Logo
নোটিশ ::
আপনার যেকোনো সৃজনশীল লেখা পাঠিয়ে দিন আমাদের ঠিকানায়।আমাদের ইমেইল: hello.atharb@gmail.com

গল্প: জীন রাজ্য ভ্রমণ ─ মো.আজিজুল ইসলাম (পর্ব: ০৪)

অঙ্কন ডেস্ক / ৪৪ বার
আপডেট সময় : সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২০

আফরোজাকে রেখে আমি ভালো কোনো তান্ত্রিক খোঁজ করতে লাগলাম।যার কাছ থেকে আমি শিক্ষা লাভ করবো আর জীনদের পরাজয় করবো।সব বট তলা সকল তেঁতুল তলা এমনকি সকল আম তলা খুঁজে একটাও তান্ত্রিক পেলাম না।না পেঁয়ে বাড়ি চলে আসি।বাড়িতে এসে আফরোজার কন্ঠে শুনতে পেলাম সে বলছে কেবল মাত্র চার জনকে মেরেছি আর ছয় জনকে মারতে হবে।
তার কথার উত্তরে কে যেন বলল কিন্তু সাবধান কেউ সন্দেহ করলে কিন্তু হবে না।শক্তি পেতে হলে দশ জনকে মারতে হবে।আর সন্দেহ মুক্ত হয়ে।
:যদি ওই আজিজ সব জানতে পারে?
আফরোজা:কখনোই জানতে পাবে না আর কেউ বললেও বিশ্বাস করবে না কারণ ও আমাকে ভালবাসে।ওতো জানে না আমি ওর সাথে ভালবাসার নাটক করছি।

বাইর থেকে কথা গুলো শুনে মাথা পুরো গরম হয়ে গেল।ধাক্কাদিয়ে দরজা ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করলাম আর বললাম কৈ তুই বিশ্বাস ঘাতক বের হ।আজ তোকে আমি মেরেই ফেলব।
আফরোজা অদৃশ্য হয়ে বলল তাহলে তুমি সব শুনেছো?ভেবেছিলাম তোমাকে সবার পরে মারবো কিন্তু তুমি নিজে তাড়াতাড়ি মরতে চাইছো হা হা হা।
আমি:হেসে লাভ নেই তোমাকে মরতেই হবে তাও আমার হাতে।
:তার আগে সবাইকে বলবো ইভাকে তুমি খুন করেছো আর দেখিয়ে দেবো ওই জঙ্গলে ঢেকে রেখেছো।কখন পুলিশ সব করবে আমর কিছুই করতে হবে না হা হা হা। ভাবলেই হাসি পাচ্ছে।
আমি:তুমি বহুরুপী তাই বেচে যাচ্ছো যদি সামনে আসতে পারো আসো।দেখি কত বড় সাহস তোমার।

আমার কথা শুনে হাসতে হাসতে দৃশ্যমান হতে লাগলো।আমি কোনো সময় নষ্ট না করে গায়ে যত শক্তি আছে সকল শক্তি প্রয়োগ করে কশে একটা থাপ্পর দিলাম।থাপ্পর খেয়ে মাটিতে পড়ে যায়।তার পরে অদৃশ্য হয়ে যায়।
আমার বুঝতে বাঁকি নাই যে আফরোজা কোনো এক কালো শক্তি হাসিলের জন্য এমন করেছে।আর ও দশ জনকে মারতে পারলে সেই শক্তি পেয়ে যাবে।আমি তা কখনোই হতে দিবো না।আমি ওকেই শেষ করে দিবো।কিন্তু তার আগে আমাকে মন্ত্র বিদ্যা শিখতে হবে।

রাতে বাড়ি আসি নাই।বাইরে রাত পার করেছি।সকালে বাড়িতে এসে দেখি আফরোজা সুয়ে আছে আর ওর পাশে ওর ডানা মানে পাখনা রয়েছে।ভবলাম আমি যদি আফরোজার পাখনা নিয়ে নেই তাহলে ও আর উড়তে পারবে না।কাউকে ঠকাতেও পারবে না।তার পরে আমি আমার প্রতিশোদ নেবো।আস্তে আস্তে ওর কাছে যেয়ে পাখনা নিয়ে চলে আসি।
মনে মনে বললাম মৃত্যুর জন্য তৈরি হয়ে নে আফরোজা।তোর মৃত্যু ঘনিয়ে এসেছে তোকে আর কেউ বাঁচাতে পারবে না তোকে মরতেই হবে।
এমন সময় পুলিশের গাড়ির আওয়াজ শুনতে পেলাম।তার মানে আফরোজা কি বলে দিয়েছে পুলিশকে?না ও বলেনি হয়ত সেই বলেছে যে আফরোজার সাথে ছিলো।আর করিম চাচার রুপ নিয়ে আমার সামনে এসেছিলো সেই হলো আফরোজার বন্ধু বা অন্য কিছু।

এসআই সাজু আমাকে বলল আজিজ তুমি ইভাকে খুন করেছো তাই তোমাকে গ্রেফতার করা হলো।
আমি:স্যার কি বলছেন এসব?আপনার পেছনেই তো ইভা ওই তো।
এসআই বলল কৈ ইভা?পেছনে ঘুরে।
এপাশ থেকে আমি কেটে পরেছি।দাঁড়িয়ে থেকে ধরা পরতে চাঁই না।
পেছন থেকে এসআই বলল আমাকে তুই চিনিস না, আমি তোকে ধরেই ছারবো তার পরে কোটে কোট থেকে ফাঁসি মনে রাখিস।
দৌড়াতে দৌড়াতে বললাম আগে তুই পরী আর জীনের হাত থেকে বাঁচেক তার পরে ধরতে আসিসস।আমাকে ধরার আগে ওরা তোকেই মেরে ফেলবে(মনে মনে)

আমি দৌড়াতে দৌড়াতে চলে এসেছি কোনো এক জঙ্গলে। এমন সময় পেছন থেকে কে যেনো চেচিয়ে বলে উঠলো ইস গেলাম রে গেলাম।
পেছনে তাকিয়ে দেখি একটা বুড়ি মা।
আমি:কি হয়েছে দাদি মা এমন কান্না করছেন কেন?
:কাঁদছি কি আর সাদে রে ভাই।এমনিতেই বয়স হয়েছে তার উপর এই কাঠের বোঝা নিয়ে যাচ্ছি,কিন্তু বার বার পরে যাচ্ছে।কি যে করি এখন?।
আমি বললাম দাদি মা আপরার বোঝা আমার মাথায় দিন আমি আপনার বাড়িতে এগিয়ে দিয়ে আসি।
আমার কথা শুনে মুখে মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে বলল চলো তাহলে।
আমি বললাম আচ্ছা দাদি মা আপনার নাম কি?আর আপনার বয়স কতো?
দাদি মা হিসাব করছেন,ওই হলো পঁয়ত্রিশ আর ওই হলো পঁচাত্তর তার পরে এই হলো একশ সাত মোট দুইশ সাত বছর।আর নাম জানতে চাইছো তাহলে শোন আমার নাম মোহনা।

আমি হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে আছি আর ভাবছি ইনার বয়স দুইশ সাত কিন্ত মনে হচ্ছে পন্ঞ্চাশের কিছু উপরে বা ষাট হবে।আর এক জন মানুষ এই কালে ভেজাল সুদ ঘুস হারামের টাকা পঁয়সায় খেয়ে এতো বছর কেমন করে বেঁচে আছে।কোনো সাধারন মানুষ হতে পারে না এ নিশ্চই কোনো অসাধারন মানুষ।
আমি:এই যুগে আর এমন জঙ্গলের মধ্যে আপনি এত দিন বেঁচে আছেন।আপনার চোখে কোনো ভয় ভিতি নাই নিশ্চই আপনার মধ্যে কোনো না কোনো শক্তি বিদ্যামান আছে। আমাকে একটু বলবেন কি আপনি কেমন মানুষ আর বা কোন শক্তি আপনার মধ্যে আছে?
দাদি মা বলল আগে আমার বাড়িতে চলো তার পরে বলবো।
আমার জানতে খুব ইচ্ছে করছে, শুনার জন্য মনটা ছটফট করছে
জানি না তার মুখ থেকে কি উত্তর পাবো!দেখি সে কি বলে।

অব শেষে তাঁর বাড়িতে পৌঁছে গেলাম।কাঠ গুলো বাড়ির এক পাশে রেখে বারান্দায় বসে পড়লাম।বাইরের গগনের ওই সূর্য মামা বড্ড বেশি রশ্মি দিচ্ছে।
এমন সময় তিনি বলল এই পানি পান করে নাও। দেখবে সমস্ত অস্থিরতা দূর হয়ে যাবে।
আমি পানিটা নিয়ে খেয়ে ফেলি।সাথে সাথে আার সকল ক্লান্তি দূর হয়ে যায় আর আমার মধ্যে কেমন যেনো একটা শক্তি চলে আসে।কেনো যেনো আমার খুব উড়তে ইচ্ছে করছে।
দাদি মা:কিরে নাতি উড়তে ইচ্ছে করছে নাকি?
আমি:হ্যাঁ প্রচুর ইচ্ছে করছে।
দাদি মা:আমার সামনে বসো আর বলো তুমি দৌড়ে কোথা যাচ্ছিলা?
আমি বসে বললাম আমি কোথায় যাচ্ছি তা জানি না কিন্তু আমি একটা তান্ত্রিকের খোঁজ করছি। যার কাছ থেকে আমি মন্ত্র বিদ্যা শিখবো আর আমি আমার বাবা মা আর ভাই হত্যার বিচার নিব।
দাদি মা: এই চিঠি আর এই পাত্রটি নিয়ে চলে যাও ওই পাশের জঙ্গলে।জঙ্গলের মাঝখানে দেখবে একটা বড় বড গাছ আছে আর সেই গাছের নিচে বসে আছে একটা লোক তাকে আমার চিঠি আর এই পাত্রটা দিবা।

আমি উড়ে উড়ে চলে আসলাম পাশের জঙ্গলে।দাদি মার কথা মতো।
এসে দেখি সত্য সত্য একটা তান্ত্রিক বসে আছে তাঁকে সেই চিঠি আর পাত্র দিলাম।
তান্ত্রিক:আমার সামনে বসে থাক আর আমাকে দেখ!মন্ত্র শিখতে অনেক ধর্যধারন করতে হয়।বুকে সাহস রাখতে হয়।মন সব সময় ভালো রাখতে হয় তবেইে মন্ত্র সঠিক ভাবে কাজ করবে।
কিছুক্ষণ পরে তিঁনি আমাকে বলল তোমার কি লাগবে বলো।
আমাকে এমন কিছু শিখিয়ে দিন যেনো আমি সমস্ত জীনদের ধ্বংস করতে পারি।
বলো তুমি (ইয়া ছিন ছিন বা ছিন, ইয়া জিন জিন তা জিন। হক আল্লাহ সোবাহান আল্লাহ, জিনকা বশি মিলাদিলা)এবং মুখস্ত করবে তাহলে সকল জীন তোমার কথা শুনবে। সকল জীন তোমার অধিনে আসবে তখন যা ইচ্ছা তা করতে পারবা।আর এই মন্ত্র পাঠ করলে তুমি অদৃশ্য হতে পারবে (বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম।
আলি বা তা ছা-
ইয়া ফা ওয়া হা;
ক্বাফ আলিফের হরফন-
জ্বীন সূরার বাদশা।
দোহাই কামাখ্যা মা;
কেউ যেনো না দেখে মোরে-)
আরো প্রয়জনিয় মন্ত্র শিখিয়ে দিলো এবং বলল মন্ত্র গুলো প্রয়োগ করার আগে আমাকে সরণ করবে।আর কখনো এই জঙ্গলে আসার চেষ্টা বা সাহস করবে না।করলে অনেক বিপদে পরবে মনে রেখ।

আমি চলে আসলাম দাদি মার কাছে।
আমি:দাদি মা আপনাকে কেমন করে ধন্যবাদ জানাবো সে ভাষা আমার জানা নেই।
দাদি মা:ধন্যবাদ দিতে হবে না সধু এটুকু বলো তোমার মা বাবা আর ভাইয়ের হত্যা কারি কে?
আমি:আমা মা বাবা আর ভাইয়ের হত্যাকরি জীন রাজ্যের রাজার বড় মেয়ে আফরোজা।আর আমি ওদের সবাইকে শেষ করে ফেলবো।যেনো ওই জীনরা কোনো মানুষকে ঠকাতে না পারে।
দাদি মা:………..চলবে

গল্প:জীন রাজ্য ভ্রমণ
পর্ব:৪
লেখক:মো.আজিজুল ইসলাম

আমি মন্ত্রর ভিষয়ে বেশি জানি না।যদি কখনো ভুল হয়ে যায় সবাই শুধরানোর চেষ্টা করবেন।

বুড়ি মা আজিজকে কি বলবে?বুড়ি মা কি সত্যিই মানুষ নাকি অন্য কিছু বা অন্য কেহ?

কেমন হচ্ছে বলবেন?আর পরবর্তী পর্বে শেষ হতে চলেছে জীন রাজ্য ভ্রমণ গল্প।
আশা করি সবাই পাশে থাকবেন।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com