Logo
নোটিশ ::
আপনার যেকোনো সৃজনশীল লেখা পাঠিয়ে দিন আমাদের ঠিকানায়।আমাদের ইমেইল: hello.atharb@gmail.com

গল্প: সুখ ─ নওশাদ বিন ইব্রাহীম

অঙ্কন ডেস্ক / ৪৬ বার
আপডেট সময় : বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২০

 

টং দোকানের চা পান করি আজ বছর দশেক হলো,শহরের বিভিন্ন টং দোকানের চায়ের স্বাদ আমার গ্রহণ করা হয়েছে।পাশ্ববর্তী এলাকার একজন সমবয়সী ছেলের টং দোকানে সময় পেলেই যাই,গল্প গুজব করে সময় কাটাই।
করোনাকালীন সময়ে আর যাওয়া হয়নি,আজ দীর্ঘ চারমাস পর তার দোকানে গেলাম।হাসিমুখে বেশ কিছুক্ষন গল্পসল্পও হলো।চা শেষ করে জন প্লেয়ারে মুখ রাখবো এমন সময় দেখি সে আমার সামনে এসে দাঁড়লো।
পকেট হতে নতুন একটা বাটন মোবাইল বের করে দিয়ে স্টারশিপ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধির নাম্বার সেইভ করে দিতে বলে আবারো ব্যস্ত হয়ে পড়লো।মোবাইল তাকে দিতে গেলেই বলে আপনার হাতে রাখেন কাজ আছে।মিনিট পাঁচেক পর বললো,ভাই আপনার লগে একটা সেলফি তুলুম।আপনাকে কতদিন দেখি না।লকডাউনে অনেক কষ্টে পনেরে’শো টাকায় মোবাইলটা নিলাম,আমার আপনজনদের সাথে সেলফি তুইল্লা রাখি।রাতের বেলায় গিয়া ছবিগুলো দেখি।আপনি আমার বড় ভাই আপনার লগেও একটা ছবি তুলার শখ আমার।
সেলফি উঠলো,দুই ইঞ্চির স্কিনে আমার ৪৬ ইঞ্চির দেহটি কোনভাবে এডজাস্ট হলো।মোবাইলে আমার নাম্বার সেইভ করে দিতে বলে সে আবারো কাজে ব্যস্ত।আমি আসার সময় টাকা দিতে চাইলে বললো,টাকা পড়ে দিয়েন।এখন বেচাকেনা ভালো হয়তাছে,আপনার নামে নতুন হিসেব লেইক্কা রাইতাছি।ভাই মাঝে মধ্যে মনে পড়লে ফোন দিমু।

বাসায় ফেরার সময় ওর হাসিমাখা মুখটিকে বারবার মনে পড়ছিলো,কি আনন্দ তার একটি বাটন মোবাইলে।
আমরা ৪৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা নিয়েও সুখে নেই,সুখী থাকার অভিনয় করতে হাজার হাজার ছবি ক্লিক করি অথচ আমরা সন্তুষ্ট নই, এই সন্তুষ্টহীনতার কারনে ডিপ্রেশনে ভুগি,গলায় ফাঁস লাগায় কিংবা নেশার আড্ডায় মগ্ন থাকি।
অথচ সুখী হওয়ার জন্য সর্বপ্রথম প্রয়োজন সন্তুষ্টি যা আমাদের এখন নেই বললেই চলে,তাই আমরা হাসিমুখের এক হতাশ জেনারেশন।

রিও কফিতে বসেও অনেক সময় পরিপূর্ণ তৃপ্তি পাওয়া যায় না যা হয়তো পাওয়া যায় ছয় টাকার টং দোকানের ধোঁয়া উঠা চায়ের কাপে,
রেডিসন ব্লুর রফ টপে বসে যতটুকু না আনন্দ পাওয়া যায় তার চেয়ে বেশি নির্মল আনন্দ খুঁজে পাওয়া যায় বাটালি হিলের শতায়ু অঙ্গনের রেস্টিং সিটে বসে।

আভিজাত্য এবং শো অফ নামক শব্দ দুইটিই আমাদের মাঝ হতে সকল ছোটখাটো আনন্দগুলোকে ছিনিয়ে নিচ্ছে।আমরা সুখ বিচার করি দামী মোবাইল,ব্রান্ডের জামা কাপড় কিংবা চেক ইন এর মাধ্যমে অথচ এতসব ব্রান্ডের মাঝেও আমরা কি আসলেই সুখী হতে পেরেছি?
রাতে ঘুমানোর আগে যদি ঘুমের ঔষধ নিয়ে ঘুমোতে হয় তখন মনে প্রশ্ন থেকে যায়,দিনশেষে সুখী হতে পারলাম কই?
অথচ সুখের পিছনে না ছোটা মানুষগুলো বিছানাতে গা লাগানোর সাথে সাথেই কি চরম আনন্দ নিয়ে ঘুমের জগতে হারিয়ে যায়।আপাতদৃষ্টিতে তারা সুখী নই এমন দৃশ্যপট দেখালেও দিনশেষে তারাই সুখী এবং খুব বেশিই সুখী।


এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com