Logo
নোটিশ ::
আপনার যেকোনো সৃজনশীল লেখা পাঠিয়ে দিন আমাদের ঠিকানায়।আমাদের ইমেইল: hello.atharb@gmail.com

গল্প: জীন রাজ্য ভ্রমণ ─ মো. আজিজুল ইসলাম

অঙ্কন ডেস্ক / ৭২ বার
আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২০

আফরোজা অনেক চেষ্টা করে কিন্তু তাদের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিতে পারলো না।রাজদরবারে নাকি বিচার হবে তার পরে নাকি ফাঁসি দিবে।
মনে হচ্ছে আমার অস্তিত্ব এখানেই শেষ হতে চলেছে।আমি মনে হয় আর আমার সেই সুন্দর গ্রামে ফিরে যেতে পারব না।খুব কান্না করতে ইচ্ছে করছে।

এমন সময় আফরোজা এসে বলল একি তুমি কাঁদছো কেন?
কেন আর কাঁদবো কাল সকালে আমাকে ফাঁসি দিয়ে মেরে ফেলা হবে তাই মনের সুখে কাঁদছি
আফরোজা:হা হা হা তুমি অজথা চিন্তা করছো।আমাদের রাজার শরির দয়ায় মায়ায় ভরপুর দেখ তোমাকে কিছুই করবে না।আর আমি রাজার মেয়েকে বোঝাব।
আমি:ওকে এবার যাও আমাকে একটু একা কাঁদতে দাও।
আমার কথা সুনে আফরোজা হাসতে হাসতে চলে গেলো।

সকাল প্রায় দশটা বেজে গেছে কিন্তু এখনো আমাকে খাইতে দেয়নি
ক্ষিদা লাগলে আমি ঠিক থাকতে পারি না।
হাতের কাছে যা পাচ্ছি তাই বাইরে ছুড়ে মারছি।এমন সময় আওয়াজ আসলো আহ্।
তার মানে আমার ছুড়া ঢিল কারো শরিরে আঘাত করেছে।
এমনিতেই এক ঝামেলায় পরে আছি নতুন করে আবার কোন ঝামেলায় জড়াই আল্লাহ ভালো জানেন।

আপনার সমস্যা কি?(রাজার মেয়ে)
আমার ক্ষিদা লাগছে খাইতে দিবেন কখন?( রেগে)
একটু দেরি করন আমি ব্যবস্থা করছি।চলে গেলো।
এমন সময় আফরোজা অনেক ফল মুল এনে বলল খেয়ে নাও।
যদিও এত্ত ফল মুল কখনো এক সাথে খাইনি তার পরেও সব শেষ করে ফেললাম।
এত্ত খাওয়া খেয়েছি যে দুই দিন না খেয়ে অনায়াসে থাকতে পারব।
দেয়ালের সাথে পিট লাগিয়ে বসে আছি এমন সময় অনুভব করলাম আমার পাশে কেউ এক জন বসে আছে।
আমি আস্তে করে বললাম কে আপনি?
সে বলল খাবার চাইছিলেন খারাব নিয়ে এসেছি এবার এগুলো খেয়ে আমাকে উদ্ধার করেন।
খাবারের কথা সুনে আমার মাথায় রক্ত উঠে গেলো।মাত্রই এত্ত গুলো খাবার খেলাম এখন নাকি আবার খাবো।

আমি:এগুলো এখন খেতে পারবো না।
:কি আমি জীন রাজ্যের রাজার মেয়ে আর আমি নিজের হাতে খাবার এনেছি সেটা খাবেন না।(রেগে)
আমি:না।
:তাহলে কিন্তু নতুন করে বাবার কাছে নালিশ করবো তখন বুঝবেন ঠেলা।
আমি:আরে আমি খাবো কিন্তু এগুলো না আমি ভাত খাবো। আমাকে ভাত এনে দিবেন কি?
: হ্যাঁ বলেন ভাত কোন গাছে ধরে?
আমি: হা হা হা।
:আপনি আসছেন কেন?
আমি:ভাত গাছে ধরে না। চাউল দিয়ে ভাত রান্না করতে হয়।
:তাহলে চাউল অবস্যই গাছে ধরে সেটা কি গাছ?
আমি:সেটা ধান গাছ।ধান থেকে চাউল পাওয়া যায়।
:ওকে আমি নিয়ে আসি আপনি থাকেন।

আমি তার কপালের দিকে তাকিয়ে দেখি কপালের বাম পাশে নীল কি যেন।
আমি:আপনার কপালে ওটা কি?
:আপনার ছুড়া ঢিল লেগেছিল তাই রক্ত বের হয়েছে।

আমি আমার হাত দিয়ে তার কপালের রক্ত মুছে দিলাম আর বললাম আমি খেয়েছি আফরোজা খাবার এনে দিয়েছিল।
:ওহ তা আগে বলবেন তো।
আমি:আচ্ছা আপনার বাবা সত্যিই কি আমাকে ফাঁসি দিয়ে মেরে ফেলবে?
: আমার বাবা আপনাকে মেরে ফেলবে কেন?আর আমার বাবা অনেক ভালো।
আমি:আচ্ছা আপনার নাম কি?
বাইরে থেকে আফরোজা বলল কচু?
আমি:এত সুন্দর চেহারার সাথে এমন একটা নাম মোটেও ভালো হয়নি।
:দেখ আফরোজা এমন করবি না কিন্তু। করলে বাবাকে বলে দেবো।
আফরোজা:বাবা কি তোর একা  নাকি?
আমি:আপনারা দুই বোন!
আফরোজা:হ্যাঁ তুমি ঠিকি বুজেছো আমরা দুই বোন।
আমি:আচ্ছা কচু আপনি রাগি নাকি আফরোজা।
:আমার নাম তৃষা কচু না বুজলেন?(রেগে)
আমি:দুই জনের মধ্যে বড় কে?
আমার প্রশ্নের উত্তর দিলো  বড় পালোয়ানের  মতো একটা লোক।তাঁকে দেখে মনে হচ্ছে তার বয়স অনেক হয়েছে হয়তো সে বেশি দিন বাচবে না।সে লোকটা আর কেউ না উনি হলেন আফরোজা আর তৃষার বাবা।

এগার টার সময় আমাকে নিয়ে গেলো রাজদরবারে যেখানে বিচার করে সেইখানে আর কি।

রাজা মশাই বলল বলো তুমি আমার দুই মেয়ের মধ্যে কাকে বিয়ে করবে?
রাজার এমন কথা শুনে আমি অবাক।এটা কি বলে?
আর কাকেই বা বিয়ে করব তৃষা আফরোজার থেকে অনেক সুন্দর কিন্ত খুব রাগি মেজাজের আর আফরোজা সরল সোজা তাই বললাম আমি আফরোজাকে বিয়ে করবো।আর আফরোজা তৃষার চেয়ে বয়সেও বড়।

আমার কথা শুনে আফরোজা জোরে একটা শ্বাস ত্যাগ করলো।
আর তৃষা বলল না আপনি আমাকে বিয়ে করবেন(রেগে)
রাজা:তৃষা মা দেখ সে আফরোজাকে বেছে নিয়েছে এখানে রাগ দেখানোর কি আছে?
তৃষা:বাবা আমি আজিজকে বিয়ে করবো। আর তা কেউ ঠেকাতে পারবে না।

আমি তো মহা খুসি, ভাবতেছি আমার মধ্যে এমন কি আছে যে এরা দুই বোন পাগল হয়ে পরেছে।
আমাদের ওখানে কেউ আমার দিকে তাকাইতো না।
নিজেকে খুব দামি দামি মনে হচ্ছে।

এমন সময় আফরেজা বলল আমি বড় তাই বিয়ে হলে আমার  হবে আজিজের সাথে।(কঠিন কন্ঠে)
কিন্তু আফরোজার কথার কোনো মূল্য দিলো না রাজা।কারণ তৃষাকে তিনি বেশি ভালো বাসে।আফরোজাকে বন্ধি করা হলো আর যোর করে আমার সাথে তৃষাকে বিয়ে দিয়ে দিল।

আজ আমার আর তৃষার বাসর দিন।ভেবে ছিলাম আমার জীবনে বাসর রাত আসবে  অনেক গল্প বলবো কিন্তু সেটা আর হলো না।
এখন বাসর দিন পালন করতে হবে।
অনেকক্ষণ ধরে দুজন এক রুমে বন্ধি আছি এখন পর্যন্ত তৃষা আমাকে কিছু বলা তো দূরের কথা সালাম পর্যন্ত করলো না।
আমার শ্বাস বন্ধ হওয়ার অবস্থায় আর কতোক্ষণ চুপ থাকতে হবে?
নীরবতা ভেঙ্গে বল্লাম সালাম কালাম করবেন কি?
তৃষা:আসসালামু আলাইকুম।
আমি:ওয়া আলাইকুম আসসালাম।
তুষা:আপনাকে একটা পাপ্পি দেই?
বুজলাম না আমার পরী বৌয়ের এটা কেমন আবদার
আমি:দিতে পারেন কিন্তু আমি দেবো না।
আমার সায় পেয়ে পাপ্পি দেওয়ার নাম করে কামড়ে আমার গাল লাল করে দিচ্ছে।
ওমা বাচাও ওমা বাচাও বলে আমি চিৎকার করছি।
তার পরে তৃষা আমার বুকে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ে।

আমি তৃষা কাছ থেকে উঠে আফরোজার কাছে আসলাম,এবং বললাম এখানে আমার ভালো লাগছে না। আমি আমাদের দেশে যাবো আমাকে নিয়ে চল।
আফরোজা আমার কথা শুনে মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে বলল চল তাহলে।
আমি আফরোজার হাত ধরে রাখলাম আর আফরোজা আমাকে নিয়ে উড়তে লাগলো।

আফরোজা:তুমি চলে আসলে কেন?
আমি:তার আগে বলো তুমি আমাকে নিয়ে আসলে কেন?
আফরোজা: পরে বলবো।
আমি: আচ্ছা তোমার বাবা তো আমার কোনো ক্ষতি কবরে না?চলে আসার জন্য।
আফরোজা:আমি আছি তোমার পাশে, আমার বাবার রাজ্যের সকল জীন পরীর শক্তি আমার কাছে তুচ্ছ।
আমি:তোমাকে যখন বন্ধি করলো তখন তোমার শক্তি কোথায় ছিলো?
পরে বলব তোমাকে এখন চলো তোমার দেশে।

আমরা পৌঁছে গেলাম আমাদের গ্রামে।এখন প্রচুর ভলো লাগছে।কি সুন্দর ঝিরঝির করে বাতাস বইছে।প্রান ভরে একটু নিশ্বাস নিচ্ছি
এমন সময় মনে হলো আমার সাথে আফরোজা তো এসেছে কৈ সে।

পাশে দেখি সে আকাশের প্রানে তাকিয়ে জোরে জোরে শ্বাস ত্যাগ করছে।
আমি:কি করছো এমন করে?
:সুন্দর শ্বাস গ্রহন করার জন্য আমাদের দেশের শ্বাস ত্যাগ করছি।
আমি:ওহ।আমি এখন আমার বাড়িতে যাবো তুমি কোথায় থাকবে?
:আমিও তোমার সাথে তোমার বাড়িতে যাবো আর তোমর সাথেই থাকবো।
আমি:বাড়িতে আমার মা বাবা আর সাত বসরের ভাই আছে তোমার সমস্যা হবে না তো?
:না আমার সমস্যা হবে না।কারণ আমাকে তাঁরা দেখতেই পাবে না।
আমি:তাহলো চল।
আমরা বাড়িতে এসে দেখি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com