Logo
নোটিশ ::
আপনার যেকোনো সৃজনশীল লেখা পাঠিয়ে দিন আমাদের ঠিকানায়।আমাদের ইমেইল: hello.atharb@gmail.com

নারী হয়ে জন্ম নেয় না কেউ

অঙ্কন ডেস্ক / ২১৪ বার
আপডেট সময় : শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২০

বইয়ের নামঃ নারী
লেখকঃ হুমায়ুন আজাদ
বিষয়ঃ নারীবাদ
ধরণঃ প্রবন্ধ গ্রন্থ
প্রকাশকঃ আগামী প্রকাশনী



একাধারে কবি,ঔপন্যাসিক, গল্পকার এবং সমালোচক হিসেবে খ্যাত হুমায়ুন আজাদের ‘নারী’ স্বাধীন বাংলাদেশে নারীবাদ বিষয়ক প্রথম গ্রন্থ। সীমিত আকারে বইটি সম্পর্কে আলোচনা করাটা রীতিমত ধৃষ্টতা।


নারী পুরুষ সমান,তাদের অধিকার অভিন্ন ; এ হচ্ছে নারীবাদ। একে মনে হয় সরল,দিবালোকের মতো স্বচ্ছ বলে, কিন্তু পুরুষতন্ত্রের দীর্ঘ ইতিহাসে মানা হয়নি এ সরল সত্যটুকু।


“আমার প্রণেতা ও ব্যবস্থাপক, তুমি যা আদেশ করো
প্রশ্নহীন আমি মান্য করি এই বিধাতার বিধি
বিধাতা তোমার বিধি,তুমিই আমার এর বেশিকিছু
না জানাই নারীর সবচেয়ে সুখকর জ্ঞান ও গুণ।


নারী হয়ে জন্ম নেয় না কেউ, ক্রমশ নারী হয়ে ওঠে। প্রকৃতি তাকে পুরুষের অধীনে থাকার জন্য সৃষ্টি করেনি। পুরুষতান্ত্রিক সমাজই তৈরি করেছে তাকে নারী রূপে। পুরুষের দৃষ্টিতে নারী এক বিকৃত মানুষ, অসম্পূর্ণ সৃষ্টি, একরাশ বিকারের সমষ্টি, এক আপেক্ষিক প্রাণী।


প্রতিটি ধর্মের পবিত্র গ্রন্থে বারবার পাওয়া যায় এমন নির্দেশ, যা পুরুষকে দেবতা আর মানুষকে করে তুলে আত্মমর্যাদাহীন জন্তু। তাই নারী হয়ে ওঠে গৃহিণী, কুলবতী,কুলবালা,কুলস্ত্রী, কুল নারী,পুরনারী, সে সভ্যতার কেউ নয়, সে গৃহের অন্ধকারের।


বইটিতে লেখক উল্লেখ করেছেন, পুরুষই সৃষ্টি করেছে নারীর ধারণা, নারীর সংজ্ঞা, নারীর অবস্থান। পুরুষই তাকে কামসঙ্গী ও পরিচারিকা করে তুলেছে। তিনি বর্ণনা করেছেন নারীর লিঙ্গ ও শরীর, কিশোরীর বেড়ে ওঠা, নারীর স্বপ্ন-প্রেম-কাম-সংসার।



বইটির পাতায় পাতায় লেখক স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন নারী পুরুষের অসামান্য পুরুষতন্ত্রের তৈরি ব্যাপার। পিতৃতান্ত্রিক পরিবার প্রতিষ্ঠায় হয়েছে নারীর ঐতিহাসিক পরাজয়।


বইটিতে লেখক সুনিপুণ ভাবে বিশ্লেষণ করেছেন নারীমুক্তির তাত্ত্বিক ও বাস্তব কর্মরাশি।


  • আলোচকঃ হাফছা আল আনসারিয়া,শিক্ষার্থী, শাবিপ্রবি।


এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com