Logo
নোটিশ ::
আপনার যেকোনো সৃজনশীল লেখা পাঠিয়ে দিন আমাদের ঠিকানায়।আমাদের ইমেইল: hello.atharb@gmail.com

গল্প: জীন রাজ্য ভ্রমণ সিরিজ – ২ ─ আজিজুল ইসলাম (পর্ব: ০১)

অঙ্কন ডেস্ক / ৪০ বার
আপডেট সময় : শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২০

 

এই ভাইয়া উঠ না।দেখ কত বেলা হয়েছে।
আমি ঘুমের মধ্যেই বলে দিলাম যা তো ভাই একটু আরামে ঘুমোতে দে।
ভাইয়া দেখ না আমাদের বাড়িতে ভাবি এসেছে।
কি!তোর ভাবি কে?(লাফ দিয়ে উঠে) দিয়ে উঠে)
চলো দেখবে।প্যান্টের বেল ধরে টানতে টানতে নিয়ে যাচ্ছে।জানি না কোথায় নিয়ে যাবে।
তারপরে আমার ব্রাশ নিয়ে এসে বলল ভাবির সামনে যাইবা তাই ব্রাশ করে নাও।
বুঝলাম না এই ছেলের কি হলো? না এই ছেলের কি হলো? প্রতিদিন কান ধরে বলে উঠ তাড়াতাড়ি আর আজ এত আদর করছে নিশ্চই এর পিঁছনে কোনো মতলব আছে।তারপরে আমাকে নিয়ে গেল টেবিলে।নে এখন খেতে বস।
আমি ছোট্ট বাচ্চাদের মতো আমার ছোট ভাইয়ের কথা শুনছি।দেখি আর কি কি বলে।এমন সময় বলল ভাই আমাকে দুইশ টাকা দাও।
ওর কথা শুনে গলায় ভাত আটকে গেল।
আমি:ভাই আমার কাছে টাকা নেই।
ছোট ভাই:আমি জানি বাবা রাতে তোমাকে সাতশ পন্ঞ্চাশ টাকা দিয়েছে। ওখান থেকে দাও না ভাই প্লিজ।

যাহ্ মিথ্যা বলে ধরা খেয়ে গেলাম।
আমি:টাকা দিয়ে কি করবি তুই?
:তুমি জানো না নাকি?আজ আমরা নানা বাড়ি যাব।
আমি:তো টাকা দিয়ে কি করবি।
:মামাতো বোনেরা যখন কিছু খেতে চইবে তখন তাদের খাওয়াব। দেখাতে হবে যে আমি তোমার ছোট ভাই।
আমি:মা ও মা।
মা:কি হলো এমন চিৎকার করছিস কেন।
আমি:তোমার ছেলে দেখ কি বলে?
মা:দেখার সময় নেই (চলে যেতে যেতে)
ছোট ভাই চেঁচিয়ে বলছে মা তোমার ছেলে প্রে.
ওর মুখ আটকে ধরে বললাম আরে টাকা নিতে চাইছিস নে মাকে বলতে হবে কেন?
:তাহলে টাকা দাও।
এই নে টাকা। বাবা যখন টাকা দিয়েছিল খুব খুশি হয়েছিলাম। ধুর নানা বাড়ি আর যাবই না।এই কয়টা টাকা নিয়ে কি করব।
এমন সময় মা বলল আজিজ তুই রেডি হয়ে নে।রেডি হতে হতে পরিচয়টা দিয়ে দেই।

আমি মো. আজিজুল ইসলাম আজিজ আর যে আমাকে ঘুম থেকে উঠাইলো ও আমার ছোট ভাই রাজ তাঁর বয়স সাত।বয়স অনুযায়ি ও একটু বেশি দুষ্ট।আর ওর প্যারায় আমি বাড়িতেই থাকতে পারি না।
জিনি আমাকে রেডি হতে বলল তিনি আমার মা।বাবা বকলেও মা অনেক ভালবাসে।বাবা বাজারে তাই তাঁর সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে পারলাম না।

এমন সময় মা বলে উঠলো কিরে আমার কথা তোর কানে পৌঁছায় না নাকি।
রাজ:কানে পৌঁছাবে কি করে। দেখ কোন প্রেমিকার সাথে কথা বলছে।
এই আমি প্রেম করি তাই না (কান ধরে)
ওকে ছাড়। ও ঠিকি বলেছে(মা আমার কান ধরে)
আজ এই প্রথম পাঠকদের পরিচয় দিতে গিয়ে মায়ের বকা শুনতে হলো
জীবনটা বেদনা।
যাইহোক,আমরা রওনা দিলাম নানার বাড়ি উদ্দেশ্যে। প্রায় পনের বসর পরে নানা বাড়ি যাচ্ছি।বাবা ড্রইভিং করছে মা বাবার সামনে বসেছে ।আমি আর রাজ পেছনে বসে আছি আর ঝগড়া করছি।
রাজ:ভাই তুমি কি জানো বড় মামার মেয়ের নাম কি?
আমি:না।
রাজ:ভাই তাকে দেখতে কিন্তু পুরাই ঝাক্কাস লাগে।
রাজের কান ধনে বললাম বেশি পেকে গেছিস তাই না।মাকে বলে তোর একটা ব্যবস্থা করতে হবে।
রাজ:তোমার আগে আমি বিয়ে করতে পারব না।
হায় আল্লাহ এর চিন্তাধারা এতো গভিরে কেন?

এমন সময় গাড়ি থেমে গেল।
আমি:বাবা কি হলো?
বাবা:দেখতে হবে।
বাবা দেখে বলল আজিজ গাড়ি নষ্ট হয়ে গেছে।এখন কেমন করে তোর নানা বাড়ি যাবি।
আমি:দেখি বাবা এই রাস্থায় কোনো গাড়ি আসে কি না।
আমরা সবাই গাড়ি থেকে নেমে রাস্থার পাশে দাড়িয়ে আছি।একটি গাড়ির অপেক্ষায়। জানি না এমন নির্জন রাস্থায় গাড়ি আসবে কি না।
রাজ:ভাই তোমার ভাগ্য ভালো না।মামাতো বোনকে তুমি দেখতে পারবে না।
আমি:মা ও মা দেখ তোমার ছেলে..
রাজ:এই নাও দশ টাকা।তার পরেও মাকে বলো না প্রিজ।
আমি:ওটা তোর কাছেই রাখ।আর এমন কথা কখনোই বলবি না।
এমন সময় একটা গাড়ি আসলো আমাদের কাছে।সমস্যা হলো তখনি যখন দেখলাম গাড়িতে যে কোনো দুই জন যেতে পারবে।কারণ গাড়িতে একটা মেয়ে আছে আর ড্রাইভিং করছে একটা ড্রাইভার।
আমি:সরি আপনাদের সমস্যা করলাম।যান আপনারা।
মেয়েটি বলল আপনি!
আমি:হ্যা কিন্তু আপনি কে?
মেয়েটি গাড়ি থেকে নেমে বলল আপনার মা বাবা আর ভাই আমার গাড়িতে যাক আমরা অন্য গাড়ি নিয়ে আসি কেমন।
আমি:ওকে।
মা বাবা আর রাজকে গাড়িতে তুলে দিলাম।
ওরা চলে যাচ্ছে যাওয়ার সময় রাজ বলল মেয়েটাকে কিন্তু সুবিধার মনে হচ্ছে না তবে দেখতে সুন্দর।

মেয়েটা রাজের কথা শুনে মিষ্টি একটা হাসি দিল।
এই যে আমি আপনার সাথে প্রেম করব না এমন হেসে লাভ নেই।
মেয়েটির হাসি আরো বেড়ে গেলো।বুঝতে পারছি না মেয়েটার মাথায় সমস্যা আছে কি না।
আমি:আপনার নাম কি?আর আপনি কি আমাকে চেনেন?
মেয়েটি বলল আমার নাম মোহনা।আর আপনার নাম কি?
আমি আজিজুল সবাই আজিজ বলে ডাকে।
মোহনা:কোথায় যাচ্ছেন আপনারা?
আমি:নানা বাড়ি।
মোহনা:আমাকে নিয়ে যাইবেন কি?
এমন সময় মনে পড়ে গেলো আমি তো নানা বাড়ি চিনি না এখন কি হবে?কেমন করে যাব নানা বাড়ি।

মোহনা:কি হলো?কি ভাবছেন।
আমি:আরে আমি তো আমার নানার বাড়ি চিনি না।
মোহনা:কি!আপনি আপনার নানার বাড়ি চেনেন না?(হাসতে হাসতে)
আমি চুপ করে আছি।
মোহনা:আমি আপনার নানার বাড়ি চিনি চলুন।
আমি:হেঁটে হেঁটে নাকি?
-না আপনাদের গাড়ি নিয়ে।
-নষ্ট গাড়ি কেমন করে চলবে?
-আরে আগে উঠুন তারপরে দেখ।গাড়িতে উঠতে উঠতে।
আমি পেছনে উঠতে যাব তখন বলল সামনে আসেন(রেগে)

আমার খুব কান্না পাচ্ছে এই মেয়ে আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে কে জানে।
শেষ মেষ নানার বাড়ি পৌঁছে গেলাম।গাড়ি থেকে নেমে বললাম ধন্যবাদ আপনাকে।
এমন সময় ছোট ভাই রাজ ছুটে এসে বলল ভাই এই মেয়ের সাথে কি কি করেছো?
মারবো একটা কানের নিচে দারা।
মোহনা:আপনার ভাই খুব দুষ্ট তাই না।
আমি:কি আর বলবো দুঃখের কথা।আল্লাহ এমন একটা ভাই দিয়েছে যে কি না আমার চেয়ে বেশি পেকে গেছে।

আমরা বাড়ির ভিতরে ঢুকতেই দেখি সবাই বসে আড্ডা দিচ্ছে।আমি এখানকার কাউকে চিনি না।তবে রাজ সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিল।
সবার আগে বড় মামার বড় মেয়ে ঝুমার সাথে তারপরে সবার সাথে।
ঝুমা মোহনাকে দেখে বলল আরে দোস্তি তুই।
:হ্যারে।তোর ফুফাতো ভাই নাকি তোদের বাড়ি চেনে না তাই আমাকে আসতে হলো।
ঝুমা:তাহলে আজ রাতটা আমাদের বাসায় থেকে যা।
আমি বুঝতে পাড়লাম মোহনাকে ঝুমা খুব ভালো করে চেনে।
সারা সন্ধা সবার সাথে অনেক মজা করেছি।
রাতে খাওয়া দাওয়া শেষ করে রাজকে বললাম আমি যে রুমে থাকবো সেই রুমে যেয়ে শুয়ে থাক আমি বাইরে থেকে আসি।

বাইরে দাড়িয়ে ভাবছি মোহনার সাথে প্রেম করলে কেমন হয়?এমন সময় কেমন একটা গন্ধ নাকে আসলো।গন্ধটা ছিলো পচা পচা।
গন্ধটা আমার নাকে আসতেই সারা শরীর শিউরে উঠে।মনে হচ্ছে এই বাড়িতে কোনো অশরীরি প্রবেশ করলো।
আমি দৌড়ে চলে আসলাম আমি যে রুমে থাকবো সেই রুমে।এসে যা দেখি, তা দেখে নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে।

◾মোহনা কি আজিজকে আগে থেকে চেনে?তা না হলে প্রথম দেখাতে কেন বলল আপনি!নষ্ট গাড়ি কেমন করে আপনা আপনি ঠিক হয়ে গেল?
আর আজিজ রুমে গিয়ে কি দেখতে পায়।যা সে নিজের চেখকে বিশ্বাস করতে পারছে না?

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com