Logo
নোটিশ ::
আপনার যেকোনো সৃজনশীল লেখা পাঠিয়ে দিন আমাদের ঠিকানায়।আমাদের ইমেইল: hello.atharb@gmail.com

গল্প: জীন রাজ্য ভ্রমণ // মো.আজিজুল ইসলাম

অঙ্কন ডেস্ক / ১৪৩ বার
আপডেট সময় : বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২০

হ্যালো কেমন আছো?(ইভা)
ভালো আছি তুমি?(আজিজ)
আমি ও ভালো আছি আর তোমাকে একটা কথা বলার জন্য কল করেছি(ইভা)
কি বলবা বল?(আজিজ)
ইভা:আমি তোমার সাথে আমাদের সম্পর্ক রাখতে পারব না।
আজিজ:কিহ্!কিন্তু কেন?
ইভা:আমি কোন গরিব ক্ষেত ছেলের সাথে প্রেম করতে চাইনি।
আজিজ:কিন্তু আমাদের সাত দিন তের ঘন্টার প্রেমের কি হবে(মন খারাপ করে)
ইভা:সাত দিনে প্রেম হয় নাকি।
আজিজ:প্রেম করার জন্য  সাতটা দিন যথেষ্ট নয় কি?
ইভা: ধুর আমি তো তোমাকে ভালবাসি না।তোমার সাথে একটু মজা করলাম কিন্তু এখন মনে হলো সত্যটা বলাই ভালো।
আজিজ:কিন্তু আমি তো তোমাকে ভালবাসি।
ইভা:তোমার সাথে কথা বলতে ইচ্ছা করছে না আর হ্যাঁ আগের মতো ভুল আর করবানা,কারণ তখন আমার মতো কেউ না থাকতে পারে।
আজিজ:তুই কল কাট। স্বপ্ন দেখিয়ে ঘুম ঘেঙ্গে দিয়ে আবার উপদেশ দিচ্ছে(রেগে)
টু টু টু কল কেটে গেলো।
সব মেয়েই এক কাউকে বিশ্বাস করতে নেই।
আমি এই নিয়ে দুই বার  ছেঁকা খেলাম।
প্রথম ছেঁকা খেয়ে ব্রিজের উপরে দাঁড়িয়ে আতত হত্তা করার জন্য লাফ দিতে যাব ঠিক তখন ইভা এসে হাত ধরে বলল কি করছ এটা জানো না আতত হত্তা মহা পাপ।
আমি:জানি তার পরেও করব আমাকে ছেড়ে দিন।
ইভা:কি হয়েছে!আমাকে একটু বল।
আমি: তখনি বলব যখন কেউ আমাকে ভালবাসবে।
ইভা কিছুক্ষন চুপ থেকে বলল আমি তোমার সাথে প্রেম করব তার পরেও বল।
আমি:দুই বছর ধরে একটা মেয়েকে অনেক ভালবাসতাম আর ও নতুন কোন এক ছেলেকে পেয়ে আমার থেকো দূরে চলে গেছে।
ইভা:মুচকি হাসি দিয়ে বলল তাহলে আজ থেকে আমাকে ভালবাসবে।
আমি:সত্যিই।
ইভা:হ্যাঁ সত্য।
তার পর থেকে আমরা পুড়া সাত দিন তের ঘন্টা প্রেম করি
তার পরে আবারো ছেঁকা খাই।
কি করব বুজতে পারছি না ফাঁসি নেব নাকি বিশ খাইব  নাকি আবার ব্রিজে যাব?
রাতে আমি বাইরে বের হইলাম হাতে দড়ি নিয়ে -কারন এবার আমি ফাঁসি নিয়ে মৃত্যু খাব।
বাইরে বের হয়ে দেখি আধাঁর রাত,চারপাশে ঝিঝিপোকা ডাকছে।
আমি ঘরো চলে এসে একটা টর্চ নিয়ে বের হই
কারণ আঁধারে যদি সাপ কামরে দেয় তাহলে ভালো ভাবে মেরতেই পারব না।
সামনে টর্চের আলো ফেলতেই দেখি একটা সাপ, বিশ্বাস করেন ভাবতেই পারিনি আমার ভাবনা টা সত্য হবে।
টর্ট আর দড়ি ফেলে দিয়ে দিলাম এক দৌড়।
এত যোরে দৌড় দিয়েছি যে আমার লুঙ্গি গলায় উঠে গেছে।দৌড়ে চলে এসেছি গহিন জঙ্গলে  এখন মনে হচ্ছে আরামে মরতে পারব।
সামনে তাকিয়ে দেখি জোনাকী পোকাদের দল।
খুব সুন্দর আলো দিচ্ছে তা দেখে মন ভরে গেল,তাদের সাথে কথা বলার  জন্য এগিয়ে গেলাম কিন্তু তারা সরে গেল।
আমি দৌড়ে একটা জোনাকি কে ধরে ফেললাম-একি জোনাকি টা আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে? আরে বাবা থাম না, তোমাদের সাথে কথা  আছে।
কিন্তু থামার কোন নাম গন্ধ ও নাই।এত ক্ষনে বুজলাম আমি জোনাকি কে ধরিনি বরং ও আমাকে ধরেছে।
এখন ও যেথায় থামবে আমাকে সেখানেই থামতে হবে।এমন সময় জোনাকি টা মানুষের ভাষায় বলল এখন চোখ বন্ধ কর।
আমি: চোখ বন্ধ করব কেন?(ভয়ে)
একটা জোনাকি মানুষের ভাষায় কথা বলছে এর থেকে বড় ভয় আর কিছু আছে কি?
জোনাকি বলল কারণ এখন আমরা আকাশে উড়ব।
আমি কান্না সুরে বললাম আমি মরতে এসেছি উড়ার জন্য আসি নাই প্লিজ আমাকে ছেরে দাও।
জোনাকি: তোমাকে ছাড়তে পারব না -কারণ তোমাকে ছেরে দিলে আমি আমাদের দেশে ফিরতে পারব না।
আমি একটু কৌতুহল  নিয়ে বললাম তোমাদের দেশে আমি কেমন করে থাকব তোমরাতো ছোট্ট ছোট্ট জোনাকী পোকা।
জোনাকী পোকা বলল আমি জোনাকী পোকা না আমি আফরোজা।
:আমাকে কি মাতাল মনে হচ্ছে নাকি?
জোনাকি:আরে  সত্যিই বলছি আমি আফরোজা।
আমি:কোন মানুষ জোনাকী পোকা হতে পারে নাকি?
জোনাকি:আমি মানুষ না আমি এক জন পরী।
আমি:কিহ্!তুমি পরী।
জোনাকি:হ্যাঁ আমি পরী আর এই দেখো আমাকে।
আমি আফরোজা মানে পরীকে দেখে কিছুক্ষন হ্যা করে তাকিয়ে ছিলাম।
আফরোজা:কি হলো চোখের পলক ফেলতে ইচ্ছে করছে না, না কি?
আমি:এখন আমাকে যদি মেরেও ফেলেন তা হলেও তোমাকে ছাড়ব না।
আফরোজা:কেন!কেন!
আমি:তোমার যে চেহারা তা দেখে দুই চার দিন না খেয়ে ও থাকতে পারব।
এমন সময় আফরোজা আমাকে নিয়ে উড়াল দিল।
আমি উড়ে চলছি আকাশ প্রানে আহা কি আনন্দের ছোঁয়া লাগছে মনে।
এখন আমি খুব খুসি।ভাবছি ফাঁসি নিলে এই সময় টা আর উপভোগ করতে পারতাম না।
এমন সময় আফরোজা বলল তোমাকে আমাদের ওখানে নিয়ে মেরে ফেলা হবে।
আমি মনে মনে ভাবছি কোনো যতিষি কি বলেছিল যে আমি পরীর হাতে মারা যাব! নাহ্ তেমন কেউ তো বলেনি আমি পরীর হাতে মারা যাব।
তাহলে আফরোজা কি মিথ্যা বলছে?
আর আমি যে চালাক কোথা দিয়ে পালাইয়া যাবো পরী কেন পরীর চৌদ্দ বংশ ও টের পাবে না।
এমন সময় আফরোজা থেমে গেলো।
আমি:থামলে কেন ভালোই তো লাগছিলো?
আফরোজা:আমরা গন্তব্যস্থানে পৌঁছে গেছি তো।
আমি চার পাশে তাকিয়ে দেখে বিস্মিত হয়ে দারিয়ে আছি।এত সুন্দর পরীদের রাজ্য!
মনে হচ্ছে এখানে অনন্তকাল বেচে থাকি।
আমি:তুমি তো তোমার রাজ্যে চলে এসেছো  এবার আমি কেমন করে আমার দেশে যাব?।(ভয়ে যদি সত্যিই মেরে ফেলে)
আফরোজা:এত তারাতারির কি আছে সবে মাত্রই তো আসলাম।একটু পরে তোমাকে মেরে ফেলবো।
আমি:সত্যিই কি আমাকে মেরে ফেলবা?
আফরোজা হাসি দিয়ে বলল আমার পিঁছু পিঁছু আসো।রহস্য ঘেরা হাসি।
আমি আফরোজান পিঁছু পিঁছু যেতে লাগলাম।
সামনে যেয়ে দেখি আরো সুন্দর একটা মেয়ে।দেখে মাথা ঘুরে গেলো।
আমি আফরোজার পিঁছু ছেরে দিয়ে ওই মেয়ের কাছে যেয়ে বললাম কেমন আছেন?
অমনি মেয়েটি চিৎকার দিয়ে বলে বাচাও বাচাও।
আমি কিছু না বোঝার আগেই  চারটা জীন এসে আমাকে বদ্ধ করে।
আফরোজা ছুটে এসে বলল কি করেছিলা?ও রাজার মেয়ে।
আমি:কিছুই না সুধু বলেছি কেমন আছেন।
আফরোজা অনেক চেষ্টা করে কিন্তু তাদের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিতে পারে না।রাজদরবারে নাকি বিচার হবে তার পরে নাকি ফাঁসি দিবে।

 

*কি পাঠক গন আজিজ কি জীন রাজ্য থেকে চলে আসতে পারবে নাকি  সত্যিই ফাঁসি দিয়ে দিবে?*


এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com