Logo
নোটিশ ::
আপনার যেকোনো সৃজনশীল লেখা পাঠিয়ে দিন আমাদের ঠিকানায়।আমাদের ইমেইল: hello.atharb@gmail.com

গল্প: জীন রাজ্য ভ্রমণ ─ মো.আজিজুল ইসলাম (পর্ব: ৫ম এবং শেষ পর্ব)

অঙ্কন ডেস্ক / ৪৩ বার
আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২০

 

আমার মা বাবা আর ভাইয়ের হত্যাকরি জীন রাজ্যের রাজার বড় মেয়ে আফরোজা।আর আমি ওদের সবাইকে শেষ করে ফেলবো।যেনো ওই জীনরা কোনো মানুষকে ঠকাতে না পারে।
দাদি মা:কি!তুই জীনদের শেষ করতে চাইছিস।তুই জানিস আমি কে?(প্রচুর রেগে)
আমি:আপনি এমন রাগছেন কেন?আর আমি প্রতিশোধ নেবো।আমার পরিবারকে মারার।আর এটা হবে ভয়ংকর প্রতিশোধ।
দাদি মা:তোর এই আশা কখনোই পূরন হবে না।আমি হতে দিবো না কারণ আমিও পরী।আমাকে জীন রাজ্য থেকে বের করে দিয়েছে কিন্তু সেখানে আমার পরিরাব আছে আমি চাইনা তারা তোর হাতে মরুক।
আমি:হা হা হা আমাকে কেউ আটকাতে পারবে না আমি অনেক শক্তির অধিকারি আমাকে রুখার ক্ষমতা আমার গুরু বাদে কারো নেই।
:তাহলে এই দেখ তোকে রুখার ক্ষমতা আমার আছে কি না।এই বলে আমাকে আটকে ফেললো একটা লোহার খাঁচার মধ্যে।
আমি হাজার চেষ্টা করেও বের হতে পারলাম না।
বাইরে থেকে হেসে হেসে বলল এখন এখানে বন্ধি থাক ততদিন যতদিন না বাইরে থেকে কেউ মুক্ত না করে।আর হ্যাঁ তুই প্রতিদিন খাবার পাবি সেটা খেয়েই বেঁচে থাকবি।
আর এতো দিনে আমি সবাইকে সতর্ক দরে দেবো যেনো তুই কারো ক্ষতি করতে না পারিস।
আমি:একবার মুক্ত হয়ে নেই তখন আপনাকেউ মেরে ফেলবো।
দাদি মা মানে বুড়ি পরীটা চলে গেলো।

আমি বন্ধি হয়ে আছি।কেটে যাচ্ছে বসরের পর বছর। তার পরেও আমি মুক্তি হতে পারছি না।ভাগ্যিস খাবার আপনা আপনি আমার কাছে আসে।না হয়ে এতো দিনে আমার হারগুলো পড়ে থাকতো এই খাচার মধ্যে।দেখতে দেখতে কেটে গেল তিনটা বছর।আমার দাড়ি গোঁফ বড় বড় হয়ে গেছে বাইরে বের হলে হয়তো কেউ চিনতেই পারবে না।দেখবে কেমন করে!আমিতো বন্ধি আছি এখান থেকে বের হওয়ারতো কোনো রাস্থ নেই।হয়তো আমার শেষটা এই খাচার মধ্যেই হবে।বুড়িটার উপর খুব রাগ হচ্ছে আবার ভালবাসতে ইচ্ছে করছে খাবার দেয়ার জন্য।
মাথায় চলে আসলো আর এক চিন্ত।পরী আর জীন রা যদি খারাপ হতো তাহলে আমাকে মেরে ফেললো না কেন?আমাকে শিক্ষা দেওয়ার জন্যই হয়তো এমন করছে।যাই হোক আফরোজাকে মরতেই হবে।আর ও হয়তো আধা মরা হয়েই আছে কারণ ডানা ছারা পাখির অস্তিত্ত থাকে না।

অব শেষে গুরুর সাথে মন্ত্রের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে সক্ষম হই।
গুরুজি আমার কাছে ছুটে আসে।সেও অনেক চেষ্টা করে আমাকে মুক্ত করার কিন্তু পারেন না।এক জনকেই ভরসা করেছিলাম ভেবেছিলাম সে খুলে দিতে পারবে কিন্তু না।
গুরু:এইটা থেকে তোমাকে মুক্ত করতে কেবল এক জন জীন বা পরীই পারবে।আমি একটা পরিকে বস করে আনছি চিন্তা করবে না।
কিছুক্ষণ পরে একটা পরীকে বস করে নিয়ে আসলো, কিন্তু সেই পরীর কোনো শক্তি ছিলো না।কারণ এই পরীই শেই পরী যে আমার মা বাবা ভাইকে মেরেছে মানে এটা আফরোজা।

আমি গুরুজিকে বললাম গুরুজি আপনি এই পরীকে বন্ধি করেন আর না হয় পুরিয়ে মেরে ফেলেন।ওই আমার মা বাবার হত্যাকারি।
আমার কথা শুনে গুরুজি তাঁর হাতে থাকা একটা লাঠি দন্ড পরীর দিকে তাক করলো।সেই লাঠি থেকে একটা রশ্মি বের হয়ে আফরোজার শরিরে স্পর্শ করলে আফরোজা পুরে ছাই হয়ে যাবে।
কিন্তু সেই আলো আফরজার শরিরে স্পর্শ করার আগে গুরুজি ও আমার মতো বন্ধি হয়ে গেলো।কি হলো এটা বুজে ওঠার আগেই সেই বুড়ি মা হাসতে হাসতে দৃশ্যবান হয়।
মনে মনে ভাবছি, এতো দিন মরলে আমি একা মরতাম কিন্তু এখন বুঝি দুই জনকেই মরতে হবে।

বুড়ি মা আমাকে বলল আফরোজার পাখনা ফিরিয়ে দিতে।আমি না সুচক বলে দেই।তারা দুই জন চলে যায়।থেকে যাই আমি আর আমার গুরু।
গুরু:আমার বয়স হয়েছে হয়তো আর বেশি দিন বাচবো না।তাই বলি আমার সকল মন্ত্র তোমাকে দিয়ে দিবো তুমি কি বলো?
যে একটা পরীর হাত থেকে বাঁচতে পারেনা তার মন্ত্রের উপর কতোটুক বিশ্বাস করা যায়(মনে মনে)
আমি:হ্যাঁ ঠিকি ভেবেছেন আপনি।
তার পরে তাঁর সকল মন্ত্র বিদ্যা আমাকে শিখিয়ে দিলো এবং তাঁ হাতের লাঠি দন্ড ও।
এমন সময় আমার কানে ভেসে আসলো একটা ছোট্ট শিশুর কন্ঠ।কোথা থেকে বলছে তা দেখতে পাচ্ছি না ছেলেটি আব্বু আব্বু বলে ডাকছে।

আমি:কে কথা বলছো সামনে আসো।
:আব্বু আমি তোমাকে বাঁচাতে এসেছি।জানো বাবা একটা বুড়ি আর আফরোজা আন্টি আম্মাকে অনেক মেরেছে।নানাকে তাঁর আসন থেকে নামিয়ে দিয়েছে আর সেই জায়গা দখল করেছে বুড়িটা।
আমার বুজতে বাকি রইলো না যে এটাই আমার ছেলে।
আমি:তুমি আমাকে আগে মুক্তি করো তার পরে সবাইকে বাঁচাবো।
:ওকে।
আমাকে মুক্ত করার পরে আমি আমার গুরুকে মুক্ত করলাম।এখন আমার চোখ লালচে বর্নের হয়ে আছে মনে হচ্ছে আমার সন্তান জীনকেও মেরে ফেলি।কিন্তু ও তো দোষ করেনি এক জনের দোষ করবে আর অন্যজন সাজা পাবে না এটা করা যাবে না।যে দোষ করেছে তাকেই শাস্তি পেতে হবে।

আমাদের মুক্ত করে ছেলে চলে যায় আর বলে আমাকে তাড়াতাড়ি চলে যেতে হবে, যদি জানতে পারে আমি তোমাদের বাঁচাতে এসেছিলাম তাহলে আমাকে মেরে ফেলবে।

আমি আমাদের দুজনের দুইটা ইমেজ তৈরি করে আমাদের জায়গা রেখে চলে আসি বাড়ি।
এসে দেখি পুলিশ আমার বাড়িতে ক্যাম্প করেছে।আমাকে পেলেই ধরে ফেলবে।এখন কি করবো যে করেই হোক এদের ভাগিয়ে দিতেই হবে।
এমন সময় কেউ এক জন আমার কলার ধরে বলল আজিজ কোথায় আমি জানি তুমি আজিজের কাছের লোক বলো বলো তাড়াতাড়ি।
লোকটার দিকে তাকিয়ে দেখি এসআই সাজু স্যার।কিন্তু আমাকে চিন্তে পারছে না কেন।এবার চিন্তায় জীবন যায় যায়।
আমি:স্যার আমি আজিজকে চিনি না তবে আমি আজিজের পিয়ারিকে চিনি।
স্যার অবাক হয়ে বলল পিয়ারি মানে কি?খুনি নাকি আসামি?
মনে হচ্ছে এই ব্যাটাকে আফরোজা পাগল বানিয়ে চলে গেছে এই জন্য আমাকে চিনতে পাররছে না।
আমি:স্যার পিয়ারি মানে প্রেমিকা প্রেমিকা বুজলেন।
স্যার:ওর প্রেমিকা তো মরে গেছে আর আজিজ তাকে হত্যা করেছে।
আমি:ছি-ছি এটা কি বলেন?ইভাকে মেরেছে একটা পরী আর দোষ দিয়েছে বেচারা আজিজের।স্যার আজিজকে ছেরে পরীর পিঁছু লাগেন।তা না হলে পরী কবে আপনাকে মেরে ফেলবে টের পাবেন না।আর আজিজের ওই ঘরে পরী আর জীন বসবাস করে।
আমার কথা শুনে অন্য পুলিশ সবাই দৌড়ানী দিলো মনে হয় না থানা পাওয়ার আগে থামবে।এদিকে এসআই স্যার বলছে আরে আমাকেও তো নিয়ে যাও আমি একা একা মরতে চাই না(দৌড়াতে দৌড়াতে)

আমি ঘরে ঢুকতেই চোখ গেলো দর্পনের দিকে ওমা দর্পনের ভিতরে কে ওটা?আমি ভয় পেয়ে বাইরে চলে আসি।
দরজা থেকে বলছি ঘরে কে আছিস বের হ।না হলে কিন্তু খবর আছে।
প্রায় আধা ঘন্টা কেটে গেলো কেউ বের হওয়া তো দূরের কথা কোনো শব্দও হলো না।
হ্যাঁ বুজতে পেরেছি ওটা একটা জীন হবে।এবার কোথায় পালাবে?আমি তো তাকে ধরেই ফেলবো।
আমি মন্ত্র পড়তে লাগলাম তার পরে ঘরে প্রবেশ করলাম।একি দেখছি দর্পনের ভিতরের মানুষটি সেটাই করছে যা আমি করছি।রেগে গিয়ে দিলাম নাক বরাবর এক ঘুসি।হাত দিয়ে রক্ত ঝড়তে লাগলো তার পরে মনে হলো ওটা আমারি চেহারা।তাইতো বলি এসআই সাজু আমাকে কেন চিনতে পারে নাই।আমি নিজে নিজেকেই তো চিনতে পারি নাই।

বাজারের একটা সেলুন থেকে চুল ধাড়ি কেটে বাড়ি আসলাম।
অনেক দিন ফল খেয়েছি তাই আচারন পাখিদের মতো হয়ে গেছে যাই একটু উড়ে উড়ে ফল খেয়ে আসি।
আস্তে আস্তে সন্ধা নেমে আসলো আর আমি রওনা দিলাম জীনদের রাজ্যে।কিন্তু মাঝ রাস্থায় দেখা হলো বুড়ি মার সাথে।আমি তাঁকে বন্ধি করে নেই আমার মন্ত্র দিয়ে।
বুড়ি মা কান্না করছে আর বলছে বাঁচাও কেউ আমাকে বাঁচাও।
আমি হাসতে হাসতে বললাম আজ আমার হাত থেকে আপনাকে কেউ বাঁচাবে না।বাঁচালে বাঁচাতো আফরোজা কিন্তু ওর তো এখন কোনো শক্তি নেই ও এখন উড়তেও পারবে না।
বুড়িটা বলল কি!আজিজ তুমি এখানে?তুমি তো বন্ধি আছো আমার হাতে।
আমি:আমার ছেলে আমাকে মুক্ত করেছে।শুধু আপনাদের দুই জনকে মারার জন্য।

বুড়ি মা কে বন্ধি করে নিয়ে আসলাম জীন রাজ্যে।সবাই আমাকে দেখে ভয়ে ঘাবরে যায়।কারণ আমি বলেছিলাম আমি শক্তি নিয়ে এসে সবাইকে মেরে ফেলবো।
আমি:আপনারা কেহ আমাকে দেখে ভয় পাবেন না আমি কারো ক্ষতি করবো না শুধু তাদের মেরে ফেলবো যে আমার পরিবারকে মেরেছে।
রাজা:তার আগে আমাদের এই বুড়ির হাত থেকে বাঁচাও।এ আমাদের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে।
আমি:একে আমি আপনাদের সবার সামনে মেরে ফেলবো দেখেন আপনারা।
তার পরে আমি দাদি মা মানে বুড়ি মাকে নানা যন্ত্রনা দিয়ে মেরে ফেরি শেষে পুরিয়ে ছাই করে দেই।
আমি আমার ছেলে আর তৃষাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে কিন্তু না দেখেই চলে আসলাম আমাদের দেশে।কারণ আমাদের এখানেই আফরোজা বন্ধি আছে ও উড়তে পারবে না ওর পাখনা আমার কাছে।

আমি আমার ঘরে বসে ভাবছি আফরোজা কোথায় থাকতে পারে?কোথায় খুঁজবো?কোথায় পাবো তাঁকে।
ঘর থেকে বের হয়ে দেখি আফরোজা দারিয়ে আছে,যেনো ও আমার উপর অভিমান করেছে।চোখে হয়তো জল ঝরছে।কিন্তু সেগুলো দেখার সময় আমার নেই আমি আমার মন্ত্রের শক্তি দিয়ে একটা বোতলে বন্ধি করে নদীতে ভাসিয়ে দেই।কারণ অমানুষের মতো ভালবাসার মানুষকে মারতে পারি না আমি।
আর আফরোজার বন্ধুকে পুরিয়ে মেরে ফেলি,বেঁচে থাকলে হয়তো সে আমার উপর হামলা করতে পারে।

আর গুরুর দেওয়া লাঠিটাও ফেলে দেই গহীন জঙ্গলে।কারণ আমি সাধারন মানুষ হয়ে বাঁচতে চাই।
চোখের দুই ফোটা জল ফেলে, অনুভব করছি মা বাবার ভালবাসা আর ছোট ভাইয়ের দুষ্টামি।
রয়ে গেলাম আমি আমার বাড়িতে।যদি আমার প্রতি ভালবাসা জাগে তৃষার তাহলে অবস্যই আসবে আমার কাছে।


এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com