Logo
নোটিশ ::
আপনার যেকোনো সৃজনশীল লেখা পাঠিয়ে দিন আমাদের ঠিকানায়।আমাদের ইমেইল: hello.atharb@gmail.com

গল্প: জীন রাজ্য ভ্রমণ সিরিজ-২ // আজিজুল ইসলাম (পর্ব: ০২)

অঙ্কন ডেস্ক / ৩৬ বার
আপডেট সময় : শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২০

 

দৌড়ে চলে আসলাম আমি যে রুমে থাকবো সেই রুমে।এসে যা দেখি, তা দেখে নিজের চোখকে বিশ্বাস করাতে কষ্ট হচ্ছে।দেখি আমার ছোট ভাই রাজ রুমের মধ্যে শূন্যের উপর উড়ছে।
এই দৃশ্য দেখে আমার মধ্যে লুকিয়ে থাকা আজিজ চলে আসে।
আমি:কে তুই?আমার ভাইয়ের সাথে এমন করছিস কেন?
রাজ:হা হা হা, তোর কষ্ট হচ্ছে বুঝি?আমি জানি তোকে দুর্বল করতে পারব তোর ভাইয়ের শরীরে ঢুকলে।
আমি:তুই আমাকে চিনিস না।জানিস না আমি কি করতে পারি।আমি চাইলে তোদের সমস্থ অশরীদের বন্ধি করতে পারি।ভালোয় ভালোয় বলছি আমার ভাইয়ের শরীর থেকে বের হয়ে আয়।
:আমি তোদের সবাইকে শেষ করব তুই আমার কিছুই করতে পারবি না।

এমন সময় মোহনা এসে বলল এতো চিল্লাইতিছেন কেন?
তারপরে রাজকে এমন উড়তে দেখে মোহনা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।
আমি দৌড়ে যেয়ে মোহনাকে বললাম এই কি হলো আপনার উঠুন তাড়ারাড়ি।
পেছন থেকে রাজ বলে উঠলো ভাই মোহনা ভাবির কি হয়েছে সে পড়ে আছে কেন?
আমি:একটু পানি নিয়ে আস তাড়াতাড়ি।
রাজ পানি নিয়ে এলো।মোহনার চোখে মুখে পানির ছিটা পড়তেই চোখ খুলে বলল বাঁচাও(চিৎকার দিয়ে)
রাজ:আরে ভাই ভাবিকে কি করেছো এমন কান্না করছে কেন?
আমি:চুপ ব্যায়াদব।
রাজ:আমি ব্যায়াদব তাই না ওকে যাচ্ছি মায়ের কাছে।
আমি:তুই তো আমার সোনার টুকরা ভাই তুই ব্যায়াদব কেন হইবি।
মোহনা:ওটা কি ছিল?
আমি:চুপ পরে বলব।
আজ সারা রাত ঘুমাইনি সুধু রাজের দিকে তাকিয়ে ছিলাম।আমার এমন ভাইকে অশরীরি ভর করেছিল।
কিন্তু চলে গেলো কেন?আমি তো কিছুই করি নাই।না কোনো মন্ত্র ব্যবহার করেছি।
আর প্রচুর হাসি পাচ্ছে বেচারি মোহনা রাজ কে দেখে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে।মনে হয় সে অনেক ভিতু।

রাত শেষে যখন সূর্যের আলো আচ্ছান্ন ভাবে কিরণ দিয়ে সকালটাকে আরো সুন্দর আরো মিষ্টি করে তোলে ঠিক তখনি রাজের ঘুম ভাঙ্গে আর আমার চোখের দিকে তাকায়।
রাজ:ভাই তুমি ঘুমাও নি?
আমি:হ্যাঁ।কিন্তু তোর অনেক আগে উঠেছি।
রাজ:ভাবি কৈ?
আমি:সকাল সকাল এমন বলছিস কেন রে।সে তোর ভাবি হলো কবে?
রাজ:করে নাও না।আমার অনেক পছন্দ হয়েছে।
এমন সময় মা বলল কিরে তোর আবার কি পছন্দ হলো?
আমি:না মা কিছু না।
মা:মিথ্যা বলতে নেই।
রাজ:হ মা মিথ্যা বলতে নেই তাই সত্যি বলি।ভাই কে বললম যে আমার একটা শার্ট পছন্দ হয়েছে কিন্তু ভাই কিনে দিতে চাইছে না।
মা:একটাই তোর ভাই ও চেয়েছে তাই দিচ্ছিস না।কয় টাকা আর লাগবে আর তোকে তো টাকা দিয়েছি।
আমি:ওকে মা তুমি চলে যাও আমি আর রাজ কথা বলি।
মা চলে গেলো।

আমি:ওই আমি টাকা কৈ পাবো।বাড়ি থেকেই তো মায়ের দেয়া টাকার অর্ধেক নিয়েছিস এখন আমি তোকে কিছুই দিতে পারব না।
রাজ:আরে ভাই, মিথ্যা বলে তোমাকে বাঁচাইলাম আর তুমি ভুল ভাবছো।
আমি:অলে আমার দুষ্টু ভাইরে।
রাজ:ভাই অনেক দিন পরে নানার বাড়ি এসেছি আজ ঘুড়তে যাবো কি বলো।
আমি:হুম যাবো।এখন বিছানা ছার।
দুজন উঠে ব্রাশ করছি এমন সময় আমাদের সামনে আসলো মোহনা
রাজ:ভাবি আজ আমরা ঘুড়তে যাবো যাইবেন আমাদের সাথে?
মা:এই তুই ওই মেয়েটাকে ভাবি বললি কেন?
রাজ:না মা এই আপুটার নাম ভাবি।
মা:ওহ।থাক আমি কাজ করি।
মোহনা:এই এটা পিচ্চি নাকি বুড়া বুঝতে পারছি না।
আমি:ছোট থেকে আমার সাথে থাকে তার পরেও বুঝতে পারি না।আপনি তো এক দিন।
ঝুমা:শুভ সকাল ভাইয়া।
রাজু:আজ আমরা ঘুড়তে যাবো তুমিও যাইবা আমাদের সাথে কি বলো?
ঝুমা:ওকে পিচ্ছি।
রাজ:তাহলে খেয়ে দেয়ে বের হবো।

খাওয়া দাওয়া করে নানার ভাঙ্গা গাড়িটা নিয়ে বের হলাম।
ঝুমা আর রাজ পিঁছনে। আমি আর মোহনা সামনে।আমি ড্রাইভিং করতেছি যদিও একটু অল্প পারি।
মোহনা:আচ্ছা রাতের ঘটনা আপনার মনে আছে কি?
আমি:হ্যাঁ মনে আছে।
: ওমন হয়েছিল কেমন করে?
: রাজের শরীরে কোনো আত্মা ভর করেছিলো।
:কিন্তু সেই আত্মার কথা শুনে মনে হলো সে কোনো প্রতিশোধ নিতে চাচ্ছে।
:হ্যাঁ কিন্তু কিসের প্রকিশোধ?আর প্রতিশোধ নিবে ভালো কিন্তু এই ছোট্ট রাজ কি করেছে।
:কেমন করে জানবো।রাজ কে জিগাস করেন।
:না ও ভয় পাইবে।ওকে কিছুই জানতে দেওয়া যাবে না।

এমন সময় পেঁছন থেকে আওয়াজ আসলো যেন কেউ গুংরাচ্ছে।
আমি পেঁছনে তাকিয়ে দেখি রাজ ঝুমার গলায় কামরে ধরে আছে।
ঝুমা নরতেও পারছে না।গাড়ি থামিয়ে রাজের হাত থেকে ঝুমাকে বাঁচানোর জন্য চেষ্টা করছি কিন্তু রাজের দাতগুলো ঝুমার গলায় আটকে আছে।আমি মন্ত্র শক্তি দিয়ে ঝুমাকে ছারিয়ে নিলাম।আর রাজকে বন্ধি করলাম।গাড়িতে করে চলে আসলাম হাসপালে যেমন করেই হোক ঝুমাকে বাঁচাতে হবে।কিন্তু হাসপাতালে কোনো ডাক্তার নাই
কি করব এখন?কিছুই মাথায় আসছে না।মোহনা বলল চিন্তা করবেন না আমি দেখছি।কোথা থেকে যেন ডাক্তারের অস্র পাতি নিয়ে এসে ঝুমার চিকিৎসা করতে লাগলো।আমি একটু অবাক হয়ে গেলাম এতো তাড়ারাড়ি এতো কিছু কেমন করে যোগাড় করলো?
কিছুক্ষনণ পরে মোহনা বলল খুব তাড়াতাড়ি ঝুমা ঠিক হয়ে যাবে এখন বাসায় নিয়ে চলেন।আমরা দুজন ঝুমাকে নিয়ে আসলাম বাড়িতে।সবাই হৈচৈ রকতে লাগলো।সবাইকে শান্ত করে চলে আসলাম রাজের কাছে।

বল কে তুই আর কি চাস?
আমি তোদের সবাইকে মারতে চাই।
তুই কিছুই করতে পারবি না।এখনো সময় আছে আমার ভাইয়ের শরীর থেকে বের হয়ে আয়।
সেই দিন তোর ভাই মুক্তি পাবে যেদিন তোদের সবাইকে শেষ করতে পারব।
তাহলে মর এবার।মন্ত্র দিয়ে আঘাত করলাম।
আত্মা চিৎকার করতে লাগলো আর বলছে আমি চলে যাবো আমাকে যেতে দে।
আমি বললাম তোকে যেতে দেওয়া হবে না।আজ তোকে মেরে ফেলবো যেন আর কখনো কারো সমস্যার কারণ না হতে পারিস।
পারছি না সহ্য করতে।আমাকে যেতে দে।
তুই এই আজিজকে চিনিস না।আমি সেই আজিজ যে পরীদের রাজ্য ফিরিয়ে দিয়েছি।
আমি শরীর ত্যাগ করছি তার পরেও যেতে দে।
আচ্ছা বাইরে বের হয়ে নিজের চেহারায় ফিরে আয়।
আচ্ছা।
আমি মন্ত্রর বাধন ছেরে দিতেই সেই অশরীরি আত্মাটা পালিয়ে চলে গেলো।হয়তো আবার ফিরে আসবে নতুন কোনো শক্তি নিয়ে তাই রাজের শরীর তাবিজ দিয়ে বন্ধ করে দেই যেন রাজের শরীরে ওই আত্মা আর ভর করতে না পারে।

মাকে বললাম এই তাবিজ যেন রাজ না খোলে খুলে ফেললে কিন্তু সমস্যা হবে।
মা:কখনো ভাবতে পারিনি এমন দিন দেখতে হবে।
আমি:চিন্তা কইরো না মা সব ঠিক হয়ে যাবে।বলে আমি নানা বাড়ি থেকে চলে আসলাম সেই জঙ্গলে যেখানে গুরুজির দেয়া লাঠি দন্ড ফেলে দিয়েছিলাম।কারণ ওটাই সকল সক্তির মুল।ওটা ছাড়া কোনো মন্ত্র সঠিক ভাবে কাজ করে না।যাওয়ার সময় মোহনা বলল আমি আপনার সাথে যেতে চাই।আমি বারন করি না আসতে কিন্তু সে আমাকে একা ছারবে না তাই সাথে নিয়ে আসলাম জঙ্গলে।
পাগলের মতো সেই লাঠির দন্ডটা খুঁজতে লাগলাম কিন্তু পেলাম না।
বনের মাঝখানে একটা ছোট্ট পুকুর ছিলো সেখানে দুজন বসে আছি।আমি বসে থাকলেও আমার মন বসে নেই।আমি অতিত গুলো ভাবছি কোথায় সেই লাঠি ফেলেছিলাম।এমন সময় মোহনা বলে উঠলো আচ্ছা আপনার অতিত আমাকে একটু বলবেন কি।
শুনতে হবে না।আর আপনি আমার সাথে আসলেন কেন?
আপনাকে সাহায্য করতে।
কারো সাহায্য লাগবে না।আপনি চলে যান আমার সাথে থাকলে আপনার বিপদ হতে পারে।
আপনার সাথে মরতে রাজি আছি তবে ছারতে নয়।
এমন করছেন কেন?
আপনার ভাই ভাবি বলেছে তাই।
আপনি রাজের ভাবি হয়ে রাজের কাছে থাকুন। হয়তো ও একটু অনন্দে থাকবে।আমার কাছে থাকলে আমি বিরক্ত হবো আর আপনি কষ্ট পাবেন।
আমাকে রাখতে চাইছেন না ওকে থাকেন তাহলে আমি চলে যাচ্ছি।
চলে যেতে যেতে।

এখন একটু শান্তিতে থাকতে পারব, কিন্তু মোহনা একা একা এই জঙ্গলের মাঝখান দিয়ো যেতে পারবে কি? যদি ওর কোনো সমস্যা হয় তখন কি হবে।তাই আমি মোহনাকে ডাকলাম কিন্তু মোহনা আমার ডাক কানেই তুলছে না।দৌড়ে গেলাম মোহনার সামনে।
মোহনা:আপনি আসলেন কেন?
আমি:আপনাকে যেতে হবে না।আমার সাথে থাকুন এতে আমার উপকার হবে।
মোহনা:সত্যিই!
আমি:হুম।কিন্তু আমার সাথে বেশি কথা বলতে চাইবেন না।

আমি আমার মন্ত্র শক্তি দিয়ে সারা জঙ্গল তন্ন তন্ন করে খুঁজলাম কিন্তু কোথাও পেলাম না।
এমন সমময় আমার সামনে আসলো একটা কালো ছায়া।আমি সেটাকে লক্ষ করে বললাম কে তুই আর কি চাস?
:আমি কে তাই না।তোর কি সত্যিই মনে নাই আমাকে তুই মেরে জঙ্গলে ফেলে দিয়েছিলি।আমি তোদের সবাইকে শেষ করব।
মোহনা:তার আগে তোমাকে আমার সাথে লরতে হবে।
:হা হা হা আমার শক্তি সম্পর্কে তোমার কোনো ধারনা নাই।সো আমাদের মাঝে তুমি এসো না।
মোহনা:আমি যেদিকে তাকাই সেই দিকের মাটি পুড়ে তামা হয়ে যায়।লোহা স্বর্ণের রুপ নেয়।তুমি কে কি তোমার শক্তি(পিশাচের মতো চেহারা বানিয়ে বলল)আমি আপলোক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি আর ভাবছি
মোহনা সত্যিই কি সাধারণ মেয়ে নাকি অন্য কিছু?
:দেখ তাহলে আমার শক্তি।
সেই আত্মাটা আমাকে একটা গাছের সাথে বেধে ফেলল।আর মোহনা তার আঙ্গুলের ইশারা করে খুলে দিলো।
আত্মা:তোকে সাধারণ মেয়ে মনে করে আমি ভুল করেছি এর পরেরবার তোদের দুই জনকেই বন্ধি করবো আর তোদের চোখের সামনে তোদের পরিবারকে শেষ করব।
তোর নাম কি?কোথায় মেরেছি তোকে।
আমার নাম

◾সত্যিই কি আজিজ কাউকে মেরে জঙ্গলে ফেলে রেখেছিলো।
যদি রাখেই তাহলে কে সে?
ইভা নাকি আফরোজা?


এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com