমালোচনা 

যতোদূর চোখ যায়- আমি আজ বড্ড অসহায়,
অরাজকতার বেড়াজালে আমার আকাশ মৃতপ্রায়।
অমিত্র আমার সবচেয়ে প্রিয়,সখা সে তো দুর্জন,
আলো ছাড়িয়া ছুটি আঁধারে,অভিশঙ্কায় রাত্রীযাপন।
মিথ্যে আমার উৎকৃষ্ট বিধান,সত্য সেথায় বেমানান,
অজ্ঞতাই আজ পথের দিশা,ভ্রান্তি-বিদ্বেষে আহ্বান।
মূর্খরা শির উঁচু করে,বিদ্বানের মাথা নতো,
সত্যের বুকে পা ফেলে- হচ্ছে অনিয়ম অবিরত।
সবকিছুতেই ভালো আমার,পাছে সব মিছে,
দুর্নীতি আজ আমার দেহ খাচ্ছে লুটে-ফুটে।
অর্থনীতি যাচ্ছে বেশ,উন্নতি তার অপার বিস্ময়,
শেয়ার বাজারে লক্ষ ফকির,সবকিছুতেই অভিনয়।
মাথাপিছু আয় বাড়ছে ক্রমশ,এইতো সমৃদ্ধির নমুনা,
একপাশে মোর বিশাল অট্টালিকা, আর পাশে খোলা ছাদ,আকাশ ফাঁকা।
আমার বুকে রাস্তার মানুষ,নেই কোনো ঠিকানা,
উন্নতিতে তারাও এগিয়ে,যদিও কখনো আলো দেখে না।
ক্ষুধার জ্বালায় মরছে কতো,পথশিশু আর চির বঞ্চিত,
বাজেট গুনে আমার নেতার- পকেট ভরে কতশত!
সংসদে আমার নেই শৃঙ্খলা, সুশাসনটাও গেছে ডুবে,
কেউ তো আমার অবক্ষয় দেখে না,
বড় সাহেবের পা চেটে -প্রশংসায় পঞ্চমুখ,যার সত্যিই তুলনা হয় না।
সমাজ আমার ধ্বংসের প্রান্তে,
কেউ তো আবার আলো দেখায় না,
সবাই এখন স্বার্থবাদী,
আমার স্বাধীনতা বোধহয় আর রইলো না!
দেহ তাই কলুষিত, কলঙ্কীত;নেই সতিত্বের ছাঁয়া,
শকুনের দল লোভ ছাড়ে না,যতপাড়ে ছিঁড়ে খাঁ..!!

তোমার প্রতি ভালোবাসা

আমি বসে ছিলাম রাস্তার এক পাশে,সবুজ ঘাসের উপর,
তুমি ছিলে সামনে দিয়ে হেঁটে চলা এক অজ্ঞাত চরণ,
কোমল পায়ের সজীবতা দেখে আমি নির্বাক,স্তব্ধ _
তোমার পা-দুটোর প্রেমে পড়ে গেলাম!
অবিলম্বে তাকিয়ে দেখি বেশ কয়েক পা এগিয়ে গেছ,
দেখতে পেলাম শুধু কৃষ্ণবর্ন কেশ,
      পশ্চাৎ অঙ্গের নমনীয়তা,
তৎক্ষনাৎ তোমার কালো চুলের প্রেমে পড়ে গেলাম!
বহু ছলে তোমার পিছু নিলাম,তখনো ছিলে এক অজ্ঞাত প্রাণ।
অচিরেই তোমার সমান্তরাল হয়ে পায়ের ছন্দ মিলালাম।
যবে সমকোন সম মম দৃষ্টি ঘুরালাম,
প্রথমবারের মতো তোমার চোখে চোখ পড়লো,
তোমার চোখ দুটোর প্রেমে পড়ে গেলাম!
তখনো চেহারাটা ভাল দেখিনি,অথচ_
   অথচ ভালোবেসে ফেললাম।সত্যিই অদ্ভুত!
পরক্ষণেই তোমার মুখশ্রীর মায়ায় নিজেকে আবদ্ধ করে ফেলেছি,
      গোলাপের ন্যায় ওষ্ঠদ্বয়ের গভীর নেশায় পড়েছি!
ধীরে ধীরে তোমার সবকিছুতে প্রেম খুঁজে পেলাম,
   নাম-পরিচয়,পছন্দ-অপছন্দ,ভাল লাগা-না লাগা সবকিছুতে!
গল্পের শুরুটা ছিল বহু পুরনো!
আজ অনেক বছর হয় তোমাকে ভালোবাসি।
প্রথম দিনের মতো আজও রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাও,কিন্তু_
        কিন্তু একা নয়!
সেই তুমি আর এই তুমিতে আজ অসীম ব্যবধান,
সেই ব্যবধানের ঘন কুয়াশায় আমি ঢাকা পড়েছি,
       কিন্তু আমার ভালোবাসা?
    সে তো চির অমলিন,অনন্ত উজ্জ্বল,
মেঘ জমা কালো আকাশে যা বজ্রের ন্যায় দীপ্তি ছড়ায়।
ভেবে অবাক হই,আজও তোমার জন্য ভালোবাসা এক বিন্দুও কমেনি!
মাঝে মাঝে তোমার জন্য খুব কষ্ট হয়,নিশীথে চিৎকার করে কেঁদে উঠি,
হয়তো এই কষ্টের প্রভাবেই আরও ভালোবেসে ফেলি!
আজও তোমার নামে ঝড়ে পড়া অশ্রুবারি, বিরহের প্রেমে পড়ি বারে বার!
রোজ বিকেলে অন্য কারো হাত ধরে হেঁটে চলো,
আমিও পথ চলি পিছু পিছু,আড়ালে কিন্তু একা একা।
তোমরা অবিরাম হেঁটে চলো,আমার পথ সীমিত,
       কিছুদূর গিয়ে থেমে যাই,
অতঃপর আকাশ পানে চেয়ে, মৃদু হাসিতে ফেলি দীর্ঘশ্বাস,
এটাই তোমার প্রতি আমার ভালোবাসার চিরন্তন বহিঃপ্রকাশ!


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com