Logo
নোটিশ ::
আপনার যেকোনো সৃজনশীল লেখা পাঠিয়ে দিন আমাদের ঠিকানায়।আমাদের ইমেইল: hello.atharb@gmail.com

গল্পঃ আক্ষেপ || খাদিজা নার্গিস

অঙ্কন ডেস্ক / ১৫৫ বার
আপডেট সময় : শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২০

সারাদিনের মধ্যে আমার প্রিয় মুহূর্ত হচ্ছে ভোরবেলা ।ভোরের বাতাস আমার ভীষণ ভালো লাগে ।নীরব পৃথিবী একটি দুটি পাখির গাছের ডালে ডালে কিচিরমিচির শব্দ আমার ভালো লাগে ।খোলা আকাশ পানে তাকিয়ে থাকতে আমার খুব ভালো লাগে ।আরে ভালো লাগাটা নিঃশেষ হয়ে যায় যখন ঘুমন্ত পৃথিবীটা জেগে ওঠে ।আমার প্রিয় মুহূর্ত উতাল পাতাল করছে মনের ভেতর কিছু কথা ।
আসলে আমার আশেপাশে আপন পর যারাই আছে ,আমার চেনা মানুষগুলোকে ,আমি ওদের মতো করে বুঝি এবং ভালোবাসি ।কিন্তু ওরা কেউ আমাকে আমার মতো করে বুঝেও না এবং ভালোবাসে না ।আমি আর সব বুঝি ,অনেক কষ্ট পাওয়ার কথা কিন্তু আমি কষ্ট পাই না ।
আমি ভাবি কোথাও দুই দিনের জন্য বেড়াতে গেলে কিছুর ঘাটতি হলে যেমন মনে করি থাক কালকে তো চলেই যাব ,দুনিয়াটা আমার কাছে ঠিক একই রকম ,কোনরকমে কেটে যাক ।কিন্তু মরেই যাবো ,আজীবন তো বেঁচে থাকব না ।ক্ষণিকের অতিথি হয়ে এত চাওয়া পাওয়ার হিসেব নাই বা করলাম । বাবার হঠাৎ করে অকাল মৃত্যুর পর থেকে আমার কাঁদে পড়লো সংসারের গ্লানি ।তবু বাঁচা গেল আমার সাথে এটা হওয়াতে ,তা না হলে কি যে হত ।
মনে পড়ে সেই ছোট বেলার মধুমাখা দিনগুলির কথা । তিন ভাই বোন মিলে কি আনন্দমুখর দিনগুলি ।এসব এখন শুধুই স্মৃতি ।এমন সময় পিছনে এসে জড়িয়ে ধরলো শানু ।বলল রাবু আপু তুমি এখানে ,আমি আর মা সারা বাড়ি তোমাকে খুঁজে বেড়াচ্ছি । রাবু আঁতকে উঠল ,ও তাই বুঝি ।তাহলে শুরু হয়ে গেল রাবুর ব্যস্ততার দৌড় ।
কয়দিন ধরে শানুর একটা বিয়ের প্রস্তাব আসছে কিন্তু আলাপ করা যাচ্ছে না বিভিন্ন কারণে ,তাই মা একটু ইতস্তত ,কিন্তু শানুর বিয়েটা ভেঙে গেলে মাখের বাঁচানো যাবেনা ।কারণ মা আর ব্রণ ক্যান্সার ।চরম পর্যায়ে ,কোন সময় মা বিদায় নিতে পারে ।ছোট ভাইটা ক্লাস সিক্সে পড়ে ।শানু কেবল ইন্টার পাশ করে বের হল ।মায়ের চিকিৎসার ব্যয় ভার ,প্রতি মাসে মাসে কেমোথেরাপি ,ভাই-বোনের পড়াশোনার খরচ ,তাদের খাওয়া পড়ার খরচ ,কুলিয়ে উঠতে পারে না রাবু ।
তারপরও রাবু ভাবে কোনরকমে শানুর বিয়েটা হয়ে গেলে বেঁচে যায় ।তারপর ছোট ভাই রাহুল আর মাকে নিয়ে তাঁর যাত্রা শুরু ।আগামী পরশু দিন বরপক্ষ শানুকে দেখতে আসবে ,শুনেছি পাত্র খুবই ভালো ।দেখা যাক কি হয় ,হা
যথারীতি পাত্রপক্ষ তাদের বাড়িতে এলো ।শানুকে পছন্দ ও করলো ।কিন্তু বিয়েটা হল না ।তাদের এ দুরবস্থা দেখে মা বলে উঠলেন ।এদের যে অবস্থা বিয়ের পর তো আমার ছেলেকে এই গ্লানি টানতে হবে ।তোমার মার তো যায় যায় অবস্থা ।না বাপু এ বিয়ে হবে না ।দেশোতো মেয়েরআকাল পড়েনি ।রাবু জোড়হাত করে বলছিল ,আন্টি আমিতো মরে যাইনি ,আপনার ছেলেকে কেন টানতে হবে ,তাছাড়া আমার চাকরিও আছে ।সাথে সাথে বরের মা বলল ,নিজে তো আইবুড়ি হয়ে বসে আছো , তুমি কোন দিক সামলাবে বাপু ।

উনারা চলে যাওয়ার পর শানু কেবল শুয়ে শুয়ে কাঁদতে লাগল ।মার শরীরটা অতিরিক্ত খারাপ হয়ে গেল ,পরদিন যাবো অফিসে চলে গেল ,রাহুল ও তাই স্কুলে গেলো ।বিকেল পাঁচটার দিকে রাবু যখন বাড়ি ফিরছিল ,বাড়ির কাছাকাছি আসতেই বাড়িতে কান্নার শব্দ শুনতে পেল, সে বুঝতে পারল আর মা বোধহয় আর বেঁচে নেই ।
অবশেষে এমন টাই হলো


এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com