Logo
নোটিশ ::
আপনার যেকোনো সৃজনশীল লেখা পাঠিয়ে দিন আমাদের ঠিকানায়।আমাদের ইমেইল: hello.atharb@gmail.com

গল্প: উপহারটি মূল্যবান ছিল || মো.আজিজুল ইসলাম ( ২য় ও শেষ পর্ব)

অঙ্কন ডেস্ক / ৫৬ বার
আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২০

এক দিন রাসেল ফেসবুকে একটা ফটো দেখতে পায়।ফটো টা অন্য কারো ছিল না ফটো টি ছিল মারুফা আর একটা ছেলের।ফটোতে দুজন দুজনকে আকরে জড়িয়ে ধরে আছে।সাথে সাথে মারুফাকে কল করে আর বলে এটা কে?
মারুফা:এটা আমার নতুন বয়ফ্রেন্ড।
রাসেল:তাহলে আমি কে?
মারুফা:তুমি একটা গরিব ছেলে। আর ওরা অনেক ধনি। সেজন্য তুমি এখন কিছুই না।
রাসেল: প্লিজ, এমন করো না। এমন করলে আমি বাঁচতে পারব না।
মারুফা: তুমি একটু ভাবো সে আমার সাথে দেখা করার পরে হীরার আংটি দিয়েছে। আর তুমি কি দিয়েছ? না কিছুই দাওনি শুধু নিয়েছ।
তাহলে আমার কাকে বেছে নেওয়া দরকার?তোমাকে নাকি তাকে?

মারুফার এমন কথা শুনে রাসেল অন্তর ফেটে যাচ্ছে।দুই চোখ বেয়ে জল গড়েপরছে।চার পাশ কেমন যেন ঘুড়তে লাগলো।চোখে আঁধার দেখছে।মনে হচ্ছে কেউ এসে তাঁর হাত দিয়ে কলিজায় তীর মেরেছে।

সকল দুঃখ বেদনা রেখে বলল তুমি আমার সাথে দেখা কর।আমি তোমাকে কিছু দিতে চাই।
তারপর তাঁরা দেখা করে আর রাসেল একটা ব্যাগ দিয়ে বলে আমি এর থেকে বেশি টাকার উপহার তোমাকে দিতে পারব না ভালো থেকো।
বুক ভরা একরাস কষ্ট নিয়ে বাড়ি ফেরে রাসেল।ওদিকে মারুফা অনেক খুশি।আপত বিদায় হয়েছে।আর রাসের দেওয়া উপহারটি খুলেও দেখে না।এটা ভেবে একটা গরিব ছেলে কত টাকার জিনিস দিতে পারে?ঊর্ধে  পাঁচশ টাকার।

মারুফা নতুন করে যে ছেলেকে ভালবাসত তাঁর নাম জ্যাক।দেখতে ছিল অনেক সুন্দর আর বাবার ছিল অনেক টাকা।
মুলতঃ তাঁর কাছে প্রেম বলে কিছুই নেই।আছে শুধু শরীরের  লোভ।
এক দিন মারুফাকে বলে আমি তোমার স্বামির স্থান নিতে চাঁই।
মারুফা:আগে বিয়ে কর।
জ্যাক:এক দিন তো আমাদের বিয়ে হবেই।
মারুফা:না আমার ভয় করে।আমি এসব করতে পারব না।

কিন্তু জ্যাক চার কে পাঁচ বুঝিয়ে তাঁদের শরীরের খোভ পূরন করে নেয়।
তারপর জ্যাক মারুফাকে বলে আজ তুমি আমার সাথে এইটা করলে না জানি আর কত ছেলের সাথে এমন করেছ সো আমি তোমাকে আর ভালবাসতে পারব না।
তুমি একটা লোভি মেয়ে ভালবাসার ছিকু বোঝনা।
মারুফা অনেক কাকুতিমিনতি করে ও জ্যাককে ফিরাতে পারে না।
আজ ভালবাসার নামে নিজের সতীত্বকে বিলিয়ে দিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে।

রুম বন্ধ করে কান্না করে মারুফা।বাইরে বের হয় না আর। রাসেলের কথা খুব মনে পনে পরেছে মারুফার।
ঠিক তখনি মনে পড়ে রাসেলের দেয়া উপহারের কথা।মারুফা দৌড়ে যেয়ে উপহার টা নিজের বিছানায় নিয় আসে।খুলে দেখে একটা বই।কিন্তু বইটি অন্য কোন সাধারন বই না।বইটি হলো পবিত্র আল-কুরআন।
মারুফা আজ বুঝতে পারছে এটাই সর্বচ্চো মূল্যবান উপহার। কিন্তু আমি বুঝতে পারিনি।রাসেলের কথা গুলো খুব কষ্টের কারন হচ্ছে।না জানি সে কেমন কষ্ট পেয়েছে?যেদিন মুখের  সামনে বলেছিলাম তুমি গরিব।এখন কেমন করে বলব রাসেল তুমি গরিব না তুমি তো রাজ, তুমি তো আমাকে সব চেয়ে বড় উপহারটি দিয়েছিলে। কেমন কষ্ট পেয়েছে?যেদিন মুখের  সামনে বলেছিলাম তুমি গরিব।এখন কেমন করে বলব রাসেল তুমি গরিব না তুমি তো রাজ, তুমি তো আমাকে সব চেয়ে বড় উপহারটি দিয়েছিলে।

কান্না করতে করতে করতে মারুফার চোখের নিচ দিয়ে কালি পড়েছে, চেহারা রুগ্ন হয়েছে  একধম দেখতে বাজে দেখতে লাগে।
এমন অবস্থায় মারুফা রাসেলদের বাড়ি আসে।কিন্তু রাসেলের দেখা মেলেনি মিলেছে রাসেলের জন্ম দুঃখি মা বাবার দেখা।
মারুফা:আন্টি আঙ্কেল রাসেল কোথায়?
রাসেলের বাবা বলে মা তুমি চলে যাও।তুমি এখানে থাকলে আমার রাসেলের আত্মা কষ্ট পাবে।
মারুফা তাকিয়ে দেখে সামনে একটা পালকি।আর পালকিতে একটা লাশ।
লাশটাকে দেখার পরে লাশটি জড়িয়ে ধরে মারুফা মাটিতে লুটে পড়ে।কারণ লাশটি ছিল রাসেলের যা দেখে মারুফা মেনে নিতে না পেরে নিজেও মৃত্যু বরণ করে।
মারুফার মা বাবা তাঁর দাফন করেন রাসেলের কবরের পাশে। সমাপ্ত।

তাঁরা বেঁচে থাকতে এক জায়গা হতে পারেনি। হয়তো এখন দুজনের আত্মা কথা বলবে।খুব নির্জনে আর অতি গোপনে।যেন কেউ তাঁদের দেখতে না পায়।যেন তাঁদের কথা কারো কান অব্দি না পৌঁছায়।

দোয়া করি কেউ যেন তাঁর ভালবাসাকে না হারায়।আর ভালবাসা রক্ষা করার দায়িত্ব কিন্তু  একা কারো নয়।দুজনকেই দায়িত্ব বহন করতে হবে।
ভালবাসা গরিব ধনি আর চেহারা দেখে হয় না। ভালবাসা হয় মন থেকে।
যদি কারো টাকা পঁয়সা আর চেহারা দেখে প্রেম করো তা মনে রাখবে একদিন টাকা পঁয়সা আর চেহারা নষ্ট হয়ে যাবে। তখন কি করবে?
আর যদি সুন্দর মন দেখে করা হয় তাহলে মৃত্যু আগেও সেই ভালবাসা ফুরাবে না।হয়তো থাকতে পারে রাগ অভিমান।কিন্তু অভিমান ভাঙ্গার পরে ভালবাসাটা আরো বৃদ্ধি পায়।


এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com